বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শহর মেক্সিকো সিটি খুব দ্রুত ধীরে ধীরে নিচের দিকে বসে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন এতটাই স্পষ্ট যে তা স্যাটেলাইট থেকেও দেখা সম্ভব। নাসার নতুন স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, শহরটি বছরে প্রায় ১০ ইঞ্চি (২৫ সেন্টিমিটার) হারে নিচে বসছে।
মেক্সিকো সিটি প্রায় ২.২ কোটি মানুষের বাসস্থান এবং এটি প্রায় ৩,০০০ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। কিছু এলাকায় প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ০.৭৮ ইঞ্চি (২ সেন্টিমিটার) হারে ভূমি নিচে বসছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন প্রধান বিমানবন্দর এবং বিখ্যাত স্মৃতিস্তম্ভও রয়েছে।
ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব মেক্সিকোর ভূ-ভৌত গবেষক এনরিকো ক্যাব্রাল বলেন, মোট মিলিয়ে বছরে প্রায় ২৪ সেন্টিমিটার ভূমি নিচে নামছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির ভূমি ধসের মধ্যে একটি।
প্রায় এক শতাব্দীরও কম সময়ে শহরের কিছু অংশ ৩৯ ফুট (১২ মিটার) এরও বেশি নিচে নেমে গেছে। ঐতিহাসিক মেট্রোপলিটান ক্যাথেড্রাল, যার নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৫৭৩ সালে, এখন স্পষ্টভাবে হেলে গেছে। শহরের কিছু পুরোনো ভবনের আশেপাশে মাটি নিচে বসে যাওয়ায় সিঁড়ি পর্যন্ত বাড়াতে হয়েছে।
ক্যাব্রাল আরও বলেন, এটি একটি বড় সমস্যা। এটি মেক্সিকো সিটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন মেট্রো, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানির সরবরাহ, আবাসন এবং রাস্তাঘাটকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
স্যাটেলাইট কীভাবে শহর ডোবা ধরল
এই তথ্য এসেছে নাসা এবং ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার যৌথভাবে পরিচালিত নতুন স্যাটেলাইট সিস্টেম থেকে। এটি রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে পৃথিবীর পৃষ্ঠের পরিবর্তন সেন্টিমিটার পর্যন্ত নির্ভুলভাবে পরিমাপ করতে পারে।
২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মেক্সিকো সিটির ভূমি ধস বিশ্লেষণ করা হয়েছে। নাসার মানচিত্রে গাঢ় নীল রঙ দেখায় কোন কোন এলাকা প্রতি মাসে আধা ইঞ্চির বেশি হারে নিচে বসছে।
বিজ্ঞানী পল রোজেন বলেন, আপনি সমস্যার পুরো মাত্রা এখানে দেখতে পারেন।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক ডেভিড বেকেয়ার্ট বলেন, মেক্সিকো সিটি ভূমি ধসের জন্য পরিচিত একটি হটস্পট এবং এ ধরনের ছবি কেবল শুরু।
কেন মেক্সিকো সিটি ডুবে যাচ্ছে?
মেক্সিকো সিটি একটি প্রাচীন হ্রদের ওপর নির্মিত। শহরের অনেক এলাকা আগে খাল ও জলাভূমি ছিল, তাই মাটি তুলনামূলকভাবে নরম এবং স্বাভাবিকভাবেই ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে।
তবে মানুষের কার্যকলাপই এর প্রধান কারণ। দীর্ঘদিন ধরে শহরের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পানীয় ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অতিরিক্তভাবে উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে মাটির নিচের কাদামাটি স্তর সংকুচিত হয়ে ভূমি নিচে বসে যাচ্ছে। শহরের উন্নয়ন ও ভারী স্থাপনা নির্মাণও এই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করছে।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮০০ সালের শেষ দিকে বছরে প্রায় ২ ইঞ্চি হারে ভূমি নিচে নামত। ১৯৫০ সালের মধ্যে তা বেড়ে বছরে ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। যদিও এখন হার কিছুটা কমেছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি অনেক বড়—শহরের কিছু অংশ ইতোমধ্যে শত শত ফুট পর্যন্ত নিচে নেমে গেছে।
সূত্র- এনডিটিভি