বিজ্ঞাপন
আইআরজিসির নতুন কৌশল: ‘সুইসাইড ড্রোনে’ দিশেহারা যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
বিজ্ঞাপন
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনা চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে পৌঁছে এক নতুন কৌশলগত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাদের সামরিক অভিযানে দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে আক্রমণকে আরও সুসংগঠিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করেছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ এলাকা ও দূরবর্তী মার্কিন কৌশলগত স্থাপনাগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও স্বল্পপাল্লার হামলার দায়িত্ব পেয়েছে আইআরজিসি নৌবাহিনী।
‘সুইসাইড ড্রোন’—স্বল্প ব্যয়ে বড় আঘাত
ইরান এই সংঘাতে কম খরচে উচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আত্মঘাতী বা ‘সুইসাইড ড্রোন’ ব্যবহার করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব ড্রোন উৎপাদন ও মোতায়েনের খরচ অত্যন্ত কম হলেও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর এর চাপ ব্যাপক। ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসা ড্রোন প্রতিহত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন স্বীকার করেছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—‘থাড’ ও ‘প্যাট্রিয়ট’—ড্রোন হামলার চাপে পড়েছে। বিশেষ করে নিচ দিয়ে উড়ে আসা ড্রোনগুলো রাডার এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হওয়ায় চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে।
উপসাগরীয় ঘাঁটিগুলো প্রধান লক্ষ্য
দক্ষিণ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন হামলার কেন্দ্রবিন্দুতে। বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন নৌ ও বিমান ঘাঁটিতে একাধিক দফায় ড্রোন আক্রমণের দাবি করা হয়েছে।
কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইরানি সূত্র দাবি করেছে। একইভাবে, মানামায় অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌ-বহরের সদর দপ্তরেও ড্রোন হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ক্যাম্প আরিফজানেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।
কৌশলের পেছনের বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান একদিকে অর্থনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে চাইছে, অন্যদিকে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বার্তাও দিচ্ছে। ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তুলনামূলক কম দামের ড্রোন ব্যবহার করে তারা দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি করার কৌশল নিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এখন সরাসরি সামরিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে পরবর্তী কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
বিজ্ঞাপন