বিজ্ঞাপন
রুপি ও বন্ডে নজর, আরবিআইয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বাজার
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
বিজ্ঞাপন
ভারতের রুপি ও সরকারি বন্ড বাজার এই সপ্তাহে ইরান সংঘাত আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে। জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা হলে অর্থনীতিতে কী হবে, তা দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত সপ্তাহে নতুন কড়া নিয়মের কারণে আগের কিছু লেনদেন বন্ধ হচ্ছে। এতে রুপির দাম একটু বাড়তে পারে।
এই পদক্ষেপে ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেনও কমেছে। ফলে রুপি ২% বেড়ে ৯৩.১০ হয়েছে। এটি নভেম্বর ২০২২-এর পর সবচেয়ে ভালো ফল। আগে অনেকেই ভাবছিল রুপির দাম কমবে।
তাই তারা সেইভাবে টাকা বিনিয়োগ করছিল। এখন এসব লেনদেন কমাতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থা নিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে তেলের দাম বেশি। তাই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারত থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন।
যুদ্ধে অনেক মানুষ মারা গেছে। জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতির ভয় আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সোমবারের মধ্যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে। তবে মঙ্গলবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি না খুললে নতুন হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
এই অবস্থায় বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এই সপ্তাহে সুদের হার বদলাবে না। তবে রুপিকে সহায়তা করবে এবং বাজারে বেশি টাকা দিতে পারে।
এমইউএফজি বিশ্লেষকেরা বলেন, 'সিদ্ধান্ত কঠিন। তবে আমরা মনে করি, আরবিআই সুদের হার বাড়াতে পারে। সময়ের সঙ্গে বন্ডের সুদ বাড়বে।'
তারা বলছেন, ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে সুদ ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়তে পারে।
বন্ড বাজারে চাপ
ভারতের সরকারি বন্ড বেশি বিক্রি হচ্ছে। দশ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদ দ্রুত বাড়ছে। গত সপ্তাহে এটি বেড়ে ৭.১৩২৯ শতাংশে গেছে। এর আগের সপ্তাহেও বেড়েছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এটি ৭.০৮ থেকে ৭.১৮ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।
তেলের দাম বেশি থাকায় বন্ড বিক্রি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ এখন ছয় সপ্তাহ চলছে। ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১০ ডলার। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম ৫০% এর বেশি বেড়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যাংক বেশি বিক্রি করায় বাজারে চাপ পড়ছে।
এস কিউব ক্যাপিটালের হেমন্ত মিশ্র বলেন, 'ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডের সুদের পার্থক্য কমেছে। তাই বিদেশিরা লাভ তুলে নিচ্ছেন।'
তিনি বলেন, 'আগামী ছয় মাসে সুদ ৭.০০ থেকে ৭.২৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। তবে বাজারে যথেষ্ট টাকা রাখতে হবে। না হলে সমস্যা হতে পারে।'
বিজ্ঞাপন