বিজ্ঞাপন
চুরির শাস্তি পুকুরে ২০ বার ডুব, নতুন শার্ট-প্যান্ট নিয়ে ফিরলো চোর
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
বরিশাল নগরীর সদর রোড ব্যস্ত শহরের প্রাণকেন্দ্র। এখানেই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আতঙ্ক হয়ে উঠেছিল মোটরসাইকেলের হেলমেট চুরি। মুহূর্তের মধ্যেই উধাও হয়ে যাচ্ছিল দামি হেলমেট। ক্ষুব্ধ হচ্ছিলেন চালকরা, উদ্বিগ্ন হচ্ছিলেন পথচারীরাও।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে অবশেষে সেই চোরকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘটে সদর রোডের বিবির পুকুর পাড় এলাকায়। তবে এইবার দৃশ্যটা ছিল ভিন্ন। চোরকে মারধর করা হয়নি। বেছে নেওয়া হয় এক ব্যতিক্রমী শাস্তি শীতের রাতে পুকুরে নেমে কান ধরে টানা ২০ বার ডুব।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি পার্ক করা মোটরসাইকেল থেকে হেলমেট খুলে নেওয়ার সময় ইউসুফ নামের ওই যুবককে ধরে ফেলা হয়। সে নিজেকে উজিরপুর উপজেলার মশাং গ্রামের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। বর্তমানে নগরীর সাগরদি এলাকায় থাকেন বলেও জানায়।
ভিড়ের সামনে নিজের ভুল স্বীকার করে ইউসুফ অনুরোধ করে, তাকে যেন মারধর না করা হয়। শাস্তি হিসেবে সে নিজেই পুকুরে নেমে ডুব দিতে রাজি হয়। এরপর শীতের রাতে বিবির পুকুরে নেমে একের পর এক ২০টি ডুব দেয় সে কান ধরে, মাথা নিচু করে। চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ নীরবে দেখেন সেই দৃশ্য। ভেজা শরীরে কাঁপতে থাকা যুবক যেন প্রতিটি ডুবের সঙ্গে নিজের অপরাধের বোঝা নামিয়ে রাখছিল।
স্থানীয় কয়েকজন তাকে কাছের ফুটপাতের দোকান থেকে নতুন প্যান্ট ও টি-শার্ট কিনে দেন। ভেজা কাপড় বদলে নতুন পোশাকে যখন সে এলাকা ছাড়ে, তখন অনেকেই বলেন, শুধু শাস্তি নয়, ক্ষমার হাত বাড়ালেই বদলায় মানুষ।
এই ঘটনা নগরজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ বলছেন, এটি অপরাধ দমনের মানবিক উদাহরণ। আবার অনেকের মতে, এমন অভিজ্ঞতা হয়তো একজন তরুণকে নতুন পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।
বিজ্ঞাপন