বিজ্ঞাপন
মসজিদে আকসায় তারাবিহ বন্ধ— যা বললেন খতিব ইকরিমা সাবরি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
জরুরি অবস্থার অজুহাতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদে আকসায় নামাজ ও তারাবিহ বন্ধ রেখেছে ইসরাইলি। ইসরাইলের এমন সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলেছেন আল-আকসা মসজিদের খতিব ও জেরুজালেমের ইসলামিক হাই কাউন্সিলের প্রধান শায়খ ইকরিমা সাবরি।
তিনি বলেছেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণার অজুহাতে মসজিদুল আকসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কোনো বৈধতা নেই। এর মাধ্যমে ইসরাইল কর্তৃপক্ষ মসজিদের ওপর আধিপত্য চাপিয়ে দিতে চায়।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মসজিদ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তারাবিহর নামাজ আদায় করতে দেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, ইসরাইল কর্তৃপক্ষ যেকোনো সুযোগে আল-আকসা বন্ধের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
ফিলিস্তিনি জেরুজালেম গভর্নরেটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শনিবার ভোরে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকে ঘোষিত জরুরি অবস্থার অজুহাতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পূর্ব জেরুজালেম, পুরনো শহর ও আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা হয়েছে। মুসল্লি ও রোজাদারদের মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
শায়খ সাবরি জানান, শনিবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই মসজিদ থেকে সব মুসল্লি, শরিয়াহ আদালতের কর্মী ও শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া হয়। শুধু প্রহরীরা ভেতরে রয়েছেন।
তিনি বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতে পুলিশের এই পদক্ষেপ ইবাদতের স্বাধীনতার পরিপন্থি এবং এর মাধ্যমে ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে।
তার মতে, মসজিদ বন্ধ রাখার ফলে হাজার হাজার মুসল্লি এশা ও তারাবিহর নামাজ আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে ওয়াদি হিলওয়া তথ্যকেন্দ্র এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরাইলি হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশে জরুরি অবস্থা জারি ও জমায়েত নিষিদ্ধ করার পর আল-আকসা সম্পূর্ণ খালি রয়েছে। পুরনো শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে, শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বেকারিগুলো খোলা আছে। বাব আস-সাহেরা চেকপয়েন্টে মোতায়েন বাহিনী স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়া অন্য কাউকে পুরনো শহরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
শনিবার ইসরাইলি পুলিশ এশা ও তারাবিহর নামাজ আদায়ে বাধা দেয়। খুব অল্পসংখ্যক কর্মচারী ছাড়া কেউ নামাজ আদায় করতে পারেননি। জেরুজালেম গভর্নরেট জানায়, চলতি রমজানের শুরু থেকে তারাবিহতে মুসল্লির সংখ্যা ৩৫ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত ছিল।
এদিকে মানবাধিকার সংস্থা ও গভর্নরেট জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় জেরুজালেমের সিলওয়ানের আইন আল-লওজা, আল-ইসাওইয়া ও পুরনো শহর এলাকায় রকেটের ধ্বংসাবশেষ পড়ে।
একই অজুহাতে দক্ষিণ পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে অবস্থিত ইব্রাহিমি মসজিদও বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন