Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

ফের আলোচনায় প্রমোদ মহাজনের ১৯৯৭ সালের ভাষণ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১১:১০ এএম

ফের আলোচনায় প্রমোদ মহাজনের ১৯৯৭ সালের ভাষণ

বিজ্ঞাপন

তামিলনাড়ুতে ঝুলন্ত বিধানসভা ও সরকার গঠন ঘিরে চলমান রাজনৈতিক নাটকের মধ্যে প্রায় তিন দশক আগের বিজেপি নেতা প্রমোদ মহাজনের একটি ভাষণ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে সর্বাধিক আসন পাওয়া বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) এখনো সরকার গঠনের আমন্ত্রণ না পাওয়ায় এবং ছোট ছোট দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা চলায় রাজনৈতিক মহলে ওই ভাষণের প্রসঙ্গ ফের উঠে এসেছে।

১৯৯৭ সালের ১১ এপ্রিল লোকসভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়ার ইউনাইটেড ফ্রন্ট সরকারের আস্থা ভোট বিতর্কে দেওয়া প্রমোদ মহাজনের বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে আবারও ভাইরাল হয়েছে। বিশেষ করে তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে জল্পনার পর ভাষণটির রাজনৈতিক তাৎপর্য নতুন করে সামনে এসেছে।

১৯৯৬ সালের নির্বাচন ও জোট রাজনীতির সংকট

১৯৯৬ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বিজেপি ১৬১টি আসন নিয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শঙ্কর দয়াল শর্মা অটল বিহারী বাজপেয়ীকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান। শিবসেনাসহ মিত্রদের নিয়ে বিজেপির আসন দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১৯৪।

বিজেপি তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি), ডিএমকে ও আসাম গণপরিষদের মতো আঞ্চলিক দলের সমর্থন পাওয়ার আশা করলেও তারা ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলে বিজেপির বিরোধিতা করে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পেরে মাত্র ১৩ দিনের মাথায় বাজপেয়ী সরকার পদত্যাগ করে।

এরপর কংগ্রেস ও বিজেপিবিহীন দলগুলো মিলে ইউনাইটেড ফ্রন্ট গঠন করে। কংগ্রেস বাইরে থেকে সমর্থন দেয় এবং প্রায় ১৯০ আসনের জোট সরকার গঠন করে দেবেগৌড়া প্রধানমন্ত্রী হন।

আরও পড়ুন
পরবর্তীতে কংগ্রেস সভাপতি সীতারাম কেশরী অভিযোগ করেন, দেবেগৌড়া তাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন না। একই সময়ে কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে পুরোনো দুর্নীতির তদন্তও জোরদার হচ্ছিল। এসব ইস্যুতে অসন্তুষ্ট হয়ে ১৯৯৭ সালের ৩০ মার্চ কংগ্রেস সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।

এরপরই লোকসভায় আস্থা ভোটের বিতর্ক শুরু হয় এবং সেখানেই প্রমোদ মহাজন তার বহুল আলোচিত ভাষণ দেন।

‘সবচেয়ে বড় দল বিরোধী দলে, এক আসনের দল সরকারে’

ভাষণে প্রমোদ মহাজন চীনে ভারতীয় সংসদীয় প্রতিনিধি দলের একটি সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চীনা প্রতিনিধিরা জানতে চেয়েছিলেন ভারতীয় গণতন্ত্র কীভাবে কাজ করে।

এরপর তিনি কৌতুক করে বলেন, ‘আমি প্রমোদ মহাজন। আমি লোকসভার সদস্য। আমি সবচেয়ে বড় দলের প্রতিনিধি, কিন্তু বিরোধী দলে আছি।’

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বৃহত্তম দল কংগ্রেস সরকারে নেই, কিন্তু বাইরে থেকে সমর্থন দিচ্ছে। তৃতীয় বৃহত্তম দল সিপিএম জোটের অংশ হলেও সরকারে নেই। আর এক আসনের একটি দলের নেতা রামাকান্ত খালাপ মন্ত্রিসভায় আছেন।

এই উদাহরণ দিয়ে তিনি জোট রাজনীতিকে ‘অদ্ভুত বৈপরীত্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

‘বর আর কনের বাবার ঝগড়া’

ভাষণে দেবেগৌড়া সরকারকে ব্যঙ্গ করে মহাজন বলেন, ‘এটা এমন এক বিয়ে যেখানে বর (দেবেগৌড়া) আর কনের বাবা (সীতারাম কেশরী) শুরু থেকেই ঝগড়ায় লিপ্ত। এখনো মধুচন্দ্রিমা শুরু হয়নি, অথচ বিচ্ছেদের অবস্থা।’

কংগ্রেসের বাইরে থেকে সমর্থন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘বাইরে থেকে সমর্থন মানে এমন কেউ মই ধরে রেখেছে, কিন্তু আপনি শেষ ধাপে উঠতেই সেটা সরিয়ে নেবে।’

তার এই বক্তব্যে সংসদজুড়ে হাসির রোল পড়ে যায়।

পরবর্তী রাজনৈতিক পালাবদল

শেষ পর্যন্ত দেবেগৌড়া সরকার পতন হয়। পরে কংগ্রেসের সমর্থনে আইকে গুজরাল প্রধানমন্ত্রী হলেও সেই সরকারও টেকেনি। নতুন নির্বাচনে আবারও ঝুলন্ত লোকসভা গঠিত হয়।

অটল বিহারী বাজপেয়ী পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু জয়ললিতার এআইএডিএমকে সমর্থন প্রত্যাহার করলে সেই সরকারও পড়ে যায়। পরে স্থিতিশীল এনডিএ সরকার গঠন করে বিজেপি, যা ২০০৪ সাল পর্যন্ত টিকে ছিল।

২০০৪ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট ক্ষমতায় ছিল। ২০১৪ সালে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও জোট কাঠামো বজায় রাখে। ২০২৪ সালেও বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় মিত্রদের সমর্থনে সরকার গঠন করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তামিলনাড়ুর বর্তমান পরিস্থিতি আবারও ভারতের জোট রাজনীতির পুরোনো বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে— যেখানে সবচেয়ে বড় দল সবসময় ক্ষমতায় যায় না, আর ছোট দলগুলো অনেক সময় হয়ে ওঠে সরকার গঠনের নিয়ামক শক্তি।

সূত্র: এনডিটিভি

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার