বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় আত্মহত্যা করেছেন।
আত্মহত্যার আগে সামাজিক মাধ্যমে একটি রহস্যময় পোস্ট দেন জাহেরপত্নী। সেই পোস্টে ইকরা লিখেছিলেন— ‘বিগ এক্সপোজ অ্যালার্ট! গেট রেডি এভরিওয়ান!’ ইকরার সেই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে ভাইরাল হয়ে পড়ে। যেখানে ছিল নিজেকে মুক্তি দেওয়ার ইঙ্গিত।
এদিকে ইকরা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে জাহের আলভী ও তার মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ। স্ত্রী আফরা ইকরার আত্মহত্যার পর অভিনেতা জাহের আলভীর (নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া) খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। রোববার (১ মার্চ) রাতে দেশে ফিরেছেন—এমনটি শোনা গেলেও তার দেখা মেলেনি। কেউ বলতে পারছেন না তিনি এখন কোথায় আছেন, কোথায় গেছেন।
একাধিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১ মার্চ) বিকালে জাহের আলভী নেপাল থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। এরপর বেশ কিছুক্ষণ বিমানবন্দরের ভেতরেই অবস্থান করেন তিনি। ঢাকায় ফেরার কয়েক ঘণ্টা পর একজনের মধ্যস্থতায় তিনি বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসেন। আবার শোনা গেছে, আলভীর ফোন, ফেসবুকসহ সব ধরনের মাধ্যম বন্ধ থাকায় দেশে ফেরা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার (১ মার্চ) দুপুরে কথা হয় অভিনেতা জাহের আলভীর সঙ্গে। তিনি কয়েক দিন আগে শুটিংয়ে যান নেপালে। একই নাটকের শুটিংয়ে আলভীর প্রেমিকা সেই অভিনেত্রীও ছিলেন, যাকে নিয়ে আলভীর স্ত্রী ইকরার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলে আসছিল।
জাহের আলভী গণমাধ্যমটিকে গতকাল দুপুর ১২টায় জানান, তিনি সন্ধ্যার মধ্যে নেপাল থেকে ঢাকায় ফিরবেন। ফিরে এসেই পুরো ব্যাপার নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলবেন। আলভী তার কথামতো দেশে ফিরে থাকলেও এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো কথা সংবাদমাধ্যমকে বলেননি।
এদিকে জাহের আলভী তার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক আইডি বন্ধ করে রেখেছেন। ব্যক্তিগত ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে। যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না হোয়াটসঅ্যপেও।
অন্যদিকে আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী জাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলির নামে মামলা করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার পল্লবী থানায় এ মামলা করা হয়। মামলার বাদী হয়েছেন ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে— জাহের আলভী ও নাসরিন সুলতানার আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং দুই বছর ধরে অবহেলা ও নির্যাতনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি একেএম আলমগীর জাহান বলেন, মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আলভীর ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য নেই। তদন্ত চলমান।
অন্যদিকে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, এজাহারের একটি কপি বিমানবন্দরের অভিবাসন পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আসামি যেহেতু দেশের বাইরে আছেন, যাতে দেশে আসার পর দ্রুত গ্রেফতার করা যায়।
বিজ্ঞাপন