Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

মৃত ঘোষণার পরও যে কৌশলে জেগে উঠল হিজবুল্লাহ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৬, ০২:০৬ পিএম

মৃত ঘোষণার পরও যে কৌশলে জেগে উঠল হিজবুল্লাহ

বিজ্ঞাপন

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র এবং এমনকি লেবাননের সরকারও এমনভাবে কথা বলছে যেন হিজবুল্লাহ চিরতরে ভেঙে পড়েছে। তা সত্ত্বেও, লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী আবার ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে এবং ইরান বনাম মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তার শত্রুর ওপর হামলা চালাচ্ছে। 

যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের পারফরম্যান্স এবং ইসরাইলি ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানার ক্ষমতা এটিই প্রমাণ করে যে, হিজবুল্লাহ ইসরাইলের সঙ্গে ১৫ মাসের যুদ্ধবিরতিকে যুদ্ধের সমাপ্তি হিসেবে নয়, বরং পুনর্গঠন, পুনর্গঠিত হওয়া এবং পরবর্তী অনিবার্য সংঘাতের প্রস্তুতির জন্য একটি সংক্ষিপ্ত ও জরুরি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে।

গাজা যুদ্ধের জেরে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর যখন হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তখন প্রকাশ্য আলোচনা ছিল অত্যন্ত রূঢ়। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, তাদের এই অভিযান হিজবুল্লাহকে ‘কয়েক দশক’ পিছিয়ে দিয়েছে, তাদের বেশিরভাগ রকেট ধ্বংস করেছে এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করেছে।

একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা হিজবুল্লাহকে ‘অত্যন্ত দুর্বল’ বলে বর্ণনা করেছেন। সেন্টকম কমান্ডার মাইকেল কুরিলা আরও এক ধাপ এগিয়ে হিজবুল্লাহকে ‘বিধ্বস্ত’ বলে অভিহিত করেছেন এবং একই সঙ্গে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে দলটির প্রাক্তন ‘শক্ত ঘাঁটিগুলোতে’ মোতায়েন করার প্রশংসা করেছেন।

বৈরুতেও রাজনৈতিক সুর বদলে যায়। প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন যে, রাষ্ট্রের কাছে ‘অস্ত্র রাখার একচেটিয়া অধিকার’ থাকা উচিত এবং প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেন যে, লিতানি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লাহর সামরিক উপস্থিতি প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন
তৎকালীন বিশ্লেষকদের বলতে শোনা যেত যে, ইসরাইলি হামলায় দলটির সামরিক শক্তির ৮০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রচলিত ধারণা ছিল—হিজবুল্লাহ ভেঙে পড়েছে এবং তাদের নিরস্ত্রীকরণ এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, সেই সময় বড় ধরনের ক্ষতিকে ভুলবশত হিজবুল্লাহর 'কৌশলগত পতন' হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছিল।

হিজবুল্লাহর যুদ্ধ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত চারটি সূত্রের মতে, যুদ্ধবিরতির ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ২৮ নভেম্বর থেকেই তাদের পুনর্গঠন কাজ শুরু হয়। সংগঠনের ভেতরে ধারণাটি এমন ছিল না যে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে, বরং তাদের বিশ্বাস ছিল ইসরাইলের সঙ্গে লড়াইয়ের পরবর্তী রাউন্ড শুরু হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার।

সূত্রগুলো জানায়, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে যুদ্ধবিরতি তাদের কাছে কোনো রাজনৈতিক নিষ্পত্তি ছিল না। এটি ছিল কেবল একটি কর্মক্ষম বিরতি, যার প্রতিটি দিনই তাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান ছিল।

মিশন সফল

সূত্রগুলো বলছে, হিজবুল্লাহ বিশ্বাস করে যে ইসরাইল দুটি কারণে তাদের হামলা বন্ধ করেছিল।

প্রথমত, ইসরাইল ভেবেছিল যে সংগঠনটি এতটাই কঠিন আঘাত পেয়েছে যে এখন আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ চাপ হিজবুল্লাহকে রাজনৈতিকভাবে স্থায়ীভাবে ধসিয়ে দেওয়ার কাজটি সম্পন্ন করবে।

দ্বিতীয়ত, ইসরাইলের মূল্যায়ন ছিল যে যুদ্ধের কৌশলগত লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়ে গেছে, তাই এই পর্যায়ে যুদ্ধ আর দীর্ঘায়িত করলে ইসরাইলের ক্ষয়ক্ষতির পাল্লা আরও ভারী হতে পারে।

যাইহোক, সূত্রগুলো বলছে যে প্রকাশ্য শত্রুতার এই বিরতি হিজবুল্লাহর জন্য একটি বড় সুযোগ ছিল।

এর অর্থ হলো, যদিও যুদ্ধ হিজবুল্লাহর ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছিল, তবুও এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ বা জায়গা তৈরি করে দিয়েছিল যেখানে সংগঠনটি নিজেকে পুনরায় গুছিয়ে নিতে পেরেছে।

সূত্রমতে, এই প্রচেষ্টা কেবল মৌলিক সামরিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাদের লক্ষ্য ছিল আরও ব্যাপক: ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগের সক্ষমতা, সাংগঠনিক কাঠামো এবং অবকাঠামো যতটা সম্ভব পুনরুদ্ধার করা।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ সামরিক কমান্ডাররা হিজবুল্লাহর নেতৃত্বকে জানান যে, যা যা পুনর্গঠন করা সম্ভব ছিল তার সবকিছুই সম্পন্ন হয়েছে। একজন সূত্রের বরাতে সামরিক কমান্ডারদের উদ্ধৃতি ছিল এমন— ‘আমরা নেতাদের বলেছি: মিশন সফল।’

বিমান প্রতিরক্ষা এবং অন্যান্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার মতো কিছু সক্ষমতা এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যা চাইলেই আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব ছিল না। তবে এই সীমাবদ্ধতাগুলোর মধ্যেও পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাটি ছিল অত্যন্ত ব্যাপক, সুশৃঙ্খল এবং পদ্ধতিগত।

জীবন্ত শহীদ

হিজবুল্লাহর সামনে পাহাড়সম কাজ ছিল। ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, ইসরাইল দলটির সদস্যদের ব্যবহৃত শত শত পেজার বিস্ফোরণ করে। এতে মূলত বেসামরিক নাগরিকসহ ডজন ডজন মানুষ আহত হয় এবং হিজবুল্লাহর ভেতর গোয়েন্দা সংস্থার ভয়াবহ অনুপ্রবেশের বিষয়টি প্রকাশ পায়।

সেই মাসের শেষের দিকে, বৈরুত এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় চালানো প্রচণ্ড বিমান হামলায় দলটির সামরিক নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায় এবং তাদের দীর্ঘদিনের সেক্রেটারি জেনারেল হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হন।

ইসরাইল হিজবুল্লাহর ওপর বহুমুখী এক বিধ্বংসী অভিযান চালিয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল তাদের কমান্ড ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া, নেটওয়ার্কগুলো ফাঁস করা এবং তাদের কার্যক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেওয়া।

একটি সূত্র হিজবুল্লাহর নেতৃত্বকে ‘অন্ধ, বিচ্ছিন্ন এবং বিধ্বস্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কারণ ২০২৪ সালের অক্টোবরে তীব্র বোমা হামলার পর ইসরাইলি বাহিনী স্থল অভিযান শুরু করেছিল।

তিনি বলেন, ‘সীমান্তে যোদ্ধাদের আমৃত্যু লড়াইয়ের অনমনীয়তা দলের অবশিষ্ট শীর্ষ সামরিক নেতাদের শ্বাস নেওয়ার এবং পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল। এই জীবন্ত শহীদরাই দলকে বাঁচিয়েছেন।’

কিছু সামরিক কমান্ডার বেঁচে গেলেও কেন অন্যদের ইসরাইলি বিমান হামলায় একের পর এক প্রাণ দিতে হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে সূত্রটি বলেন, ‘তারা ফোন ধরেননি।’

কাঠামোগত পুনর্বিবেচনা

সূত্রমতে, হিজবুল্লাহর যোগাযোগ ব্যবস্থায় আগের ধারণার চেয়েও অনেক গভীরে অনুপ্রবেশ করা হয়েছিল।

দলটি সবসময়ই ধরে নিত যে তাদের সদস্যদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। কিন্তু এটি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, ইসরাইল রিয়েল-টাইমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং হিজবুল্লাহ নেতা ও যোদ্ধাদের নিখুঁতভাবে খুঁজে বের করতে সক্ষম ছিল।

সূত্রগুলো বর্ণনা করে যে, কীভাবে দলটি সংবেদনশীল বিষয়ের ক্ষেত্রে তাদের আগের তিনটি যোগাযোগ নেটওয়ার্কই প্রায় বর্জন করেছে। এর পরিবর্তে তারা ফিরে গেছে ‘মৌলিক এবং আদিম’ পদ্ধতিতে: যেমন মানুষের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো, হাতে লেখা চিরকুট এবং কমান্ড ও ফিল্ড ইউনিটগুলোর মধ্যে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ চ্যানেল।

দ্বিতীয় একটি সূত্র এই কৌশলগত পরিবর্তনকে সংগঠনের পিছিয়ে পড়া হিসেবে নয়, বরং ‘ইচ্ছাকৃত অভিযোজন’ বা খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে কৌশলটি একটি বৃহত্তর কাঠামোগত পুনর্বিবেচনার দিকে নিয়ে গেছে।

‘সীমান্তে যোদ্ধাদের আমৃত্যু লড়াইয়ের অনমনীয়তা দলের অবশিষ্ট শীর্ষ সামরিক নেতাদের শ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল’— হিজবুল্লাহর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত সূত্রটি জানায়।

২০০৬ সালের লেবানন যুদ্ধের পরবর্তী বছরগুলোতে, বিশেষ করে বাশার আল-আসাদের সমর্থনে সিরিয়ায় হিজবুল্লাহর হস্তক্ষেপের সময়, সংগঠনটি ক্রমেই একটি প্রথাগত সেনাবাহিনীর মতো হয়ে উঠছিল: বড়, ভারী, অধিক কেন্দ্রীয় এবং বর্ধিত কমান্ড চেইনের ওপর নির্ভরশীল।

সেই রূপান্তর তাদের সক্ষমতা বাড়িয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ২০২৪ সালের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা বেঁচে থাকা কমান্ডারদের সেই মডেলটি নিয়ে পুনরায় ভাবতে বাধ্য করেছে।

তৃতীয় একটি সূত্র বলেন, হিজবুল্লাহ এমন একটি ‘বিশাল মালবাহী গাড়িতে’ পরিণত হয়েছিল যা কেবল একদল শক্তিশালী ঘোড়াই টেনে নিতে পারত, অথচ একসময় এটি ছিল ‘হালকা ও চঞ্চল ঘোড়ার’ মতো।

সূত্রগুলো জানায়, ২০২৪ সালের যুদ্ধের পর প্রবীণ সামরিক ব্যক্তিত্বরা পুনরায় ‘মুগনিয়া চেতনা’ -এর দিকে ফিরে যান। এটি মূলত প্রয়াত কমান্ডার ইমাদ মুগনিয়া এবং তার সেই পুরনো সমরকৌশলকে নির্দেশ করে, যা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আধা-স্বায়ত্তশাসিত ইউনিটগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

এই মডেলের অধীনে, ইউনিটগুলো সার্বক্ষণিক প্রত্যক্ষ নির্দেশের পরিবর্তে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে দেওয়া সাধারণ নির্দেশিকা অনুযায়ী কাজ করে। কেন্দ্রীয় কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ এখানে হালকা, ধীরগতির কিন্তু কম ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিবর্তন হয়তো কিছু ক্ষেত্রে কাজের গতি কমিয়ে দেয়, তবে এটি সহনশীলতা বৃদ্ধি করে। এটি এমন একটি মডেল যা কেবল কাজ করার জন্য নয়, বরং টিকে থাকার জন্য তৈরি।

দক্ষিণে প্রত্যাবর্তন

একই কৌশল হিজবুল্লাহর দক্ষিণে ফেরার প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করেছে বলে মনে হয়।

প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত ছিল যে, ইসরাইলি সীমান্ত এবং লিতানি নদীর মাঝখানে হিজবুল্লাহর কোনো সামরিক উপস্থিতি থাকবে না এবং এর পরিবর্তে লেবাননের সেনাবাহিনী সেখানে ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে মোতায়েন থাকবে।

২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারির মধ্যে লেবাননের সেনাবাহিনী জানায় যে তারা এই অঞ্চলের কর্মক্ষম নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী সালাম বলেছিলেন যে সেখানকার প্রায় সব অস্ত্র এখন রাষ্ট্রের হাতে।

তা সত্ত্বেও, সূত্রগুলোর মতে ভূমিতে বাস্তবতা ছিল অনেক বেশি জটিল।

তাদের মতে, হিজবুল্লাহর নিজেদের উপস্থিতি পুনর্গঠনের জন্য বিশাল বা দৃশ্যমান কোনো কাঠামোর প্রয়োজন ছিল না। এর পরিবর্তে তারা ছোট ছোট সেল এবং স্বতন্ত্র ক্যাডারদের ওপর নির্ভর করেছে যাতে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো মেরামত করা যায়, অপ্রকাশিত সাইটগুলো পুনরায় সচল করা যায় এবং অলক্ষ্যে নিজেদের অবস্থানগুলো আরও শক্তিশালী করা যায়।

সূত্রগুলো এমন এক পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছে যেখানে হিজবুল্লাহ লেবাননের গভীর দক্ষিণ অঞ্চল ছেড়ে চলে যাচ্ছিল না; বরং ধৈর্য, ছদ্মবেশ এবং অত্যন্ত সতর্ক চলাচলের মাধ্যমে তারা সেখানে ধীরে ধীরে নিজেদের পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করছিল।

তৃতীয় সূত্রটি বলেন, ‘পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের জন্য আমরা দিন-রাত এক করে দিয়েছিলাম এবং একে অপরের ওপর নির্ভর করে কাজ চালিয়ে গিয়েছি।’

এটি যুদ্ধবিরতির মধ্যে একটি বৈপরীত্যমূলক চরিত্র তৈরি করেছিল।

কাগজে-কলমে, লেবানন ‘অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রের একচেটিয়া অধিকার’ প্রতিষ্ঠার দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু বাস্তবে, ইসরাইল ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘পুনরায় অস্ত্রসজ্জিত হওয়া এবং সন্ত্রাসী অবকাঠামো পুনর্গঠনের’ অভিযোগ তুলছিল। 

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ দাবি করে আসছিল যে তারা দক্ষিণের যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে।

এই মাসের শুরুতে যখন পুনরায় সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়, ততদিনে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরাইলি হামলায় লেবাননে প্রায় ৪০০ জন নিহত হয়েছে।

এই সময়কালটি কখনোই স্থিতিশীল শান্তি ছিল না। এটি ছিল একটি সক্রিয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পর্যায় যেখানে প্রতিটি পক্ষই পরবর্তী সংঘাতের শর্তগুলো নিজেদের অনুকূলে সাজানোর চেষ্টা করছিল।

পুনরায় রসদ সরবরাহের সমস্যা

হিজবুল্লাহর শত্রুরা কেন আত্মবিশ্বাসী ছিল যে সংগঠনটি ২০২৪ সালের যুদ্ধ থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না—তার অন্যতম কারণ ছিল তাদের রসদ সরবরাহের পথগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।

আসাদের পতনের পর নাসরুল্লাহর উত্তরসূরি নাইম কাসেম প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন যে সংগঠনটি সিরিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের সামরিক সরবরাহের পথ হারিয়েছে, যদিও তিনি এই ক্ষতির কৌশলগত গুরুত্বকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন।

তা সত্ত্বেও, সূত্রগুলোর মতে, আসাদ সরকারের পতন একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও তৈরি করেছিল।

আসাদ সরকারের পতনের পর তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার মধ্যে হিজবুল্লাহ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাদের ডিপোগুলো খালি করতে সক্ষম হয়, এর আগেই নতুন কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ সংহত করেছিল এবং ইসরাইলি বিমান হামলা বাকি সব ধ্বংস করে দিয়েছিল।

একই সময়ে, তারা ইরানি সমর্থন এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের মাধ্যমে কয়েক মাস ধরে তাদের রকেট ও ড্রোনের মজুদ পুনরায় পূর্ণ করেছে।

এর মানে এই নয় যে সব সক্ষমতা হুবহু আগের রূপে ফিরে এসেছে। কিছু উন্নত ব্যবস্থা, বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিস্থাপন করা এখনও কঠিন বা অসম্ভব রয়ে গেছে।

গত দুই সপ্তাহের যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি প্রমাণ করেছে যে হিজবুল্লাহ পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েনি।

২ মার্চ দলটি প্রায় ৬০টি ড্রোন এবং রকেট নিক্ষেপ করে, পরের দিনও প্রায় একই সংখ্যক হামলা চালায় এবং এর পরপরই হামলার গতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

এই সপ্তাহে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র এমনকি দক্ষিণ ইসরাইল পর্যন্ত পৌঁছেছে, যার ফলে আশকেলন এবং গাজা উপত্যকার নিকটবর্তী জনপদের ইসরাইলিরা প্রাণভয়ে আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে বাধ্য হয়েছে।

যে সংগঠনটিকে ব্যাপকভাবে 'বিধ্বস্ত' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল, তারা আবার ক্রমাগত গোলাবর্ষণ করছে, যোদ্ধা মোতায়েন করছে এবং লেবানন ও ইসরাইল—উভয় ভূখণ্ডেই ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

তৃতীয় সূত্রটি স্মরণ করে বলেন, ‘আমাদের সাবেক মিডিয়া প্রধান মোহাম্মদ আফিফ বলতেন, 'হিজবুল্লাহ কেবল একটি দল নয়, এটি একটি জাতি; আর জাতির মৃত্যু হয় না'।’

‘লোকেরা ভেবেছিল এটি কেবল একটি স্লোগান মাত্র। কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি যে এটি মোটেও তা ছিল না।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার