Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

সারাদেশ

স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যা

৫ খুনের আগে যা যা করেছিলেন ফোরকান

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

৫ খুনের আগে যা যা করেছিলেন ফোরকান

বিজ্ঞাপন

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ ও নির্মম কিছু তথ্য উঠে এসেছে।

ময়নাতদন্তের পর লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাজহারুল হক।

তিনি জানান, গাজীপুরের কাপাসিয়ার ফাইভ মার্ডারের ভিসারার জন্য পেটের বিভিন্ন অংশ কালেকশন করে ঢাকা সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসার পর আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারব আদৌ কোনো চেতনানাশক অথবা অন্য কোনো ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল কিনা। তবে সরাসরি ওপেন করে তারা গন্ধ জাতীয় কিছু পায়নি বলে জানান।

ডা. মাজহারুল হক বলেন, ৫টি লাশের ৪টিকেই ধারাল অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং দুই বছরের শিশু ফারিয়াকে শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তার মধ্যে রসুল মোল্লাকে চেতনানাশক বা অন্য কোনো ওষুধ খাইয়ে অথবা এমনো হতে পারে গভীর ঘুমে থাকাবস্থায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে একটানে শেষ করে ফেলা হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে সে কোনো প্রটেক্ট করতে পারেনি। তার গলার সামনে উপরে নিচে বড় দুটি কাটা রয়েছে।

উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে গত শনিবার সকালে শারমিন আক্তার, মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) ও শ্যালক রসুল মিয়ার (২২) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে শারমিনেরর স্বামী ফোরকান পলাতক। পুলিশের ধারণা, তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

স্ত্রী, তিন সন্তানসহ পাঁচজনকে হত্যার রাতে অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া (৪০) যেসব কাজ করেছিলেন তা তার প্রতিবেশীদের ভাষ্যে উঠে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন তার বাসায় অতিথি এসেছিল। এজন্য তিনি দোকান থেকে পোলাওয়ের চাল ও কিশমিশ কিনে আনেন। পাশের বাড়ির এক বাসিন্দা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শুক্রবার রাতে ফোরকানকে দীর্ঘ সময় বাড়ির সামনের সড়কে হাঁটতে এবং মোবাইলে কথা বলতে দেখেছি বলে লোকজনের মুখে শুনেছি। তখন তার কোলে ছিল ছোট মেয়ে ফারিয়া, আর পাশে হাত ধরে হাঁটছিল মেজ মেয়ে মারিয়া।’

অন্য এক প্রতিবেশীর ভাষ্য, রাত প্রায় ৮টার দিকে ফোরকান বাড়িতে ফেরেন। তখন তার ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি আরও একটি প্রাইভেটকার সেখানে আসে। গাড়ি থেকে কয়েকজন ব্যক্তিকে নামতেও দেখা যায়।

এক মুদি দোকানদার জানান, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ফোরকান ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে তার দোকানে আসেন। এসে প্রথমেই জানতে চান, ‘ভাবি, কিশমিশ আছে?’ পরে মেয়ের জন্য দুটি চিপসও কেনেন। তার হাতে তখন কাপড়ের একটি ব্যাগ ছিল। দোকানদার বলেন, ‘তিনি প্রায়ই ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে আসতেন। নিজের সন্তানকে তিনি গলা কেটে হত্যা করতে পারেন—এটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়।’

বাড়ির পাশের আরেক দোকানি বলেন, ‘ঘটনাটি বিশ্বাস করাই কঠিন। একজন বাবা কীভাবে নিজের সন্তানদের হত্যা করতে পারে?’ তিনি আরও জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফোরকানকে সড়কে হাঁটতে দেখেছেন। সে সময় তার কোলে ছোট মেয়ে ছিল এবং সঙ্গে হাঁটছিল মেজ মেয়ে মারিয়া।

স্থানীয় এক নারী বলেন, শারমিন আক্তার দোষ বা ভুল করে থাকলে তাকে ছেড়ে (ডিভোর্স) দিত কিন্তু তার মেয়ে এবং শ্যালকের কী দোষ ছিল? বাবা হয়ে মেয়েদের এভাবে হত্যা করতে পারে না। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. আশফাক গণমাধ্যমকে বলেন, নিহত নারীর বাবা শাহাদাত মোল্লা মামলা করেছেন। আমাদের একাধিক টিম ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং আসামিকে গ্রেপ্তারে কাজ করছে। আপাতত তদন্তের স্বার্থে আর কিছু বলা যাচ্ছে না।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার