Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সারাদেশ

পেনশন ফাইল আটকে ঘুষ-বদলি, শেষে টাকা দিয়ে দুদককে জানালেন শিক্ষক

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

পেনশন ফাইল আটকে ঘুষ-বদলি, শেষে টাকা দিয়ে দুদককে জানালেন শিক্ষক

বিজ্ঞাপন

মৃত স্ত্রীর পেনশনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করেছিলেন স্কুলশিক্ষক স্বামী। আবেদন করে মাসের পর মাস শিক্ষা অফিসে ধরনা দিলেও ফাইল ছাড়েননি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। উল্টো ঘুষের দাবিতে দফায় দফায় করা হয় হয়রানি। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রাথমিক কর্মকর্তার অফিসে অভিযান চালায় দুদক। অভিযানে ঘুষের এক লাখ ২০ হাজার টাকাসহ হাতেনাতে আটক করা হয় সেই কর্মকর্তাকে। 

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ঘটনাটি ঘটে। আটককৃত জেলা শিক্ষা অফিসারের নাম আশরাফুল আলম। দুদক বলছে, টাকাসহ সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ ও সব আইনানুগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে মামলা দিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকালে জড়িত অন্যান্য আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, যশোরের ঝিকরগাছার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন শিরিনা আক্তার। রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০২৫ সালের ২৩ আগস্ট মারা যান। মারা যাওয়ার পর শিক্ষিকার অবসরকালীন আজীবন পেনশন পান স্বামী। সেই পেনশনের জন্য গত বছরের ৩০ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করেন স্বামী স্কুলশিক্ষক মোহাম্মদ নুরুননবী। আবেদনের পর থেকে নুরুননবীকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম দফায় দফায় হয়রানি করতে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে কর্মকর্তার অফিসে ধরনা দিয়েও স্ত্রীর পেনশনের ফাইল স্বাক্ষর করাতে পারেননি। শেষমেশ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুননবীর কাছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ চান। কোনও উপায় না পেয়ে তিনি জেলা দুদক সমন্বিত কার্যালয়ে অভিযোগ দেন। 

অভিযোগের পরই বুধবার বিকালে ঘুষের টাকাসহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান নুরুননবী। শিক্ষা কর্মকর্তা এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। সন্ধ্যায় ওই কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদক। অভিযানে হাতেনাতে টাকাসহ শিক্ষা কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় যশোর দুদকের সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিনসহ ভুক্তভোগী শিক্ষক নুরুননবী উপস্থিত ছিলেন।  

ভুক্তভোগী শিক্ষক নুরুননবী বলেন, ‘মৃত স্ত্রীর পেনশনের ফাইল স্বাক্ষর করার জন্য অসংখ্যবার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসেছি। কিন্তু তিনি স্বাক্ষর করেননি। আমাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করেছেন। একপর্যায়ে এক লাখ ২০ হাজার ঘুষ চান। ঘুষ না দেওয়ায় তিনি আমাকে শাস্তি হিসেবে ঝিকরগাছার একটি স্কুল থেকে সদর উপজেলার বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন। যেহেতু তিনি আমার জেলার কর্মকর্তা; সেই কারণে আমাকে নানাভাবে দাফতরিক হেনস্তা করতেন। মানসিক হেনস্তা থেকে রেহাই পেতে তার দফতরে পা জড়িয়ে ধরলে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। উপায় না পেয়ে তার দাবিকৃত ঘুষের টাকাসহ আজ দফতরে আসি। পরে দুদক তাকে টাকাসহ আটক করে।’

দুদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দুদক প্রধান কার্যালয়কে জানানো হয়। এরপর প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে বুধবার দুদকের একটি টিম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার পর দুদক ওই টাকাসহ হাতেনাতে আটক করে। এ ঘটনায় দুদক যশোর কার্যালয়ে মামলা করা হয়েছে এবং আটক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার