Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৫০ এএম

ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত

বিজ্ঞাপন

ইরানের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র (প্রজেক্টাইল) আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। আইএইএ বলছে, ইরান তাদের জানিয়েছে যে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ঘটনাটি ঘটে। 

এক বিবৃতিতে আইএইএ জানিয়েছে, এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কোনো ক্ষতি হয়নি। সেখানকার কর্মীদের মধ্যে কারও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

চলমান এ সংঘাতে সকলকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি। তিনি বলেন, এতে পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে। খবর-বিবিসি

ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক স্থাপনা এলাকায় আঘাত হানে।

ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, এই ঘটনায় কোনো আর্থিক, প্রযুক্তিগত বা মানবিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রটি অক্ষত রয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, পারমাণবিক স্থাপনায় এমন সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। সতর্ক করে সংস্থাটি বলেছে, এই ঘটনার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলসহ পুরো এলাকায় ভয়াবহ পরিণতি হতে পারত।

তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে: রাশিয়া

এদিকে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

রুশ রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম এর প্রধান আলেকসেই লিখাচেভ বিবৃতিতে বলেন, এই হামলার ‘কঠোর নিন্দা’ জানাচ্ছে রোসাটম। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে পারমাণবিক কেন্দ্রের আশপাশের উত্তেজনা কমানোর জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে জানানো হয়, রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত এই স্থাপনার আশপাশে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো কর্মী আহত হননি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান বিরোধী যৌথ অভিযান অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান আলী লারিজানিসহ প্রায় ১,৩০০ জন নিহত হয়েছেন।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের তেহরান ও লেবাননের বৈরুতে মঙ্গলবার নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একই সময়ে বাগদাদে হামলার ঘটনায় ইরাকও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান প্রায় প্রতিদিনই বোমাবর্ষণের শিকার হচ্ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা সেখানে ‘সন্ত্রাসী শাসনের’ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মঙ্গলবার জানিয়েছে, ভোরের দিকে ইসরায়েলি হামলায় বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার তথ্য জানা গেছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার জন ছয়শ’টির বেশি গণআশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। আঞ্চলিক এই যুদ্ধ ধারাবাহিকভাবে ইরাককেও লড়াইয়ের দিকে টানছে। মঙ্গলবার ভোরে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হয়। একই সময়ে পৃথক হামলায় একটি বাড়িতে চারজন নিহত হয়েছেন। সেখানে ইরানি উপদেষ্টারা অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোনে বিদেশি কূটনীতিকদের যাতায়াত আছে এমন একটি বিলাসবহুল হোটেলে ড্রোনের আঘাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার