বিজ্ঞাপন
‘ইন্ডিয়া নয়, তোমার নাম এখন লিঞ্চিস্তান’
এক্স পোস্টে ইলতিজা মুফতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৪৮ পিএম
জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) প্রধান মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতি
বিজ্ঞাপন
ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) প্রধান মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতি ভারতকে ‘লিঞ্চিস্তান’ বা ‘গণপিটুনির দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দেশে অসহিষ্ণুতা ও গণপিটুনির ঘটনা বাড়লেও এ বিষয়ে নেতৃস্থানীয় প্রায় সবাই নীরব ভূমিকা পালন করছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে জুয়েল শেখ নামে ১৯ বছর বয়সী এক বাঙালি মুসলিম অভিবাসী শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার একটি খবর শেয়ার করে ইলতিজা লেখেন, ‘ইন্ডিয়া, ভারত বা হিন্দুস্তান নয়; তোমার নাম এখন লিঞ্চিস্তান।’
এ ঘটনায় ইলতিজার মা মেহবুবা মুফতিও প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, দেশে গণপিটুনির ঘটনা বেড়েছে এবং এ বিষয়ে বিচারব্যবস্থার ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশে সংঘটিত গণপিটুনির ঘটনায় যারা সরব, তারা নিজেদের দেশের এমন ঘটনায় চুপ থাকছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ের প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করেন মেহবুবা মুফতি। ওই রায়ে কাশ্মীরি বন্দিদের অন্য রাজ্যের কারাগার থেকে জম্মু-কাশ্মীরে ফিরিয়ে আনার আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত বলেন, আবেদনটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়ের মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মেহবুবা বলেন, ‘আমরা বারবার বলে আসছি, দেশে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশে যা ঘটছে, তা আমাদের ব্যথিত করে। কিন্তু নিজেদের সামনে এমন ঘটনা ঘটলেও অনেকেই মুখ বন্ধ রাখেন।’
পিডিপিপ্রধান জানান, গত ৭২ ঘণ্টায় হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও হরিয়ানায় কাশ্মীরি শাল বিক্রেতাদের ওপর অন্তত তিনটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, উগ্র ডানপন্থি বিভিন্ন দলের কর্মীরা তাদের ‘জয় শ্রীরাম’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে বাধ্য করছেন এবং অস্বীকার করলে মারধর করছেন।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, মেহবুবা মুফতি রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমার চরিত্র নিয়ে মন্তব্য করা বিচার বিভাগের কাজ নয়। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রশ্ন তোলার অধিকার আমার আছে।’
বিচারপতি অরুণ পাল্লি ও বিচারপতি রজনীশ জয়সওয়ালের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনটিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে বলেন, একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কাছে নিজেকে ন্যায়বিচারের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরতেই এই আবেদন করা হয়েছে।
রায়কে ‘দুর্ভাগ্যজনক ও বিস্ময়কর’ উল্লেখ করে মেহবুবা প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ মানুষ জনস্বার্থে মামলা করতে পারলে একজন রাজনীতিবিদ কেন পারবেন না। তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ দরিদ্র মানুষের জন্য অন্য রাজ্যের কারাগারে থাকা স্বজনদের সঙ্গে দেখা করা কঠিন হয়ে পড়ে।’
বিজ্ঞাপন