Logo
Logo
×

অর্থনীতি

শিল্পায়নের অভাবে চাকরি হারিয়েছে ১৪ লাখ মানুষ

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০২:১৫ পিএম

শিল্পায়নের অভাবে চাকরি হারিয়েছে ১৪ লাখ মানুষ

হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ বলেছেন, শিল্পায়নের প্রভাবে চাকরি হারিয়েছে ১৪ লাখ মানুষ। যারা রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, যাদের কোনো চাকরি নেই, যাদের এক সময় চাকরি ছিল। প্রতিবছর ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে চাকরিতে আসে। এক লাখ ২০ হাজার লোক সরকারি-আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পায়, ৮ লাখ লোক বিদেশে এবং ১০ লাখ বেসরকারি খাতে। বাকিরা বেকার থাকে। কিন্তু এ খাতে নতুন করে কোনো কর্ম সৃষ্টি হচ্ছে না। যার ফলে কর্মসংস্থান হচ্ছে না; বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে। 

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বণিক বার্তা’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এ. কে. আজাদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ২৩ নভেম্বরের বুলেটিন অনুযায়ী, গত বছর জিডিপি ছিল ৪ দশমিক ২২, যা এ বছরে কমে দাঁড়াবে ৩ দশমিক ৯৭। অর্থাৎ আগের চেয়ে জিডিপি কমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলছে, ক্ল্যাসিফাইড লোনের সংখ্যা ২৪ শতাংশ। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি। কেননা সাধারণ মানুষকে ডিভিডেন্ড দেওয়ার উদ্দেশ্যে উইন্ডো ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করে না। ক্লাসিফাইড করলেই টাকাটা ডিভিডেন্ডে রাখতে হয়ে ফলে প্রবেশন কমে যায়। সে কারণে এটাকে যদি গড়ে আমরা ৩৫ শতাংশ ধরি, সেটা কোথায় গেল জানা উচিৎ। বিষয়টি আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখছি। আমরা আশা করছি, আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তারা বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবেন। আপনারা খুঁজে বের করবেন টাকাগুলো গেল, কোথায় কে নিলো? তারপর তাদের আইনের আওতায় সোপর্দ করবেন। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের পারভেজ মোশাররফের গৃহীত নীতি অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি।

বেসরকারি খাতের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মুদ্রা সংকোচনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কঠোর হস্তে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছেন। ফলে সুদের হার বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বেসরকারি খাতে। এতে বেসরকারি খাত বড় হতে পারছে না। আমরা লোন পেয়েছি মাত্র ৬ শতাংশ। শিল্পায়ন অবস্থা খুবই খারাপ। ট্রেডিংয়ের জন্য দেশে শিল্পায়ন হচ্ছে না। গত বছর এমনিতে দেশে ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি কম হয়েছে; এ বছর তার চেয়েও ২৬ শতাংশ কম আমদানি হয়েছে। 

তিনি বলেন, সরকার রেভিনিউ থেকে ব্যয় নির্বাহ করতে পারছে না। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিচ্ছে। সরকার ব্যাংক থেকে ২৭ শতাংশ লোন করেছে ব্যাংক থেকে। 

হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আমরা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি এনার্জি ক্রাইসিস মোকাবিলা করছি। আমাদের ৭ দশমিক ৮০ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফিট গ্যাস রিজার্ভ আছে। প্রতি বছর আমাদের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট গ্যাস। এর ৩০ শতাংশ আমদানি, বাকি ৭০ শতাংশ রিজার্ভ থেকে ব্যবহার করি আমরা। এতে করে ৯ শতাংশ গ্যাস রিজার্ভ লেভেল নিচে নেমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ৬-৭ বছরের মধ্যে গ্যাস রিজার্ভ শেষ হয়ে যাবে। তখন পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হতে হবে আমাদের। এ নিয়ে আমরা বিনিয়োগকারীরা হতাশ।

অধিবেশনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএসএমএ’র সভাপতি ও জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন প্রমুখ। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। সঞ্চালনা করেন দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার