বিজ্ঞাপন
পদ্মায় বাসডুবি
রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন বেঁচে যাওয়া খাইরুল
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
দৌলতদিয়ায় নদীতে যাত্রীবাহী ডুবির ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া খাইরুল ইসলাম খাঁ জানান, জীবন বাঁচাতে মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় পেয়েছিলেন তিনি।
বাসটি ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে কীভাবে তিনি নদীতে ছিটকে পড়লেন, তা তার জানা নেই। নদী সাঁতরে ডাঙায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এক উদ্ধারকারী তার হাতের মোবাইলটি ছিনিয়ে নেন। সেটি আর ফেরত পাননি। তবে মোবাইল গেলেও বেঁচে ফিরতে পেরে শুকরিয়া আদায় করছেন খাইরুল।
খাইরুল আরও জানান, দুর্ঘটনার পর তার পাশের আসনের যুবকের সঙ্গে আর দেখা হয়নি। তিনি জানান, বাসের প্রায় প্রতিটি সিটেই যাত্রী ছিলেন। প্রত্যেক নারী যাত্রীর সঙ্গে শিশু ছিল। ছিটে বসে থাকা কমপক্ষে ৪০ জন নারী ও শিশু ডুবে যাওয়া বাসের মধ্যে আটকা পড়েছিল। তিনি জানান, বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন।
খাইরুল একটি টেক্সটাইল মিলের ম্যাশিনম্যান হিসেবে চাকরি করেন। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। ছুটি শেষে তিনি কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন।
খাইরুল ইসলাম জানান, বাসটিতে তিনি বি-২ নম্বর সিটের যাত্রী ছিলেন। তার পাশের সিটের যাত্রী সাদা টি-শার্ট পরা যুবক খোকসা স্ট্যান্ড থেকে উঠেছিলেন। তাদের বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর পাশের সিটের যুবক নেমে যান। কয়েক মিনিট পর আবার সিটে ফিরে আসেন। খাইরুল তাকে বসতে দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান। এ সময় তাদের বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগে। তিনি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে গিয়ে নদীর পানিতে পড়েন।
খাইরুল ইসলাম খাঁ খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে। এ ঘটনায় বাসচালক আরমান খানের লাশ উদ্ধার হলেও ঘটনার সময় চালকের সহকারী ও সুপারভাইজার বাইরে থাকায় বেঁচে গেছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা আড়াইটায় কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের (রাজবাড়ী ব ১১-০০২৪ নম্বর) যাত্রীবাহী বাসটি খোকসা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর খাইরুল ইসলামসহ দুজন যাত্রী বাসটিতে ওঠেন বলে কাউন্টার মাস্টার জানান। বেলা ২টা ৪২ মিনিটে বাসটি আবার খোকসা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
বিজ্ঞাপন