যুক্তরাষ্ট্র ও আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স কমেছে ৪৪ কোটি ডলার
অর্থবছরের ৩ মাস
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম
প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো আয়ের উপর নির্ভর করে চলছে দেশের অর্থনীতি। তথ্যমতে সারা বিশ্বে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা দেড় কোটি। এই প্রবাসীরা পৃথীবির নানা প্রান্ত থেকে রেমিট্যান্স পাঠান। সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়লেও কমেছে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব আমিরাত থেকে। এ দুটি দেশ থেকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স কমেছে ৪৪ কোটি ডলার বা ৫২৮০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জুলাই বিপ্লবের পরে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রেখেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো আয়। যখন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির, ঠিক তখনই অর্থনীতির ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে রেমিট্যান্স। বিপ্লবের পরের প্রতিটি মাসেই ২০০ কোটি ডলার এসেছে রেমিট্যান্স হিসেবে। সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার এসেছে গেল ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চে।
সূত্রমতে, গেল ২০২৪ অর্থবছরের জুলাই, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে ৯২ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ২৯ কোটি ডলার বেশি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এ দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৬২ কোটি ডলার।
এদিকে দেশের শ্রমিকদের অন্যতম বড় বাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও কমেছে রেমিট্যান্স। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল ১০৩ কোটি ডলার। যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে কমে দাঁড়িয়েছে ৮৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে এ দেশটি থেকে রেমিট্যান্স কমেছে ১৫ কোটি ডলারেরও বেশি। যদিও অন্যান্য প্রবাসী সমৃদ্ধ দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। এরমধ্যে সৌদি আরব থেকে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৪৩.৭ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে দেশটি থেকে এসেছে ১২৩ কোটি ডলার। যা আগের বছরের চেয়ে ৪৮ কোটি ডলার বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই- সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮৫ কোটি ডলার।
এছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৬ কোটি ডলার। পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ২০ কোটি, ইতালি থেকে ৯ কোটি, ওমান থেকে ১১ কোটি, সিঙ্গাপুর থেকে ১২ কোটি ও কাতার থেকে ৬ কোটি ডলার বেশি এসেছে রেমিট্যান্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৭৫৮ কোটি ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০৪ কোটি ডলার বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছিল ৬৫৪ কোটি ডলার সমমূল্যের টাকা।