Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইসরাইলি মেয়র, দোষ দিলেন নেতানিয়াহুকে

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইসরাইলি মেয়র, দোষ দিলেন নেতানিয়াহুকে

বিজ্ঞাপন

লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর অবিরাম রকেট হামলার মুখে উত্তর ইসরাইলের সীমান্ত সংলগ্ন জনপদগুলোতে এখন মৃত্যুপুরীর নিস্তব্ধতা। ভয়াবহ এই পরিস্থিতির মধ্যে নিজের শহরের বাসিন্দাদের বাঁচাতে না পারার আকুলতায় জনসমক্ষেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কিরিয়াত শমোনা শহরের মেয়র আভিচাই স্টার্ন। 

বুধবার (২৫ মার্চ) সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের তীব্র সমালোচনা করে একে এক ‘বড় পরাজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

টাইমস অব ইসরাইল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা উত্তর ইসরাইলের জনজীবনকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। 

মেয়র স্টার্ন বলেন, ২৪ হাজার মানুষের এই সমৃদ্ধ শহরে এখন মাত্র ১০ হাজার বাসিন্দা অবশিষ্ট আছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে এক মাসের মধ্যে শহরটি পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়বে। 

তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু স্থানীয় মেয়রদের অনুরোধ করেছেন যেন তারা বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া থেকে বিরত রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন অনুরোধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় কাউন্সিল প্রধানরা। 

মেয়র স্টার্ন পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, যেখানে সাইরেন বাজার পর নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় পাওয়া যায়, সেখানে পর্যাপ্ত বোম শেল্টার ছাড়া মানুষ কীভাবে ঘরে থাকবে?

স্টার্ন জরুরি ভিত্তিতে শহরের প্রায় ৪ হাজার ৭০০টি অরক্ষিত ঘরবাড়ি থেকে অক্ষম ও বৃদ্ধ মানুষদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, লেবানন বা ইরানে যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক না কেন, যদি ইসরাইলের নিজের একটি শহরই ধ্বংস হয়ে যায় বা জনশূন্য হয়, তবে তা হবে সবচেয়ে বড় পরাজয়।   

আরও পড়ুন
শুধু স্টার্ন নন, মাত্তে আশের আঞ্চলিক কাউন্সিলের প্রধান মোশে দাভিদোভিচও সরকারের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন। তিনি ২০১৮ সালে ঘোষিত ‘নর্দান শিল্ড’ প্রকল্পের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ২০২৬ সালেও হাজার হাজার মানুষ কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই হিজবুল্লাহর রকেটের মুখে বাস করছেন। সরকারি বাজেটে সুরক্ষা খাতের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ায় ৫ হাজারেরও বেশি ভবন এখন চরম ঝুঁকিতে।

উত্তরাঞ্চলীয় মার্গালিওট মোশ্যাভের মেয়র ইতান দাভিদি বলেন, সম্প্রতি রকেট হামলায় নিহত ২৭ বছর বয়সি নুরিএল দুবিন আগামী সেপ্টেম্বরে বিয়ের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু বিয়ের মণ্ডপের বদলে তাকে এখন কবরে যেতে হলো। 

দাভিদি আক্ষেপ করে বলেন, ইসরাইল আমাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এখন লেবাননের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। রাষ্ট্র আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।

বৃহস্পতিবারও হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্লাস্টার বোমার আঘাতে একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পাল্টা হামলার দাবি করলেও উত্তরের বাসিন্দারা বলছেন, তারা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। 

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার