বিজ্ঞাপন
৩০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন থাড রাডার ধ্বংস করল ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০১:১৫ এএম
বিজ্ঞাপন
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধাক্কার খবর সামনে এসেছে। মার্কিন দম্ভের প্রযুক্তিকে ফাঁকি দিয়ে থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করে নিজেদের সক্ষমতার জানান দিল তেহরান। এই প্রযুক্তি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বজায় রেখেছিল ওয়াশিংটন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, জর্ডানে মোতায়েন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি থাড রাডার ধ্বংস করেছে ইরান। এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার। শনিবার (৭ মার্চ) একজন মার্কিন কর্মকর্তা রাডারটি ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণ থেকে দেখা গেছে, যুদ্ধের শুরুর দিকে জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি রাডার ধ্বংস হয়। এটি ছিল আরটিএক্স কর্পোরেশনের তৈরি এন/টিপিওয়াই-২ রাডার, যা টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরে
থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স ডেমোক্র্যাসির তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানে ইরানের দুটি হামলার খবর পাওয়া গেছে, একটি ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং আরেকটি ৩ মার্চ। এই দুই হামলাই প্রতিরোধ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
সংস্থাটির সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি কেন্দ্রের উপপরিচালক রায়ান ব্রবস্ট বলেন, যদি এই হামলা সফল হয়ে থাকে, তাহলে থাড রাডারের ওপর আঘাত ইরানের অন্যতম বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আরও কিছু রাডার ব্যবস্থা রয়েছে, যা আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা চালিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
থাড ব্যবস্থা মূলত বায়ুমণ্ডলের প্রান্তে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার জন্য তৈরি। তাই এটি স্বল্প-পাল্লার এমআইএম-১০৪ প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় আরও কঠিন হুমকি মোকাবেলা করতে পারে। কিন্তু এএন/টিপিওয়াই-২ রাডারটি অকেজো হয়ে গেলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের বড় দায়িত্ব পড়বে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ওপর, যেখানে প্যাক-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ইতোমধ্যেই সীমিত।
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আটটি থাড ব্যবস্থা রয়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামেও ইউনিট মোতায়েন আছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি থাড ব্যাটারির দাম প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে শুধু রাডারের মূল্যই প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার।
সংস্থাটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো বলেন, ‘এগুলো অত্যন্ত দুর্লভ কৌশলগত সম্পদ। এর ক্ষতি বড় ধরনের ধাক্কা।’ তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আটটি থাড ব্যাটারি ২০১২ সালে নির্ধারিত প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়েও কম, ফলে অতিরিক্ত রাডার সহজে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।
একটি থাড ব্যাটারিতে সাধারণত প্রায় ৯০ জন সেনা থাকে, ছয়টি ট্রাক-মাউন্টেড লঞ্চার, ৪৮টি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র, একটি টিপিওয়াই-২ রাডার এবং একটি ফায়ার কন্ট্রোল ও যোগাযোগ ইউনিট থাকে। প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে লকহিড মার্টিন, যার দাম প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার।
গবেষকদের মতে, যুদ্ধের শুরুতেই কাতারে থাকা একটি প্রাথমিক সতর্কীকরণ রাডারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেটি ছিল এএন/এফপিএস-১৩২ রাডার, যা দূর থেকে হুমকি শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও সরাসরি প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয় না।
এদিকে ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, থাড ও প্যাক-৩–এর মতো উন্নত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স কর্পোরেশনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছে, যেখানে পেন্টাগন দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা, এনডিটিভি
বিজ্ঞাপন