Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য

এক প্লেট চটপটিতে ৭ কোটির বেশি মলমূত্রের ব্যাকটেরিয়া

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০০ পিএম

এক প্লেট চটপটিতে ৭ কোটির বেশি মলমূত্রের ব্যাকটেরিয়া

বিজ্ঞাপন

গরম আর যানজটের ক্লান্তিতে পথের ধারের শরবত, ফুচকা বা চটপটি অনেকের কাছেই স্বস্তির খাবার। তবে এই আকর্ষণীয় খাবারের আড়ালেই লুকিয়ে আছে ভয়ংকর স্বাস্থ্যঝুঁকি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এক প্লেট চটপটিতেই রয়েছে ৭ কোটির বেশি ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া, যা মূলত মানব মলমূত্র থেকে ছড়ায়। বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, রাজধানীর প্রায় ৯০ শতাংশ স্ট্রিট ফুডই অনিরাপদ।

রাজধানীর গুলিস্তান, মিরপুর, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতের খাবারের দোকানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির চরম অবহেলা চোখে পড়ে। ময়লা পানিতে প্লেট ধোয়া, খোলা খাবারে ধুলা-ধোঁয়ার সংস্পর্শ, বিক্রেতার অস্বাস্থ্যকর হাত সব মিলিয়ে খাবার হয়ে উঠছে জীবাণুর আঁতুড়ঘর। অনেক ক্ষেত্রে একই তেল বারবার ব্যবহার করে ভাজা হচ্ছে খাবার, যা ট্রান্সফ্যাটে পরিণত হয়। শরবত বা আখের রসে ব্যবহৃত বরফের বড় অংশই আসে মাছ সংরক্ষণের কারখানা থেকে, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রাজধানীর ৩৭টি স্থান থেকে সংগ্রহ করা ৪৫০টি নমুনা পরীক্ষা করে চটপটি, ছোলা-মুড়ি, স্যান্ডউইচ, আখের রসসহ বিভিন্ন খাবারে ই-কোলাই, সালমোনেলা ও ভিব্রিও জীবাণুর উপস্থিতি পেয়েছে। চটপটিতেই জীবাণুর মাত্রা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। প্রতি প্লেট চটপটিতেই মিলেছে ৭ কোটি ২০ লাখ ই-কোলাই, ৭৫০ সালমোনেলা ও ৭৫০ ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়া। অন্যান্য খাদ্যে একই জীবাণু বিভিন্ন মাত্রায় পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব জীবাণু ডায়রিয়া, পেটের রোগসহ দীর্ঘমেয়াদি জটিল অসুস্থতার কারণ হতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অস্বাস্থ্যকর খাবার এখন নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় হুমকি।

তাদের মতে, আইন থাকলেও তার প্রয়োগ দুর্বল। নিয়মিত তদারকি ও কঠোর শাস্তি ছাড়া এই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ থাকলেও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

গবেষক মো. লোকমান হেকিম বলেন, ই-কোলাই মানুষের মলে থাকা একটি জীবাণু। ঢাকা শহরে খাওয়ার পানির প্রধান উৎস ওয়াসা। শহরের পানির পাইপ ও পয়ঃনিষ্কাশনের লাইন বহু জায়গায় একাকার হয়ে গেছে। রাসায়নিক ব্যবহার করেও একে পূর্ণমাত্রায় বিশুদ্ধ করা যায় না। কিন্তু ফুটপাতের বিক্রেতারা সরাসরি এ পানি ব্যবহার করছেন। ফলে খাদ্যের পাত্র জীবাণুমুক্ত রাখার নিয়ম তারা জানেন না। প্লেট, গামছা, এমনকি তাদের হাতও পরিষ্কার থাকে না। এ কারণে মলের জীবাণুসহ আরও বিভিন্ন ক্ষতিকারক জীবাণু মানুষের পেটে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, রাজধানীর রাস্তার খাবারে বিপজ্জনক মাত্রায় টোটাল কলিফর্মস ও ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। এই ব্যাকটেরিয়া মূলত প্রাণীদের মলমূত্রে থাকে। ঢাকার পথে বিক্রি হওয়া ঝালমুড়ি, পানিপুরি, ভেলপুরি, চটপটি, নুডলস, ফলের রস, তেঁতুল-কাঁচাকলা-জলপাই-ধনেপাতা ও মসলা দিয়ে তৈরি মিশ্র ফলের ভর্তা, কতবেল ভর্তা ও জলপাই ভর্তা পরীক্ষা করে এই ফলাফল পায় সংস্থাটি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শামীম আহমেদ বলেন, ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার এখন নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে। সবকিছু চোখের সামনেই হচ্ছে। অথচ প্রতিকার নেই। কঠোর শাস্তির অভাবে অস্বাস্থ্যকর খাবার ও ভেজাল রোধ করা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে দেশের জনস্বাস্থ্য এক সময় বিপন্ন হয়ে পড়বে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার