বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
সারাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও রাঙামাটির ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখনো পুরোনো দামেই তেল বিক্রি হচ্ছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে নতুন দামে বিক্রি করতে চাইলে জেলা প্রশাসন ফিলিং স্টেশন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পূর্বের দামে বিক্রির সিদ্ধান্ত দেয়।
প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সপ্তাহে তিনদিন ডিজেল ও তিনদিন অকটেন বিক্রি করে পাম্পগুলো। সেই হিসেবে রোববার ডিজেল বিক্রি করছে পাম্পগুলো।
ভোক্তারা জানান, এমনিতেই জ্বালানি সংকটে তাদের নাভিশ্বাস উঠছে, তার ওপর এই মূল্যবৃদ্ধি কৃষি কাজকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করবে।
ডিজেল নিতে আসা শোভা রানী চাকমা বলেন, একদিন পর পর ডিজেলের জন্য পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। শুধুমাত্র জমিতে পানি দেয়ার জন্য। আগে সুবলং বাজারের দোকানে তেল পাওয়ার গেলেও অনেকদিন ধরে সেখানে তেল না পাওয়াতে রাঙামাটি সদরে এসে তেল নিতে অনেক খরচ করতে হয়।
রাঙামাটি সদরের নৌ পথে বন্দুকভাঙ্গা থেকে আসা আরেক কৃষক মঙ্গল কুমার চাকমা বলেন, এখন তেলের দাম বাড়াতে কৃষি কাজেও খরচ বাড়বে। তবুও যদি এলাকায় সব সময় তেল পাওয়া যায় তাতে কিছুটা খরচ ও কষ্ট কমবে।
বোট চালকদের মতে, রাঙামাটির যাতায়াত ব্যবস্থা অনেকাংশেই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
মেসার্স এস এন পেট্রোলিয়াম এজেন্সির ব্যবস্থাপক মো. ইদ্রিস বলেন, নীতিগতভাবেই তারা মজুদ থাকা তেল আগের দামে বিক্রি করছেন। তবে বাজারে কৃত্রিম সংকট এড়াতে ‘ফুয়েল কার্ড’ ছাড়া কাউকে জ্বালানি দেয়া হচ্ছে না। মজুদ শেষ হওয়ার পর নতুন দরে তেল বিক্রি শুরু হবে।
রাঙামাটি অভ্যন্তরীণ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, রাঙামাটি জেলা শহরের সঙ্গে ছয়টি উপজেলায় নৌপথে প্রায় ১৮-২০টি লঞ্চ চলাচল করে। তেলে দাম বাড়লেও এখনো ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। সরকার নতুন ভাড়া নির্ধারণ করলেই তখনই যাত্রীদের কাছ থেকে নতুন ভাড়া নেয়া হবে।
দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার শান্তুনু খীসা বলেন, কেউ যাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখতে না পারে এবং তেলের অবৈধ মজুদ না হয়, সে বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছি।