নিজের দোষ ও ব্যর্থতা জানতে চাইলেন এসপি সায়েম
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৭ পিএম
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বিদায়ের শেষ মুহূর্তে প্রশংসা নয়, বরং নিজের ব্যর্থতা জানতে চাইলেন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাতে তার কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজ, সংস্কৃতিকর্মী, ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি নিজের দোষ জানতে চান।
আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অনুরোধ করেন, ‘আমার প্রশংসা নয়, বরং ব্যর্থতা বা ভুলগুলো বলুন। যাতে নিজেকে সংশোধন করতে পারি। পরবর্তী কর্মস্থলে তা কাজে লাগবে।’
তার এমন অনুরোধে সভাকক্ষে নেমে আসে নীরবতা। কেউ তার কোনো দোষ তুলে ধরতে পারেননি। বরং উপস্থিত বক্তারা বলেন, তিনি ছিলেন মার্জিত, স্পষ্টভাষী, দায়িত্বশীল, নিরপেক্ষ, সৎ, দক্ষ এবং সংবেদনশীল একজন কর্মকর্তা।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জ্ঞানেশ সরকার বলেন, ‘এক বছর দুই মাসের দায়িত্ব পালনকালে অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান, নারী নির্যাতন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে তিনি ছিলেন কঠোর অবস্থানে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনবান্ধব পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তোলায় রেখেছেন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। ক্ষমতার অপব্যবহার না করে দলমত–ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে সবার কাছে ছিলেন সমান।’
নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক কবি তানভীর জাহান চৌধুরী বলেন, ‘যখনই কোথাও কোনো ধরনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা বা সংকট দেখেছেন, তখনই ছুটে গেছেন। পাশে দাঁড়িয়েছেন সবার বিপদ-আপদে। জেলার সাধারণ মানুষদের আস্থার জায়গায় ছিলেন তিনি।’
সংস্কৃতিকর্মী পল্লব চক্রবর্তী বলেন, ‘এসপি হিসেবে নেত্রকোনায় যোগদান করার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। তিনি যে সময় যোগদান করেছেন তখন দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না। সেই সময়টাই তিনি দক্ষতার সঙ্গে সবকিছু সামাল দিয়েছেন। তার ভেতরে কোনো কপটতা ছিল না। আমার চোখে তিনি একজন সফল এসপি। এমন নীতিবদ্ধ কর্মকর্তা দেশের জন্য আশীর্বাদ।'
প্রশংসায় বিব্রত হয়ে এসপি শেষ পর্যন্ত নিজেই বলতে শুরু করেন নিজের সীমাবদ্ধতার কথা। তিনি বলেন, ‘আমার কর্মকালীন কলেজ শিক্ষক, শিশু ও ব্যবসায়ীর তিনটি ক্লুলেস খুনের রহস্য এখনও উদ্ঘাটন করতে না পারা আমার ব্যর্থতা। শিশু হত্যার ঘটনায় অগ্রগতি হয়েছে—কিছু কাজ বাকি আছে।’
মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, ‘নেত্রকোনা শান্তিপ্রিয় জেলা। আমি সরকারি দায়িত্ব পালন করেছি, মানুষের অনেক সমস্যারই সমাধান করতে পারিনি। তবে চেষ্টা করেছি ন্যায় বিচার পাইয়ে দেয়ার। সব সেবাগ্রহিতার কথা শুনতে। সেটা অফিস সময়ই হোক আর গভীর রাতেই হোক। যে কাজটি করেছি আন্তরিকতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে করার চেষ্টা করেছি। বদলি তো চাকরিরই অংশ। তবে জেলাবাসীর ভালোবাসা পেয়েছি এটাই বড় পাওয়া।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি আদেশে বদলি হয়ে পুলিশ সুপার হিসেবে সায়েম মাহমুদ এখন যাচ্ছেন খাগড়াছড়ি জেলায়।