Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ইরানের হামলায় কোন কোন সমরাস্ত্র ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

ইরানের হামলায় কোন কোন সমরাস্ত্র ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের শুরুতে ইরানে দ্রব্যমূল্যের দ্রুত বৃদ্ধি জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। দ্রুত তা বিস্তৃত বিক্ষোভে রূপ নেয়, যা শেষ পর্যন্ত সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। ইরান সরকার কঠোর হস্তে বিক্ষোভ দমন করে, এতে বহু মানুষ হতাহত হয়। এই পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের হুমকি দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

এর প্রভাব পড়ে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনার মঞ্চেও। তবে ওয়াশিংটন শুধুই আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনার দুই দিন পরই ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ হামলা চালানো হয় ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর ওপর। এই হামলায় অন্তত দুই শতাধিক ইরানির নিহত হয়। এর মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছে।

জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা চালায়, যার ফলে অন্তত আটজনের প্রাণহানি হয়। এদিকে খামেনিকে হারিয়ে পুরো দেশ শোকে স্তব্ধ। এই এমবতাবস্থায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস বা আইআরজিসি প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রাখে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্র মোতায়েন করেছিল। এই তালিকায় রয়েছে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, স্টিলথ ফাইটার জেট ও যুদ্ধে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা ইরানি নকশার স্বল্পমূল্যের একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে এই হামলার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তারা টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, এফেএ-১৮ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ছবি ও ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে। খবর রয়টার্সের।

ড্রোন

মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অ্যারিজোনার ফিনিক্সভিত্তিক স্পেকট্রওয়ার্কস নির্মিত নতুন লুকাস (স্বল্পমূল্যের) ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ছবি দেখে ইরানের শাহেদ ড্রোনের আদলে এটি তৈরি করা হয়েছে। এই কামিকাজে ড্রোনগুলো সস্তা ও একাধিক নির্মাতার মাধ্যমে উৎপাদন হবে।

লুকাস ড্রোনের প্রতিটির মূল্য প্রায় ৩৫ হাজার ডলার। ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সাশ্রয়ী মূল্যের’ ড্রোন কৌশলের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র

টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল সমুদ্র থেকে বা স্থল থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করতে সক্ষম। এটি ১ হাজার মাইল (প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার) দূর থেকে নির্ভুল আঘাত করতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্রটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ ফুট (৬ দশমিক ১ মিটার), ডানার প্রস্থ ৮ দশমিক ৫ ফুট এবং ওজন প্রায় ৩ হাজার ৩৩০ পাউন্ড (১ হাজার ৫১০ কেজি)।

২০২৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৫৭টি এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পরিকল্পনা করেছে। প্রতি ইউনিটের দাম প্রায় ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার।

রেথিয়ন ও পেন্টাগনের সাম্প্রতিক চুক্তির লক্ষ্য টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বার্ষিক উৎপাদন ১ হাজার ইউনিটে উন্নীত করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র সেনাবাহিনী জিপিএস-সক্ষম টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। ইতোমধ্যে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের স্থানে নৌবাহিনী এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যেখানে মার্কিন ও যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনী একযোগে টেস্ট চালিয়েছিল।

যুদ্ধবিমান

এফ-৩৫ পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার, যা রাডার সনাক্তকরণ এড়াতে এবং সুনির্দিষ্ট হামলা চালাতে সক্ষম। আকাশ থেকে আকাশ ও আকাশ থেকে ভূমি উভয় ধরনের মিশন পরিচালনা করতে পারা এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমান। দুই ধরনের জেটই বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র এবং বোমা বহন করতে সক্ষম।

এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান শত্রুর রাডার শনাক্তকরণ ব্যবস্থা খুঁজে বের করে ধ্বংস করতে পারে, ফলে আকাশে সুরক্ষা ও আক্রমণের সুবিধা বৃদ্ধি পায়। ইসরায়েলি বিমান বাহিনীরাও এই জেটগুলো ব্যবহার করছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার