Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২ যুদ্ধজাহাজ, আসছে বৃহত্তম রণতরী

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২ যুদ্ধজাহাজ, আসছে বৃহত্তম রণতরী

বিজ্ঞাপন

ইরান ইস্যুতে অস্থিরতার মধ্যে আরও মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে। ইরানের সামরিক কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভ নিয়ে ওয়াশিংটন যখন চাপ বাড়াচ্ছে, তখন এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বুধবার অল্প সময়ের জন্য মরক্কোর আটলান্টিক উপকূলের কাছে নিজের অবস্থান জানান দেয়। ৪৮ মিনিটের জন্য প্রকাশ্যে থাকা ওই অবস্থানের তথ্য অনুযায়ী জাহাজটি ভূমধ্যসাগরের দিকে এগোচ্ছিল।

তবে এখনো পর্যন্ত রণতরীটিকে জিব্রাল্টার প্রণালী পেরিয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি। বরং জাহাজটির সঙ্গে যুক্ত একটি বিমান বৃহস্পতিবার আবার আটলান্টিকের দিকে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে দ্বিতীয় দফায় বৈঠক করেন, যেখানে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, ‘সম্ভবত, আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিশ্ব জানতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে, নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেবে।’

সোমবার বিবিসি ভেরিফাই ইরান থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে ওমান উপকূলের কাছে আরেকটি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে শনাক্ত করে।

মার্কিন নৌবাহিনীর ১১টি বিমানবাহী রণতরীর মধ্যে দুটি এই অঞ্চলে পৌঁছানো মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রমাণকে আরও জোরদার করছে। বিবিসি ভেরিফাই ডেস্ট্রয়ার এবং যুদ্ধবিমানের সংখ্যাও বাড়তে দেখেছে।

জেরাল্ড আর ফোর্ড ও আব্রাহাম লিংকন—উভয়ই একাধিক গাইডেড মিসাইলবাহী ডেস্ট্রয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের নেতৃত্ব দেয়। প্রতিটি রণতরীতে ৫ হাজার ৬০০ জনের বেশি নাবিক এবং বহু যুদ্ধবিমান থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে কী কী সামরিক সম্পদ মোতায়েন করেছে?

ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড চলতি বছর প্রথমবারের মতো বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় আটলান্টিকের মরক্কো উপকূলে স্বয়ংক্রিয় জাহাজ-পরিচিতি ব্যবস্থা চালু করে। জাহাজটি ১টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত নিজের অবস্থান জানায় দেয়, তখন সেটি ভূমধ্যসাগরের দিকে যাচ্ছিল।

তবে বুধবার স্পেনে অবতরণ করা রণতরীর একটি পরিবহন বিমানকে বৃহস্পতিবার প্রায় দুপুর ১টার দিকে সেই এলাকায় ফিরে যেতে দেখা যায়, যেখানে জাহাজটি আগে দেখা গিয়েছিল।

এর আগে বিবিসি ভেরিফাই ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে আরব সাগরে ওমান উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরে, ইউরোপীয় সেনটিনেল-২ উপগ্রহের তোলা প্রকাশ্য ছবিতে শনাক্ত করে।

জানুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবেশের পর থেকে লিংকনকে আর দেখা যায়নি, কারণ এটি খোলা সমুদ্রে চলাচল করছিল, যেখানে উপগ্রহ নজরদারি সীমিত।

বিবিসি ভেরিফাই এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে ১২টি মার্কিন জাহাজের উপস্থিতি নজরে রেখেছে: আব্রাহাম লিংকনসহ তিনটি আরলি বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার নিয়ে একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ; এছাড়া দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে সক্ষম আরও দুটি যুদ্ধজাহাজ; উপকূলীয় যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য তিনটি বিশেষায়িত জাহাজ, যেগুলো বর্তমানে বাহরাইন নৌঘাঁটিতে অবস্থান করছে। আরও দুটি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সুদা বে মার্কিন ঘাঁটির কাছে এবং একটি লোহিত সাগরে দেখা গেছে।

এছাড়া ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র বিপুলসংখ্যক বিমান মোতায়েন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে: এফ-৩৫ ও এফ-২২ যুদ্ধবিমান, কেসি-১৩৫ ও কেসি-৪৬ রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার, ই-৩ সেন্ট্রি কমান্ড ও নজরদারি বিমান।

ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে?

সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ইরানও শক্তি প্রদর্শন করেছে। গত সোমবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ওমান ও ইরানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক মহড়া চালায়। মহড়ায় আইআরজিসি প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরকে একটি বন্দরে নৌযান পরিদর্শন করতে দেখা যায় এবং পরে একটি জাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্যও প্রচারিত হয়।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং তেল পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথ। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার মধ্যে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ওমান উপসাগরে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌমহড়ার ফুটেজও দেখানো হয়, যেখানে একটি জাহাজ উদ্ধারের মহড়া প্রদর্শন করা হয়।

ভেনেজুয়েলা ও অপারেশন ‘মিডনাইট হ্যামার’-এর সঙ্গে তুলনা

সামরিক বিশ্লেষক জাস্টিন ক্রাম্প বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের আগে বা গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর তুলনায় বেশি বড় ও টেকসই।

গত বছর ইরানের ওপর হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ, ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরে পাঁচটি ডেস্ট্রয়ার এবং উপসাগরে তিনটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছিল। ইউরোপেও যুদ্ধবিমান ও রিফুয়েলিং বিমান পাঠানো হয়েছিল।

ক্রাম্প বলেন, বর্তমান বাহিনী গঠন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিদিন প্রায় ৮০০টি পর্যন্ত বিমান পরিচালনার সক্ষমতা দিতে পারে, যার উদ্দেশ্য হবে ইরানের যেকোনো পাল্টা জবাবকে অকার্যকর করে দেওয়া।

তিনি বলেন, ‘আমরা যা দেখছি, তা কেবল হামলার প্রস্তুতি নয়; বরং এমন একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যা পরিস্থিতি অনুযায়ী বাড়ানো বা কমানো যায়। এটি গত বছরের ভেনেজুয়েলা বা মিডনাইট হ্যামার অভিযানের তুলনায় বেশি ব্যাপক ও স্থায়িত্বসম্পন্ন।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার