বিজ্ঞাপন
২০২৬ সালের শেষে স্বর্ণের দাম কেমন হতে পারে?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় স্থবিরতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে বিশ্লেষকরা একে বড় উত্থানের আগের সাময়িক বিরতি হিসেবে দেখছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৭০৬ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে এসেছে। যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কম। মূলত মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি ও জ্বালানি তেলের চড়া দামের কারণে বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে ডলার ও বন্ডের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। যার ফলে স্বর্ণের বাজারে এই দরপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা নতুন করে প্রকট হয়েছে। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ফিরে আসেন।
স্যাক্সো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি প্রধান ওলে হ্যানসেন জানিয়েছেন, বর্তমানের এই দরপতন মূলত সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার একটি প্রতিফলন। তবে এটি কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন নয়। একটি সাময়িক স্থবিরতা মাত্র। তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন, ২০২৬ সালের শেষভাগ অথবা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে স্বর্ণের দাম সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ যুদ্ধকালীন জ্বালানি সংকটের কারণে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার উচ্চ রাখার পরিকল্পনা করছে। রয়টার্সের এক জরিপে দেখা গেছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সুদের হার কমার সম্ভাবনা খুবই কম, যা স্বর্ণের দামে সাময়িক চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং ডলারের একাধিপত্য নিয়ে কোনো সংশয় তৈরি হলে বিনিয়োগের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা আকাশচুম্বী হবে। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য বর্তমানের এই মূল্যহ্রাস একটি সুবর্ণ সুযোগ হতে পারে, কারণ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্বর্ণের ভবিষ্যৎ বাজারকে অত্যন্ত শক্তিশালী করে তুলছে। সূত্র: রয়টার্স।