বিজ্ঞাপন
ছিলেন অত্যন্ত কাছের লোক, যেভাবে মমতাকে হটিয়ে দিলেন শুভেন্দু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
বিজ্ঞাপন
মাত্র পাঁচ বছর আগে— ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অত্যন্ত কাছের লোক ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মমতাকে ক্ষমতার আসন থেকে হটিয়ে দিয়েছেন। এখন নিজেই হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ শনিবার (৯ মে) শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম আউটলুক ইন্ডিয়া জানিয়েছে, শুভেন্দু তিনটি বিষয়ের জন্য পরিচিত। প্রথমটি নন্দিগ্রামে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে তার আন্দোলন। দ্বিতীয়টি মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে অত্যন্ত তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ এবং শেষটি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে হিন্দুত্ববাদী বিজেপিতে তার যোগদান।
শুভেন্দু ছিলেন মমতার অত্যন্ত কাছের লোক। কিন্তু ২০২০ সালে তিনি মমতার তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখান। তার তৃণমূল ছাড়ার বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির গতিপথ বদলে দেয়।
কেন ছেড়েছিলেন তৃণমূল?
অনেক জল্পনা-কল্পনার পর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শুভেন্দু তৃণমূলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সঙ্গে সেই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ, সেচ ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও ছাড়েন। এরপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে এক জনসভায় বিজেপিতে যোগ দেন। তার তৃণমূল ছাড়ার অন্যতম কারণ ছিলো দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। বিশেষ করে মমতার ভাইয়ের ছেলে অভিষেক ব্যানার্জির তৃণমূলের ওপর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে নাখোশ ছিলেন শুভেন্দু।
শুভেন্দুর বাবাও ছিলেন রাজনীতিবিদ। তারা করতেন ভারতীয় কংগ্রেস। এরপর ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তারা তৃণমূলের শুরুর দিকের নেতা ছিলেন। ২০০৬ সালে তিনি সর্বপ্রথম একটি পৌরসভার নির্বাচন করে সেখান থেকে জয়ী হন।
কীভাবে সবার নজরে আসেন শুভেন্দু
২০০৭ সালে নন্দিগ্রামে শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠান জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে চায় তৎকালীন বাম সরকার। শুভেন্দু ওই সময় এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হওয়া আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে তাকে গ্রামবাসী ‘নন্দিগ্রামের হিরো’ হিসেবে তকমা দেন। জমি অধিগ্রহণ করতে চাওয়া এবং এর বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলন বাম সরকারের কাঠামো নাড়িয়ে দেয়। যার প্রেক্ষিতে ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো রাজ্যটির ক্ষমতায় আসে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস।
এরআগেই অবশ্য ২০০৯ সালে তামলুক লোকসভার আসন থেকে জয় পান শুভেন্দু। ২০১৪ সালেও জেতেন তিনি। কিন্তু ২০১৬ সালে পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করেন এবং নন্দিগ্রাম থেকে বিধানসভায় জেতেন। এরপর তাকে মমতা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেন।
২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত শুভেন্দু ছিলেন মমতার পর তৃণমূলের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা। কিন্তু মমতার ভাইয়ের ছেলে অভিষেকের প্রতি দলের ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেননি তিনি।
২০২০ সালে তৃণমূল ছেড়ে পরের বছর ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে নন্দিগ্রামে নির্বাচন করেন তিনি। সেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মমতা। সেই মমতাকে ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে হারিয়ে দেন হিন্দুত্ববাদী শুভেন্দু।
আর এবার মমতাকে তিনি ভবানিপুর থেকে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন। এরসঙ্গে বিজেপি বিধানসভা ২৯৪টি আসনের মধ্যে একাই ২০৭টি আসনে জিতে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেছে।
সূত্র: আউটলুক ইন্ডিয়া