বিজ্ঞাপন
নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থী রাইয়ান ও তার ভাগ্নি, মায়ের নিথর দেহ উদ্ধার
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:০০ এএম
বিজ্ঞাপন
একটি ফেরি, কিছু স্বপ্ন, কর্মস্থল আর বাড়ি ফেরার তাড়া—সবকিছু মিলিয়ে কয়েক মিনিটের এক বিভীষিকা। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে সৌহার্দ্য নামের যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আহনাফ রাইয়ান এবং তার ছোট ভাগ্নি।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বেঁচে ফিরেছেন বড় বোন ডা. নুসরাত জাহান খান সাবা, তবে পদ্মায় সলিল সমাধি হয়েছেন তাদের মা রেহেনা আক্তার (৫৯)। ঈদের ছুটি শেষে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন রাইয়ান। মা, বড় বোন ও বোনের সাত বছরের মেয়েকে নিয়ে যাত্রা ছিল তার—যাত্রা, যা শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো এক শোকগাথায়।
রাইয়ানের মামা আওয়াল আনোয়ার জানান, বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। জীবন বাঁচাতে হুড়োহুড়ির মধ্যে কোনোভাবে বাস থেকে বের হতে পারেন ডা. সাবা। কিন্তু রাইয়ান, তার মা এবং ছোট্ট ভাগ্নি আর বের হতে পারেননি। পরে নদী থেকে উদ্ধার করা হয় মায়ের নিথর দেহ। এখনও খোঁজ মেলেনি রাইয়ান ও তার ভাগ্নির।
রাজবাড়ীর ভবানীপুর গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে আহনাফ রাইয়ান শুধু একজন শিক্ষার্থীই ছিলেন না, ছিলেন স্বপ্নবাজ এক তরুণ। রাজবাড়ী ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তিনি যুক্ত ছিলেন যুক্তির লড়াইয়ে। জাবি ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি হিসেবেও তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। স্কুলজীবন থেকেই বিতর্কের মঞ্চে তার পদচারণা—সেই পথ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়েও হয়ে উঠেছিলেন উজ্জ্বল কণ্ঠস্বর।
রাজবাড়ী ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক উদ্দিন স্মৃতিচারণ করে বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই রাইয়ান বিতর্ক করত। সে ছিল অত্যন্ত মেধাবী, স্বপ্নবান। বিশ্ববিদ্যালয়েও সে আলো ছড়িয়েছে। তাকে নিয়ে আমাদের অনেক আশা ছিল।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক অঙ্গনেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহপাঠী, বন্ধু ও শিক্ষকরা বিশ্বাসই করতে পারছেন না—যে তরুণ ভবিষ্যৎ নিয়ে এত স্বপ্ন দেখত, সে আজ পদ্মার বুকে নিখোঁজ। একটি পরিবারের হাসি মুহূর্তেই থেমে গেছে। মায়ের মৃত্যু, ভাই ও মেয়ের নিখোঁজ হওয়া—সব মিলিয়ে অসহনীয় শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন ডা. সাবা। আর পদ্মার ঢেউ যেন এখনো বয়ে নিয়ে যাচ্ছে অগণিত অপূর্ণ স্বপ্ন, অজস্র না বলা গল্প।
দৌলতদিয়ার সেই ঘাটে মানুষের ভিড়, উৎকণ্ঠা আর অপেক্ষা—যদি কোনোভাবে ফিরে আসে হারিয়ে যাওয়া দুই প্রাণ। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, ততই ভারী হয়ে উঠছে শোকের বাতাস। পদ্মার বুকে মিলিয়ে যাচ্ছে এক তরুণের স্বপ্ন। উল্লেখ, বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে এসে ফেরিতে যোগে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের আসার জন্য বাসে উঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মানদী গর্ভে তলিয়ে যায়।