বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের কাছে নতুন নৌঘাঁটি করছে ভারত, কারণ কী?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
চীনা নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান তৎপরতা এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ঘিরে পরিবর্তিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উত্তর বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে সামুদ্রিক উপস্থিতি জোরদার করতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় একটি নতুন নৌঘাঁটি স্থাপন করতে যাচ্ছে দেশটির নৌবাহিনী।
শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাত দিয়ে গেল শনিবার (১০ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, এই স্থাপনাটি একটি নৌ ‘ডিটাচমেন্ট’ হিসেবে কাজ করবে, যেখানে মূলত ছোট আকারের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, নতুন নৌঘাঁটির জন্য বিদ্যমান হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স ব্যবহার করা হবে। ফলে অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণ ছাড়াই দ্রুত ঘাঁটিটি কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ভারতীয় নৌবাহিনী। প্রাথমিকভাবে একটি নির্দিষ্ট জেটি ও তীরভিত্তিক সহায়ক স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।
এই ঘাঁটিতে ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট (এফআইসি) এবং ৩০০ টন ওজনের নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট (এনডব্লিউজেএফএসি) মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উচ্চগতিসম্পন্ন নৌযান ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ নট গতিতে চলতে সক্ষম এবং দ্রুত সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনার উপযোগী।
এগুলো ‘CRN-91’ বন্দুক দিয়ে সজ্জিত এবং ‘নাগাস্ত্র’ সিস্টেমের মতো যুদ্ধাস্ত্র সক্ষমতায় সজ্জিত হতে পারে, যা নির্ভুল আঘাত এবং নজরদারিতে বড় ভূমিকা রাখে।
কেন এই নৌঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে এই পদক্ষেপের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির ক্রমবর্ধমান তৎপরতা, সামুদ্রিক অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ এবং সমুদ্রপথে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধ প্রবেশের ঘটনা অন্যতম।
ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ উপস্থিতি, বাংলাদেশের সঙ্গে বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে হলদিয়ার এই নৌঘাঁটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে।
কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটি হুগলি নদীপথের দীর্ঘ যাতায়াত এড়িয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের কৌশলগত সুবিধাও দেবে।
শতাধিক নৌ কর্মকর্তা ও নাবিক মোতায়েন
নতুন এই নৌঘাঁটিটি তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের হবে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে। সেখানে আনুমানিক ১০০ জন নৌ কর্মকর্তা ও নাবিক মোতায়েন করা হবে, যা থেকে বোঝা যায় এটি পূর্ণাঙ্গ কমান্ড নয়।
বর্তমানে বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের সদর দফতরসহ আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হলদিয়ায় নৌঘাঁটির জন্য জমি আগেই নির্ধারিত ছিল, তবে নির্মাণকাজ ঝুলে ছিল।
এই উদ্যোগ ভারতীয় নৌবাহিনীর সামগ্রিক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০২৪ সালে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (ডিএসি) ১২০টি ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট এবং ৩১টি এনডব্লিউজেএফএসি কেনার অনুমোদন দেয়।
প্রায় ১০০ টন ওজনের এসব নৌযানে ১০ থেকে ১২ জন সদস্য বহন করা যায় এবং এগুলো উপকূলীয় টহল, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, বন্দর নিরাপত্তা ও বিশেষ অভিযানের জন্য উপযোগী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের নৌ সামরিক অবস্থান ভারতের জন্য সমুদ্রপথ সুরক্ষা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং এই অঞ্চলের ‘প্রধান নিরাপত্তা সরবরাহকারী’ হিসেবে ভূমিকা রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন