বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক হন আরও যেসব বিশ্বনেতারা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে এক দীর্ঘস্থায়ী প্রথার ধারাবাহিকতায় আবারও সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পথ বেছে নিল হোয়াইট হাউস। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের এক ঝটিকা অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আটক হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই ঘটনা কেবল কারাকাস বা ওয়াশিংটনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে মার্কিন আধিপত্য ও নেতৃত্ব পরিবর্তনের পুরনো কৌশলকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। খবর আল জাজিরার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মাদক পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত মাদুরোকে এখন বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই অভিযানকে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মাদুরো দম্পতি জীবিত আছেন কি না, তার প্রমাণ দাবি করেছেন। ইতিহাসের পাতায় চোখ ফেরালে দেখা যায়, মাদুরোর এই পরিণতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ম্যানুয়েল নোরিয়েগা কিংবা সাদ্দাম হোসেনের মতো শাসকদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অতীত আচরণেরই এক আধুনিক সংস্করণ।
এই তালিকার অন্যতম আলোচিত নাম পানামার ম্যানুয়েল নোরিয়েগা, যাকে ১৯৮৯ সালে মাদক পাচারের অভিযোগে ঝটিকা অভিযানে ধরে নিয়ে গিয়েছিল মার্কিন সেনারা। ম্যানুয়েল নোরিয়েগা একসময় সিআইএর ঘনিষ্ঠ মিত্র থাকলেও পরবর্তীতে ওয়াশিংটনের বিরাগভাজন হন। ফলে পানামায় মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মাদক দমনের দোহাই দিয়ে দেশটির উপর আক্রমণ করা হয়। ঠিক একইভাবে ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর সাদ্দাম হোসেনকে একটি গোপন সুড়ঙ্গ থেকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্র, যদিও পরে তার বিরুদ্ধে আনা গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ইরাকি আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০০৬ সালে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
এছাড়া অতি সম্প্রতি ২০২২ সালে হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট জুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজকেও মাদক পাচারের দায়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন এজেন্টরা। তবে মজার বিষয় হলো, ২০২৫ সালের শেষ দিকে ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করে দেন।
মাদুরোর আটক হওয়ার এই ঘটনা ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার একটি চূড়ান্ত রূপ। ডেল্টা ফোর্সের এই ঝটিকা অভিযান প্রমাণ করে যে, ল্যাটিন আমেরিকায় নিজেদের প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখতে ওয়াশিংটন যেকোনো সময় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। সমালোচকদের মতে, এটি কোনো আইনি পদক্ষেপ নয় বরং একটি ‘রাষ্ট্রীয় অপহরণ’ বা ‘নগ্ন হস্তক্ষেপ’। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের দাবি—এটি কেবল মাদক সম্রাটদের বিচারের আওতায় আনার একটি বৈশ্বিক প্রচেষ্টা।
বিজ্ঞাপন