Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

অর্থনীতি

১৬৫ সিসির মোটরসাইকেল থাকলেই বছরে গুনতে হবে ১০ হাজার টাকা

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম

১৬৫ সিসির মোটরসাইকেল থাকলেই বছরে গুনতে হবে ১০ হাজার টাকা

বিজ্ঞাপন

দেশজুড়ে চলাচল করা মোটরসাইকেলের ওপর নতুন করে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের মালিকদের বছরে ১০ হাজার টাকা কর দিতে হতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও নতুন করের আওতায় আনার চিন্তা করছে সংস্থাটি।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বাজেটবিষয়ক বৈঠকে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে এনবিআর। যানবাহন নিবন্ধনের সময় আদায়কৃত রোড ট্যাক্সের পাশাপাশি মোটরসাইকেলের ওপর নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইঞ্জিন ক্ষমতার ভিত্তিতে বিদ্যমান অগ্রিম আয়করও বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মূলত উচ্চ সিসির বা অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন যানবাহনের মালিকদের করের আওতায় আনতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও প্রস্তাবটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এনবিআরের প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল নতুন এই করের আওতার বাইরে থাকতে পারে। ১১১ থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের জন্য বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির বাইকের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি বাইকের ক্ষেত্রে বছরে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের চিন্তা করা হচ্ছে।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মূলত করের আওতা ও কর পরিপালন বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করলেও করদাতারা বছরের শেষে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় তা সমন্বয়ের সুযোগ পাবেন।’

বর্তমানে মোটরসাইকেল মালিকরা নিবন্ধন ফি’র সঙ্গে রোড ট্যাক্স পরিশোধ করেন। দুই বছরের জন্য এই ট্যাক্স ২ হাজার ৩০০ টাকা এবং ১০ বছরের জন্য ১১ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে বাইক ছাড়া অন্যান্য মোটরযানের ক্ষেত্রে ইঞ্জিন ক্ষমতা অনুযায়ী বার্ষিক কর ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৮ লাখের বেশি। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) নিবন্ধিত হয়েছে। এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের এক তদন্তে ৩ হাজার সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তত ৫ হাজার ২৮৮টি বিলাসবহুল গাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিলাসবহুল মোটরসাইকেল ও উচ্চ ক্ষমতার যানবাহনের ওপর কর আরোপ যৌক্তিক হতে পারে। তবে সাধারণ আয়ের মানুষ যারা রাইড শেয়ারিং, ডেলিভারি, ওষুধ সরবরাহ বা পারিবারিক প্রয়োজনে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন, তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

এনবিআরের সাবেক সদস্য সৈয়দ মো. আমিনুল করিম বলেন, ‘বাইকের উপর এআইটি ইমপোজ (আরোপ) করা হলে রাজস্বের "পয়েন্ট অব ভিউ" (দৃষ্টিকোণ) থেকে যৌক্তিক হবে। কারণ এর ফলে স্বচ্ছতা বাড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৪ সালে যখন আমরা দায়িত্বে ছিলাম, তখন কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ১০ দশমিক ২ শতাংশ। এতদিনে তা না বেড়ে উল্টো কমে ৭ শতাংশের নিচে চলে গেছে।’

তবে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের ওপর কর আরোপে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘বিপুল সংখ্যক মানুষ মোটরসাইকেল চালিয়ে তাদের পরিবার চালায়। তাই তাদের ওপর বাড়তি করের চাপ দেওয়া যৌক্তিক হবে না।’

রাইড শেয়ারিং চালক আলী আহমেদ বলেন, ‘আমি ১২৫ সিসির বাইক চালাই। এখন আয় কমে গেছে, খরচ বেড়েছে। কিন্তু এর মধ্যে যদি আবার বছর বছর ট্যাক্স দিতে হয়, তাহলে সংসার চালাবো কীভাবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘সেফটির জন্য ১২৫ সিসির বাইকও যথেষ্ট নয়। অন্তত ১৫০ সিসি স্ট্যান্ডার্ড হওয়া উচিত। কিন্তু এভাবে ট্যাক্স আরোপ হলে মানুষ বাধ্য হবে কম সিসির বাইক কিনতে। সেক্ষেত্রে এক্সিডেন্টের ঝুঁকি বাড়বে।’

এদিকে ‘বাংলা টেসলা’ নামে পরিচিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে এনবিআর। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী অটোরিকশার জন্য বছরে ৫ হাজার টাকা, পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ১ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণ করা হতে পারে।

যদিও বর্তমানে এসব যানবাহনের কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান নেই। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা ৩০ লাখের বেশি। গত বছর সরকার ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করে, যেখানে নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ ও ট্যাক্স টোকেন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, সারা দেশে বিপুলসংখ্যক অনিবন্ধিত ব্যাটারিচালিত রিকশাকে করের আওতায় আনা সহজ হবে না।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার