বিজ্ঞাপন
ইরানে হামলা করলে ভিয়েতনামের তেঁতো স্বাদ পেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র ভিয়েতনাম। বর্তমানে সুসম্পর্ক থাকলেও এই নামের সঙ্গে মধু নেই, আছে তিক্ততা। কারণ, দেশটি পাঁচ দশক আগে মার্কিন সেনাদের নাকানিচুবানি খাইয়েছিল। অজেয় এই বাহিনীর (মার্কিন) পরাজয়ের সেই লজ্জা ও আতঙ্ক বহুদিন কুরে কুরে খেয়েছে আমেরিকানদের। অর্ধশতাব্দি পর যুক্তরাষ্ট্র আবার সেই ‘ফাঁদে পড়তে’ যাচ্ছে বলে খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেনারেল ও সহকারীরাও আশঙ্কা করছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামে কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়েছিলেন মার্কিন সেনারা। ১৯৬০-এর দশকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন ও অন্য কমিউনিস্ট মিত্রদেশগুলো উত্তর ভিয়েতনামকে সমর্থন করে, আর যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড এবং অন্য কমিউনিস্টবিরোধী মিত্রদেশগুলো দক্ষিণ ভিয়েতনামকে সমর্থন দেয়।
সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৮ সহস্রাধিক সৈন্য নিহত হয় এবং প্রায় ১৬৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় হয়। এই বিপুল ব্যয়ের কারণে তৎকালীন মার্কিন সরকারের নেওয়া 'গ্রেট সোসাইটি' তথা দারিদ্র্য ও বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নাগরিক অধিকার উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া একগুচ্ছ উচ্চাভিলাষী সামাজিক সংস্কার কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া দেশটিতে দেখা দেয় মুদ্রাস্ফীতি।
এতকিছুর পরও যুদ্ধে ব্যর্থতা মার্কিন সামরিক বাহিনীর অপরাজেয়তার মিথ ভেঙে দেয় এবং দেশের ভেতরে যুদ্ধের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়। এই পরাজয় দেশটির জনগণের মধ্যেও দীর্ঘস্থায়ী ভীতি তৈরি করে, যার কারণে তারা পরবর্তী বহু বছর বিদেশের মাটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ছিল।
এক দশক বছর পর যুক্তরাষ্ট্র ফের সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। ১৯৮৩ সালে গ্রেনাডা এবং ১৯৮৯ সালে পানামা আক্রমণ করেছিল দেশটি। এরপর ১৯৯১ সালে ইরাকের উপসাগরীয় যুদ্ধে হস্তক্ষেপ এবং ২০০১ সালে আফগানিস্তান ও ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ করে মার্কিন বাহিনী। এখানেও আছে বাজে অভিজ্ঞতা।
ইরাক আক্রমণ করে ‘রেজিম চেঞ্জ’ তথা শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে পারলেও দেশটিতে তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রজন্ম ও মিলিশিয়া বাহিনী, যেগুলো পরোক্ষভাবে এখন নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান। এমনকি শিয়া প্যারামিলিটারি গ্রুপটি এখন তেহরানের পক্ষে যেকোনো যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত।
এছাড়া আফগানিস্তানেও যুক্তরাষ্ট্রের দুই দশকের আগ্রসন ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘ সময় যুদ্ধ করতে গিয়ে শুধু মার্কিন সৈন্যই নিহত হয়েছে আড়াই হাজারের মতো। এর বাইরে ন্যাটোরও বহু সৈন্যের সমাধি হয়েছে তালেবানের ঘাঁটিতে।এই আগ্রসনে যুক্তরাষ্ট্র এক ট্রিলিয়নের বেশি অর্থ ব্যয় করেছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ ঋণ বাড়িয়ে দিয়েছে।বিপুল প্রাণহানী ও অর্থ ব্যয়ের পরও পশ্চিমা সৈন্যদের দেশটি ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে তালেবান।
ইহুদিবাদী ইসরাইল ২০২৫ সালের জুনে ইরান আক্রমণ করেছিল। তাদের উসকানিতে ১২ দিনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্রও। ইরানের কয়েকটি পরমাণু কেন্দ্রে বাঙ্কার বাস্টার বোমা মেরে সেগুলো ধ্বংস করতে সেই হামলা চালায়। এতে পরমাণু কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ, তবে পাল্টা হামলা চালিয়ে ইরান যে সাহস ও সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে তা ভাবিয়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের।
তেহরানের জবাব নামকাওয়াস্তে হলেও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে গিয়ে পড়েছিল। পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞায় জর্জড়িত দেশটির সেই অর্জন সবাইকে চমকে দিয়েছে।ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জবাবের প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে যুদ্ধ শেষ করে ওয়াশিংটন।
ইসরাইল নাছোড়বান্দা, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অক্ষত ছাড়তে রাজি নয়। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বুঝিয়েছেন যে, ইরান ইসরাইলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।
তেহরানকে প্রধান শত্রু বিবেচনা করে নেতানিয়াহুর অলিখিত শর্ত, ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচি বন্ধ, অথবা দেশটির শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনে আগ্রাসন চালাতে হবে। যেকোনো মূল্যে দেশটিকে দুর্বল করতে হবে।
হামলার উদ্দেশে মার্কিন প্রস্তুতি
যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল যুদ্ধ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও বেশ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার আরব সাগরে মোতায়েন করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। এছাড়া ইরানকে ঘিরে আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত দুই ডজন সামরিক ঘাঁটিতে অর্ধলক্ষাধিক মার্কিন সেনা মোতায়েন করা আছে।এছাড়া অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সাবমেরিনসহ উপসাগরীয় এলাকায় বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্রও আছে যুক্তরাষ্ট্রের।
এই বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্রকে ইরানে আগ্রাসন চালানোর জন্য যথেষ্ট মনে করছে না ট্রাম্প প্রশাসন।সেনা সদস্যদের মনোবল বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে আনা হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকেও। এগুলো একেকটি আস্ত দানবীয় সামরিক ঘাঁটি। এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটারসহ তিন শতাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরান আগ্রাসনে মার্কিন মিত্রদের অবস্থান
বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ও অভিযানে সবার আগে সহযোগী হয়ে পাশে দাঁড়ায় যুক্তরাজ্য।নানাভাবে সহায়তার পাশাপাশি সরাসরি জড়িয়ে যায় ওয়াশিটনের শুরু করা প্রায় সব সংঘাতে। এছাড়া পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো এবং ইউরোপ ও আমেরিকার মিত্ররা সেনা সদস্য ও সমরাস্ত্র নিয়ে অংশগ্রহণ করে।ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া ও সিরিয়ায় আগ্রসন এর সাম্প্রতিক উদাহরণ। কিন্তু ইরান আক্রমণের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র।
তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে আরব ও ইউরোপীয় মিত্রদের বরাবরই টেবিলের চারপাশে পায় ওয়াশিংটন। কিন্তু ইরান আক্রমণের বেলায় পাশে দাঁড়ায়নি কেউ। এমনকি আশপাশের যত দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে তারা সবাই আগেভাগে তাদের আকাশ ও ভূমি ব্যবহার করতে দেবে না বলে সাফ জানিয়েছে দিয়েছে।
কথিত শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্বের কারণে সৌদি, আমিরাত, কাতার, বাহরাই ও ইরাকের মতো আরব দেশগুলো ইরান আক্রমণে সহযোগিতা করবে না- এটা কয়েক বছর আগেও বিশ্বাসযোগ্য ছিল না। কিন্তু এবার তা ঘটেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে খোদ যুক্তরাজ্যও। কাতার, আমিরাত ও বাহরাইনে দেশটির সামরিক ঘাঁটি থাকলেও সেগুলো তারা ব্যবহার করতে পারবে না।
এমনকি ওমান, যে দেশটি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ হরমুজ প্রণালীর সীমানায় অবস্থিত, সেখানে যুক্তরাজ্যের তিনটি ঘাঁটি আছে এবং ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি থাকলেও সেগুলো এখন স্রেফ ‘শো-পিস’।শুধু তাই নয়, ভারত মহাসাগরে দিয়েগো গার্সিয়া নামে যুক্তরাজ্যের একটি নিজস্ব অঞ্চল আছে, যা বর্তমানে ওয়াশিংটনের কাছে লিজ দেওয়া আছে। সেখানেও যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি আছে, কিন্তু তা ব্যবহার করতে দেবে না লন্ডন। কারণ একটাই; কেউ যুদ্ধ নিজ দেশে নিতে চাচ্ছে না বা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না।
এছাড়া তুরস্ক ন্যাটো সদস্য হলেও সরাসরি ইরান আক্রমণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হামলার পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানকে প্রাধান্য দিচ্ছে। আলোচনায় বসার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগও আঙ্কারাই করেছিল।
ইরানে হামলা করলে কী হতে পারে
ট্রাম্প যদি তার সহকারী ও শীর্ষ জেনারেলদের পরামর্শ উপেক্ষা করে শুধু ইসরাইলের ‘ফাঁদে পা দিয়ে’ সত্যিই ইরানে আক্রমণ করেন। তাহলে একটি দীর্ঘ মেয়াদি যুদ্ধ বেধে যেতে পারে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও বার বার সতর্ক করেছেন যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভূমিতে যেকোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। পাল্টা আক্রমণ হবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব স্থাপনায়।
যুক্তরাষ্ট্র যেমন তেহরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তেমনি নিজেদের গুছিয়ে রেখেছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র যোদ্ধা গোষ্ঠী হুথি, ইরাকের প্যারামিলিটারি বাহিনী হাশদ-আল শাবি ও লেবাননের হিজবুল্লাহ। ইরাকের হাশদ-আল শাবিরই শুধু ৬০টিরও বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী আছে। এরা সবাই এক যোগে মার্কিন রণতরী ও ইসরাইলে হামলা করবে, যা ফেরানো ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।
গাজায় ইসরাইলের সর্বশেষ দুই বছরের আগ্রসন চলাকালে হুথি আরব সাগরে তেল আবিবমুখী ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বহু জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ডুবিয়ে দিয়েছে।এ কাজে তারা ইতোমধ্যে হাত পাকিয়েছে।মার্কিন রণতরীগুলোও হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের বাইরে নয়। এছাড়া খামেনিও সম্প্রতি সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের রণতরীগুলো সত্যিকার অর্থেই অনেক শক্তিশালী, কিন্তু এসব নিয়ে ইরানিরা ভাবেন না। কারণ, তাদের কাছে এর চেয়েও ভয়ঙ্কর ও বিধ্বংসী অস্ত্র আছে, যা সাগরেই ওই রণতরীগুলোকে ডুবিয়ে দিতে সক্ষম। এর মধ্যেই গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর বের হয় যে, চীন থেকে জাহাজ বিধ্বংসী সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল কিনছে ইরান।
গোয়েন্দা তৎপরতায় চীনের সহযোগিতায় অনেক বড় ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাচ্ছে ইরান। গত জানুয়ারিতে নজিরবিহীন সহিংস বিক্ষোভ হলেও ইসরাইলি কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হয় তেহরান। এরপর বহু গুপ্তচরও গ্রেপ্তার হয়েছে।এ কাজে মূলত চীন সহযোগিতা করছে বলে আলোচনা আছে।এই সহযোগিতা সম্ভাব্য আগ্রাসনে আরও বেশি জোরদার হতে পারে।
ইরান যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র ভরসা দুটি যুদ্ধ বিমানবাহী রণতরী ও বেশ কিছু ডেস্ট্রয়ার। এগুলো যদি সত্যিই সাগরে ডুবিয়ে দিতে সক্ষম হয় ইরান বা হুথিরা, তাহলে এ অঞ্চলে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করবে কিনা
তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেয় তুরস্ক। এরই অংশ হিসেবে গত জানুয়ারির শেষ দিকে বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। এরপর ওমানে প্রথম দফায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা এবং পরে জেনেভায় দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে। একই সঙ্গে হুমকি অব্যাহত রাখলেও ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিচ্ছেন না।
এমনকি ট্রাম্পের সহকারীরাও তাকে ইরান আক্রমণের পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি কমানো ও মার্কিন অর্থনীতির দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং দেশটির শীর্ষ জেনারেলরাও সম্ভাব্য হামলাটি বিপজ্জনক হতে পারে বলে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন- এ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি খবর সম্প্রতি স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বেরিয়েছে। এমনকি সর্বশেষ ২৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প নিজেও বলেছেন যে, তিনি কূটনৈতি সমাধানকেই বেশি প্রাধান দিচ্ছেন, তবে প্রয়োজনে হামলাও করতে পারেন।
এরপরও শুধু ইসরাইলের চাপে যুক্তরাষ্ট্রকে যদি হামলার পথ বেছে নিতেই হয়, তাহলে তা গত বছরের জুনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।সীমিত পরিসরে একটি বোঝাপড়ার হামলা হতে পারে, যা তেল আবিবকে সন্তুষ্ট করবে।
ইসরাইল কী করতে পারে
ওয়াশিংটনের ওপর ধৈর্যচ্যুতি ঘটলে ইসলরাইল নিজেও আগ বাড়িয়ে ইরানে হামলা করতে পারে। এর বেশ কয়েকটি কারণ আছে। আগামী অক্টোবরে ইসরাইলে পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা আছে। আসন্ন ভোটযুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার সম্ভাবনাও প্রকট। এমতাবস্থায় একটি যুদ্ধ বাধিয়ে ইরানকে কাবু করে নিজ নাগরিকদের কাছে নায়ক বনে যেতে চান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
এটি ঘটার সম্ভাবনাই বেশি। এ কারণে ইসরাইলকে ২৫ ফেব্রুয়ারি নতুন করে আরও ৫০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধ বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ডও ইসরাইলের হাইফা বন্দরে নোঙ্গর করবে। সেখান থেকে কবে আরব সাগরে দিকে রওনা হবে, কিংবা আদৌ রওনা হবে কিনা- তা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। ধারণ করা হচ্ছে, গত বছরের মতো ইসরাইলই আগ বাড়িয়ে ইরান আক্রমণ করতে পারে, সেক্ষেত্রে গোপনে তেল আবিবকে রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
ইরান আক্রমণের সম্ভাব্য পরিণতি
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালী বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। এর ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ইরান। দেশটি বরাবরই হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করলে তারা এই পানিপথ বন্ধ করে দেবে। এটি ইরানের জন্য বিশ্ব মোড়লদের নিয়ন্ত্রণ করার অন্যতম লাগাম।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের প্রধান তেল করিডোর। এই পথে পৃথীবিতে ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের এক-চতুর্থাংশেরও পরিবহণ করা হয়। আবার গ্যাস সরবরাহেরও মূল পথ। বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এশিয়া ও ইউরোপে গ্যাস পাঠানোর এটিই প্রধান মাধ্যম। তাই এ পথ বন্ধ হয়ে গেলে ইউরোপ ও আমেরিকায় হাহাকার শুরু হয়ে যাবে, যে ঝুঁকি তারা কখনেই নিতে চাইবে না।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও সামগ্রিকভাবে পশ্চিমা সাম্রাজ্য ভেঙে পড়তে পারে।আবার এ অঞ্চলে একমাত্র ভরসাস্থল ইরানকে বাঁচাতে চীন ও রাশিয়া সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধও বেধে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
[বিভিন্ন সংবাদ ও উইকিপিডিয়া থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে]
বিজ্ঞাপন