বিজ্ঞাপন
ইরানের মিসাইল থেকে রক্ষা পাবে না ইউরোপের কোনো দেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়ায় ব্রিটিশ-আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর খবর প্রকাশ হতেই হইচই পড়েছে গেছে। ইরানের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী-আইডিএফ-সহ বিভিন্ন দেশের সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সমরাস্ত্র বিশ্লেষক ও গবেষকরা।
ইসরাইলের চিফ অব স্টাফ আইয়াল জামির শনিবার (২১ মার্চ) সতর্ক করে বলেছেন, ডিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত ব্রিটিশ-আমেরিকান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে বার্লিন, প্যারিস এবং রোমসহ ইউরোপীয় রাজধানীগুলো এখন তেহরানের ব্যালিস্টিক অস্ত্রের সরাসরি সীমানার মধ্যে রয়েছে। তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে এটি একটি নাটকীয় উত্তেজনা, যা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের দাবিকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
মিথ্যা প্রমাণিত হলো স্ব-আরোপিত সীমাবদ্ধতা
ডিয়েগো গার্সিয়া ইরানি ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা তেহরানের জনসমক্ষে স্বীকার করা ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার ঠিক দ্বিগুণ। এমনকি গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, ইরান প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধের উদ্দেশে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ইচ্ছে করেই ২ হাজার কিলোমিটারের নিচে সীমাবদ্ধ রেখেছে এবং দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিষয়টিকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
এই হামলার প্রচেষ্টা রাতারাতি সেই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি শনিবার (২১ মার্চ) এই হামলার প্রচেষ্টার কথা নিশ্চিত করে বলেছে, ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা একটি ‘উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ’, যা প্রমাণ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা শত্রুদের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জামির এক ব্রিফিংয়ে এই পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরান ডিয়েগো গার্সিয়ার দিকে যে দ্বি-স্তরের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করেছে তা ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ছিল না, কিন্তু এর ৪ হাজার কিলোমিটার পাল্লার অর্থ হলো— ‘বার্লিন, প্যারিস ও রোম এখন সরাসরি হুমকির মুখে।’
ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স বিশ্লেষকরা দ্রুত এর প্রভাবগুলো মানচিত্রে তুলে ধরেছেন: মধ্য ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কিলোমিটার পাল্লার একটি মধ্যবর্তী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাত্ত্বিকভাবে মধ্য ইউরোপের গভীর পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মগুলো কোথায় স্থাপন করা হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে, মহাদেশটির সম্ভাব্য সব রাজধানীই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আওতায় চলে আসে।
ইরানের মধ্যবর্তী পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম অপারেশনাল ব্যবহার
এই আক্রমণ ছিল ইরানের মধ্যবর্তী পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম অপারেশনাল মোতায়েন এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনেক বাইরে শক্তি প্রদর্শনের একটি উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা। এখন পর্যন্ত, ইরানের জনসমক্ষে পরিচিত অস্ত্রাগারে মূলত স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ছিল। মার্কিন ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের কার্যালয় অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কাছে সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছিলেন যে তাদের ২ হাজার কিলোমিটারের স্ব-আরোপিত সীমা যথেষ্ট, কারণ এটি ইসরাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।
২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত সেই সীমা ছিল একটি বৃহত্তর কৌশলগত ডকট্রিনের অংশ, যেখানে পাল্লা বাড়ানোর চেয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা এবং সূক্ষ্মতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ করছিলেন যে, ইরানের মহাকাশ কর্মসূচি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পথ হিসেবে কাজ করতে পারে। শুক্রবারের এই হামলা সেই সম্ভাবনাকে উসকে দিয়েছে যে, ইরানের মহাকাশ কর্মসূচি হয়তো কোনো অস্ত্র ব্যবস্থাকে আড়াল করছিল অথবা বিদ্যমান ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সক্ষমতা ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে বলা হয়েছিল।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার প্রচেষ্টা এমন অস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে যা তেহরানের আগে জানা থাকা সক্ষমতার চেয়েও অনেক বেশি।
সূত্র: তুর্কি টুডে।
বিজ্ঞাপন