Logo
Logo
×

অর্থনীতি

সংকটাপন্ন পাঁচ ব্যাংক : কর্মীদের বেতন কমছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত

Icon

বিজনেস ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০২:০২ এএম

সংকটাপন্ন পাঁচ ব্যাংক : কর্মীদের বেতন কমছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত

পাঁচ সংকটাপন্ন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর কর্মীদের বেতন ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এই বেতন কার্যকর থাকবে। নতুন ব্যাংক পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হলে ব্যাংকটি তখন নিজস্ব বেতন কাঠামোয় চলবে।

ইতোমধ্যে বেতন কমানোর বিষয়টি পাঁচটি ব্যাংককে মৌখিকভাবে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ রোববার ব্যাংকগুলোকে এ-সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও পরিচালক শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, ‘গভর্নর তার বক্তব্যে ইতোমধ্যে বলেছেন বেতন যৌক্তিকীকরণ করা হবে। অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। নতুন ব্যাংক পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হলে তখন ব্যাংকটি নিজস্ব বেতন কাঠামোয় চলবে।’

তিনি আরও বলেন, সবার বেতন যে ২০ শতাংশ কমবে এমন নয়। কারও ১০ শতাংশও কমতে পারে। আবার কারও বেতন আগের মতোই থাকতে পারে। এটাকে রেশনালাইজড করা হবে।  কভিডকালেও দেশের ব্যাংক খাতে এমন রেশনালাইজড করা হয়েছিল। দেশের বাইরে  কভিডকালীন বেতন কমানোর ঘটনা ঘটেছে।

চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠনের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন দেয় এবং লেটার অব ইনটেন্ট ইস্যু জারি করে।

গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক এই পাঁচটি ব্যাংককে প্রায় ৩৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে।

ছাত্র-জনতার অভুত্থ্যানের মধ্যে দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হয়ে আসেন ড. আহসান এইচ মনসুর। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি দুর্বল ব্যাংকগুলো একীভূত করার উদ্যোগ নেন।

তবে এই একীভূত প্রক্রিয়ার শুরুর দিকে গভর্নর বলেছিলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কোনো কর্মীর চাকরি যাবে না। কারও বেতনও কমবে না।

এই আশ্বাসে অনেক কর্মী সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে কর্মরত থাকলেও তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের আশঙ্কা কাজ করছে। বেতন কমানোর খবরে তাদের অনেকেই বিচলিত। তাছাড়া একীভূতকরণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের নানা ধরনের সংকট রয়েই যাচ্ছে। লেনদেন চলছে না। ঋণ আদায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ব্যাংকের কর্মীদের পারফরম্যান্স খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

গত ৫ নভেম্বর এই পাঁচ ব্যাংকের দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিটি ব্যাংকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাঁচজন করে কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হয়। এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ব্যাংকগুলো পরিচালনায় প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ধারণা করা হচ্ছে, এই পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দুই বছরের বেশি সময় লাগতে পারে। একীভূত ব্যাংকটি হবে দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক। এই ব্যাংকের আমানতকারীদের জমা রাখা অর্থ ফেরত দেয়ার দায়িত্বও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘাড়ে। ব্যাংকটি হবে সরকারি মালিকানাধীন, তবে পরিচালিত হবে বেসরকারিভাবে। ফলে কর্মীদের বেতন হবে বাজারভিত্তিক, আর আমানতকারীরা মুনাফা পাবেন বাজারের হারে।

ওইদিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাঁচ ব্যাংকের কারও চাকরি যাবে না। আমানতকারীরা চলতি মাস থেকেই টাকা তুলতে পারবেন। মোট ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তোলা যাবে।

যে পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত হবে নতুন একীভূত ব্যাংক, সেগুলো হচ্ছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন, এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোয় প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হলেও কার্যক্রম  চলবে আগের মতো। পাশাপাশি একীভূত করার কার্যক্রম চলতে থাকবে। প্রত্যেক আমানতকারী চাইলে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত নিতে পারবেন। তবে সরকারি ব্যাংক হওয়ায় তাদের প্রয়োজন ছাড়া টাকা উত্তোলনের প্রয়োজন হবে না। বড় আমানতকারীরা কবে টাকা তুলতে পারবেন, তা পরে গেজেটের মাধ্যমে জানানো হবে।

ওই দিন আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, পাঁচ ব্যাংকের মোট ৭৫০টি শাখা রয়েছে। ফলে জনবল যা আছে, তারা সবাই থাকবেন। এসব শাখা কোথায় স্থানান্তর করা যায়, তা যাচাই করে দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য জনবলের প্রয়োজন আছে।

শেয়ারধারীদের কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব ব্যাংকের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তাতে প্রতিটির ১০ টাকার শেয়ারের মূল্য ঋণাত্মক ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা হয়ে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক চর্চা অনুযায়ী শেয়ারধারীরা কিছুই পাবেন না। তাদের শেয়ার শূন্য হয়ে গেছে। তাদের কাছে আমরা অর্থ দাবি করছি না, এটাই তাদের ভাগ্য। তবে যারা বন্ডে বিনিয়োগ করেছেন, তারা টাকা বা শেয়ার পাবেন।’

তবে এরপর শেয়ারহোল্ডারদের দাবির মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছুটা নমনীয়তা দেখায়। পরবর্তী সময় শেয়ারধারীদের টাকা ফেরতের বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানানো হয়।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার