Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক

সংকটে স্টারমার

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভায় বড় ফাটল

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ১১:২৪ এএম

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভায় বড় ফাটল

বিজ্ঞাপন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের দাবি ঘিরে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভায় এবার বড় ধরনের বিভক্তি দেখা দিয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্য থেকে শুরু করে দলীয় এমপিদের অনেকেই এখন প্রকাশ্যেই তার পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবি তুলছেন। স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলীয় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সরকার ও দলের শীর্ষ পর্যায়েই দেখা দিয়েছে স্পষ্ট বিভাজন।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদসহ মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের কাছে পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে জানা গেছে, স্টারমারের পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার প্রশ্নে মন্ত্রিসভায় শাবানা মাহমুদ সংখ্যালঘু অবস্থানে রয়েছেন।

এদিকে ছয়জন মন্ত্রীসহকারীকে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা কেউ পদত্যাগ করেছেন, আবার কেউ স্টারমারের সরে যাওয়ার সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ভোর পর্যন্ত স্টারমারের পদত্যাগ অথবা পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানানো লেবার এমপির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ জনে। এমন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে সোমবার পদত্যাগ করা মন্ত্রীসহকারীদের মধ্যে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি (পিপিএস) জো মরিস। ওয়েস স্ট্রিটিংকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। মরিস বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছেন’।

এছাড়া উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির পিপিএস মেলানি ওয়ার্ড, ক্যাবিনেট অফিস মন্ত্রী ড্যারেন জোনসের পিপিএস নওশাবাহ খান এবং পরিবেশমন্ত্রী এমা রেনল্ডসের পিপিএস টম রুটল্যান্ডও পদত্যাগ করেন। আরও দুজন স্টারমারের সরে যাওয়ার সময়সূচি ঘোষণার দাবিতে যোগ দিয়েছেন। তারা হলেন পেনশনমন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেনের পিপিএস গর্ডন ম্যাকি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের পিপিএস স্যালি জেমসন।

এর আগে দেয়া এক বক্তব্যে স্টারমার বলেন, তিনি ‘সন্দেহবাদীদের ভুল প্রমাণ করবেন’ এবং পদত্যাগ করবেন না। তিনি অবশ্য স্বীকার করেন, সরকার ভুল করেছে। তবে তার দাবি, তিনি ‘বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো সঠিকভাবে নিয়েছেন’।

কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তার পদত্যাগের চাপ আরও বেড়েছে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের সমর্থকেরাও স্টারমারের পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবি তুলেছেন। দলের ডানপন্থি অংশ থেকেও দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তনের আহ্বান এসেছে। এর মধ্যে ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠরাও রয়েছেন। তারা চাইছেন এমন দ্রুত পরিবর্তন, যাতে বার্নহাম নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন।

বিবিসি বলছে, ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর হারানোর পর থেকেই স্টারমারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। একইসঙ্গে রিফর্ম ইউকের উত্থান এবং লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে গ্রিন পার্টির সমর্থন বৃদ্ধি লেবারের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া ওয়েলসেও শতবর্ষের রাজনৈতিক প্রভাব হারিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে লেবার। স্কটিশ পার্লামেন্টের ১২৯ আসনের মধ্যে দলটি মাত্র ১৭টি আসন পেয়েছে। এটি হলিরুড নির্বাচনে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফল।

জো মরিস এক বিবৃতিতে বলেন, লেবার কাউন্সিলর ও প্রার্থীদের এমন সিদ্ধান্তের দায় নিতে হয়েছে, যা তাদের ছিল না। হেক্সহ্যামের এই এমপি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ভোটাররা বিশ্বাস করছেন না যে তিনি সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারবেন, যার জন্য তারা ভোট দিয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশ ও দলের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত (পদত্যাগের) সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে, যাতে নতুন নেতা এসে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেন।’

ইস্ট ওয়ার্দিং অ্যান্ড শোরহামের এমপি টম রুটল্যান্ড বলেন, ‘আমার কাছে পরিষ্কার, প্রধানমন্ত্রী শুধু পার্লামেন্টারি লেবার পার্টির মধ্যেই নয়, পুরো দেশেই কর্তৃত্ব হারিয়েছেন এবং তিনি তা আর ফিরে পাবেন না।’

গিলিংহ্যাম অ্যান্ড রেইনহামের এমপি নওশাবাহ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘জনগণের আস্থা হারিয়েছেন’। তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতিতে এসেছি ব্যর্থতা চুপচাপ দেখে যাওয়ার জন্য নয়। এখনই পরিষ্কার দিক পরিবর্তন দরকার, কোনও রাজনৈতিক খেলা নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নতুন নেতৃত্ব চাই, যাতে আমরা জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করতে পারি এবং ব্রিটিশ জনগণ যে ভালো ভবিষ্যতের জন্য ভোট দিয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে পারি।’

মূলত পিপিএস পদটি বেতনহীন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করেন তারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের পিপিএস স্যালি জেমসন বলেন, স্টারমারের উচিত ‘সেপ্টেম্বর বা তার কিছু পরের মধ্যে সরে যাওয়ার স্পষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা।’

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার