বিজ্ঞাপন
যেভাবে ২০ মিনিটেই বিশ্বজয়ের সক্ষমতা রাখে চীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৮ এএম
বিজ্ঞাপন
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এক ভয়াবহ সক্ষমতা অর্জন করেছে চীন। তবে, দেশটি জানিয়েছে, তারা কোনো যুদ্ধে আগে আক্রমণ করবে না, তবে আক্রান্ত হলে প্রতিপক্ষকে দ্বিতীয়বার আক্রমণের সুযোগও দেবে না। এই বার্তার মূল কেন্দ্রে রয়েছে চীনের নব-উন্মোচিত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ডিএফ-৫সি।
গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ভিক্টরি ডে প্যারেডে নিজেদের এই অনন্য সামরিক শক্তির জানান দেয় চীনা প্রতিরক্ষা বাহিনী।
চীনের দাবি অনুযায়ী, এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মাত্র ২০ মিনিটেরও কম সময়ে আঘাত হানতে সক্ষম। ৩ সেপ্টেম্বরের প্যারেডে প্রদর্শিত এই মারণাস্ত্রটি মূলত 'ডুমসডে' বা কিয়ামতের ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা বর্তমান বিশ্বের যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।
অবিশ্বাস্য ধ্বংসক্ষমতা: ৬০টি ওয়ারহেড ও একটি হাইড্রোজেন বোমা বহনে সক্ষম
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ডিএফ-৫সি ক্ষেপণাস্ত্রটি একাই ৬০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং একটি শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমা বহন করতে পারে। যদিও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে এটি ১০টি পর্যন্ত ইন্ডিপেন্ডেন্ট রিএন্ট্রি ভেহিকল (এমআইআরভিএস) বহন করতে সক্ষম, তবে চীনের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য এর বিধ্বংসী ক্ষমতা সম্পর্কে বিশ্বকে এক চরম বার্তা দিচ্ছে।
ধ্বংসাত্মক ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের 'মিনিটম্যান ৩' ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী।
তরল জ্বালানির প্রযুক্তিগত বিপ্লব
সাধারণত তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দীর্ঘ সময় উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত রাখা কঠিন হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিনে সিলিকন বা বিশেষ রাবার জাতীয় পদার্থের ব্যবহার ইঙ্গিত দেয় যে, এটি সবসময় জ্বালানি পূর্ণ অবস্থায় রাখা সম্ভব। ফলে কোনো প্রকার আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই চীন তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাত বা 'সেকেন্ড স্ট্রাইক' নিশ্চিত করতে পারবে।
১৯৬৪ সাল থেকে চীন তাদের 'নো ফার্স্ট ইউজ' নীতি মেনে চলছে। অর্থাৎ তারা আগে কাউকে পারমাণবিক আক্রমণ করবে না। তবে নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনী এটিই প্রমাণ করে যে, চীনের প্রতিরক্ষা এখন আর কেবল ঢাল নয়, বরং এক ভয়াবহ মরণাস্ত্র। বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করার উদ্দেশ্য হলো চীনের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে বিশ্বের যেকোনো সন্দেহ দূর করা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তর্ভুক্তি বৈশ্বিক পারমাণবিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি করছে। সর্বশেষ এই অর্জনের মধ্য দিয়ে মার্কিন আধিপত্যবাদকে যেকোনো সময় চ্যালেঞ্জ করার সক্ষমতা রাখে চীন।
বিজ্ঞাপন