বিজ্ঞাপন
স্বর্ণের দামে আরও পতন, আগামী সপ্তাহে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে টানা দুই দিনের ঊর্ধ্বগতির পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতির অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিতের অপেক্ষায় রয়েছেন, যা বৈশ্বিক আর্থিক ও মুদ্রানীতির গতিপথ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। খবর রয়টার্স।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৪৭৬ দশমিক ৫১ ডলারে নেমেছে। একই সঙ্গে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৪৫৭ ডলারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রায় চার সপ্তাহের সংঘাত বন্ধে ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ‘অতিমাত্রায় আগ্রহী’। তবে এর বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, কিন্তু সংঘাত কমাতে আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা নেই।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ডট কম-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, ‘আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় স্বর্ণের দাম মূলত আলোচনার অগ্রগতি সংক্রান্ত খবরের ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তী সপ্তাহের শুরুতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, বিশেষ করে যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযান শুরু করে কিনা তা পরিষ্কার হয়।’
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, তেহরান যদি ‘সামরিকভাবে পরাজিত’ হয়েছে—এই অবস্থান মেনে না নেয়, তাহলে ইরানের ওপর আরও কঠোর হামলার হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
এদিকে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে—এমন আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে এবং বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনকারী গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে। যদিও মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধিতে সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে, কিন্তু উচ্চ সুদের হার এই চাহিদাকে কমিয়ে দেয়।
বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফেডারেল রিজার্ভ চলতি বছরে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ সংঘাত শুরুর আগে বাজার অন্তত দুইবার সুদ কমানোর প্রত্যাশা করছিল।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে। স্পট রূপার দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৯ দশমিক ৯০ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১,৮৯৩ দশমিক ৬০ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ২ শতাংশ কমে ১,৩৯৪ দশমিক ৮৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
দেশের বাজারে আজকের স্বর্ণের দাম: ২৬ মার্চ ২০২৬
বিশ্ব বাজারে দাম কমার ফলে দেশের বাজারে রেকর্ড হারে কমেছে স্বর্ণের দাম। বুধবার (২৫ মার্চ) ভরিতে ৫ হাজার ৪২৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বুধবার (২৫ মার্চ) নতুন কার্যকর হওয়া এ দামে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিক্রি হবে স্বর্ণ।
বুধবার (২৫ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
স্বর্ণের দাম বাড়ার সঙ্গে কমেছে রুপার দামও। বুধবার (২৫ মার্চ) ভরিতে ৩৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা।
বিজ্ঞাপন