Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

সৌদি আরবে মদের দোকানে প্রবেশাধিকার বাড়লো

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৫১ পিএম

সৌদি আরবে মদের দোকানে প্রবেশাধিকার বাড়লো

বিজ্ঞাপন

সৌদি আরব নীরবে দেশটির একমাত্র মদ বিক্রির দোকানের প্রবেশাধিকার বাড়িয়েছে। এখন ধনী বিদেশি বাসিন্দারা দোকানটি থেকে মদ কিনতে পারবেন। একসময়ের অতি রক্ষণশীল এ রাজতন্ত্রে এটিকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্তের কোনও সরকারি ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এখন সৌদি রাজধানী রিয়াদের ডিপ্লোম্যাটিক কোয়ার্টারে অবস্থিত গোপন, চিহ্নবিহীন দোকানটির সামনে গাড়ি ও মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অমুসলিম কূটনীতিকদের জন্য দোকানটি খোলা হয়। নতুন নিয়মে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পারমিটধারী অমুসলিম বিদেশিরা মদ কিনতে পারবেন। এ পারমিট পান বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তারা।

ইসলামের পবিত্রতম স্থানের দেশ সৌদি আরবে ১৯৫০-এর দশকের প্রথম থেকে মদ নিষিদ্ধ। এ দোকানকে নিয়ন্ত্রিতভাবে মদ বিক্রির সতর্ক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দেশটির ডি ফ্যাক্টো শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও তার পিতা বাদশাহ সালমান নাটকীয় উদারীকরণ নীতি অনুসরণ করছেন। তাদের লক্ষ্য পর্যটন আকর্ষণ, আন্তর্জাতিক ব্যবসা বাড়ানো এবং অপরিশোধিত তেলের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানো।

ইসলামি শরিয়া আইন মেনে চলা এ রাজতন্ত্রে সিনেমা হল খোলা হয়েছে, নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং বড় বড় সংগীত উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বক্তব্য ও ভিন্নমত কঠোরভাবে দণ্ডনীয়, মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণ জনগণের জন্য মদ এখনও নিষিদ্ধ।

চিহ্নবিহীন দোকানটি ডিউটি-ফ্রি দোকানের মতো। এর মালিকানা অপ্রকাশিত। নিরাপত্তা কঠোর। প্রত্যেক ক্রেতার যোগ্যতা যাচাই ও তল্লাশি করা হয়। ভেতরে মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা নিষিদ্ধ; কর্মীরা এমনকি চশমায় স্মার্ট গ্লাস আছে কি না, তাও পরীক্ষা করেন।

বার্তা সংস্থা এপি দোকান থেকে বের হওয়া কয়েকজন গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেছে। মদ নিয়ে সামাজিক ট্যাবুর কারণে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন। তারা জানান, দাম অনেক বেশি। কূটনীতিকরা করমুক্ত, কিন্তু প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি ধারীরা করমুক্ত নন।

গ্রাহকদের মতে, দোকানে ভালো মজুত আছে। যদিও কেউ কেউ বলছেন বিয়ার ও ওয়াইন সীমিত।

প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পারমিট বিশ্বমানের দক্ষতা আকর্ষণের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। অন্য রেসিডেন্সির মতো সৌদি স্পন্সর লাগে না; সুবিধার মধ্যে আছে সম্পত্তি কেনা, ব্যবসা শুরু করা ও পরিবার স্পনসর করা। যোগ্যতার জন্য উচ্চ আয় বা বড় বিনিয়োগ লাগে।

সৌদি ও অন্য বাসিন্দারা মদ পান করতে চাইলে প্রায়ই প্রতিবেশী দ্বীপ বাহরাইনে যান। সেখানে মুসলিম-অমুসলিম উভয়ের জন্য মদ বৈধ। সাপ্তাহিক ছুটি ও উৎসবে বাহরাইনে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে দর্শকদের ভিড় হয়; এটি জনপ্রিয় ছুটির গন্তব্য। আরও ব্যয়বহুল বিকল্প সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে যাওয়া।

অন্যরা চোরাই মদ কিনেন, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, অথবা ঘরে তৈরি মদ, যা প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তাহীন উপাদান ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হয়।

সৌদি আরবে কেউ কেউ মদের বিকল্প হিসেবে অ্যালকোহলমুক্ত পানীয় উপভোগ করেন বা পানের সৌন্দর্য ধরতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি তুলে পোস্ট করেন। বড় উৎসব ও অনুষ্ঠানে অ্যালকোহলমুক্ত বিয়ারের স্ট্যান্ডে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

দেশটির প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজ ১৯৫১ সালের একটি ঘটনার পর মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করেন। ওই ঘটনায় তার এক ছেলে প্রিন্স মিশারি মাতাল হয়ে জেদ্দায় ব্রিটিশ ভাইস কনসাল সাইরিল ওসমানকে শটগান দিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার