বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ঘুম হারাম করা কমান্ডার নিহত, জানাল ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘুম হারাম করা ইরানের কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএনএ প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গুরুতর আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছিলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর পরিচালিত একটি ‘নির্ভুল ও প্রাণঘাতী অভিযানে’ তাংসিরি এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলে সংবাদমাধ্যম জানায়, ইরানের বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে একটি হামলায় তাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সিদ্ধান্তে তাংসিরির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে এক মাসের যুদ্ধের পর স্থল অভিযানের জন্য প্রস্তুত বলে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের চেষ্টার আড়ালে ইরানে চূড়ান্ত হামলার জন্য তৈরি হচ্ছে ওয়াশিংটনের বাহিনী। তবে সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে—যুক্তরাষ্ট্র যদি উপসাগর এলাকায় অবস্থিত ইরানের দ্বীপগুলো দখল করতে চায়, তাহলে সে অভিযান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাদের ভাষ্য, মার্কিন সেনারা সহজে দ্বীপপুঞ্জে নামতে পারলেও পরে তারা ‘গুলি বর্ষণের লক্ষ্যবস্তু’ বা এক ধরনের ফাঁদে আটকে পড়তে পারে। যেখানে সরবরাহ শৃঙ্খল দুর্বল থাকবে এবং লক্ষ্য পরিষ্কার নাও থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো হামলা শুরু হলে প্রথমেই যুক্তরাষ্ট্র ইলেকট্রনিক যুদ্ধ চালাবে। অর্থাৎ রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করার চেষ্টা করা হবে। এরপর শুরু হবে ব্যাপক বিমান হামলা, যার লক্ষ্য হবে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা। এ ধাপগুলোকে ‘প্রস্তুতিমূলক অভিযান’ বলা হয়, যা মূল আক্রমণের আগে চালানো হয়।
ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ এ ধরনের অভিযানের লক্ষ্য হতে পারে। এর মধ্যে খারগ দ্বীপ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকেই ইরান তার প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি করে। এ ছাড়া আবু মুসা দ্বীপ এবং তার আশপাশের ছোট দ্বীপগুলোও গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলো নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। আরেকটি বড় লক্ষ্য হতে পারে কেশম দ্বীপ, যা আকারে বড় এবং যেখানে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণের জন্য টানেল তৈরি করেছে। এই দ্বীপে প্রায় দেড় লাখ মানুষ বাস করে এবং এটি মূল ভূখণ্ডের খুব কাছাকাছি।
বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রপথে আক্রমণের চেয়ে আকাশপথে অভিযান চালানোর সম্ভাবনাই বেশি। কারণ ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ রাখে, ফলে বড় জাহাজ নিয়ে সেখানে প্রবেশ করা কঠিন। তাই হেলিকপ্টার ও বিশেষ বিমান ব্যবহার করে সেনা নামানো হতে পারে। যেমন ভি-২২ অসপ্রে, চিনুক বা ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে সেনাদের দ্রুত দ্বীপে নামানো সম্ভব।
বিজ্ঞাপন