বিজ্ঞাপন
ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে ইসরায়েল? যা বলছেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
বিজ্ঞাপন
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না— এমন বিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, ইসরায়েল কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না।
যদিও তারই এক উপদেষ্টা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর কথাও বলেছেন ট্রাম্প। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড
সোমবার (১৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প তার উপদেষ্টা ডেভিড স্যাক্সের সতর্কতাকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, ইসরায়েল কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল এটা করবে না, কখনোই করবে না।’
ট্রাম্প প্রশাসনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন ডেভিড স্যাক্স। সম্প্রতি তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে খারাপ দিকে মোড় নিতে পারে। তার মতে, সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ নেয়া উচিত।
নিজের ‘অল-ইন’ পডকাস্টে স্যাক্স বলেন, যুদ্ধ যদি কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে চলতে থাকে, তাহলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপে পড়তে পারে। এতে করে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দীর্ঘ লড়াইয়ে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে পারমাণবিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাব হরমুজ প্রণালিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের পথ। বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌ মাইন ব্যবহার করে এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল লক্ষ্যবস্তু করছে। এতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প আবারও মিত্র দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দেশ এ বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘কেউ খুব আগ্রহী, আবার কেউ নয়’। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশকে সুরক্ষা দিয়েছে, তাদের এই আগ্রহের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশ জানিয়েছে, আপাতত তারা এই প্রণালিতে নৌবাহিনী পাঠানোর কোনও পরিকল্পনা করছে না।
ইরানের নেতৃত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা বলেছেন ট্রাম্প। তার মতে, ইরান হয়তো যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী, তবে বর্তমানে দেশটির নেতৃত্বে কে আছেন, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই।
যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু একটি হামলার পর তার অবস্থাও স্পষ্ট নয় বলে জানান ট্রাম্প। ফলে সম্ভাব্য আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে কে প্রতিনিধিত্ব করবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা জানি না তাদের নেতা কে। কেউ আলোচনা করতে চায়— এমন সংকেত পাচ্ছি, কিন্তু তারা কারা, সেটাও স্পষ্ট নয়।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর তা উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়েছে।