বিজ্ঞাপন
দর্জির মেয়ের ইতিহাস গড়া সাফল্য, এমবিবিএসে পেলেন ১৭ স্বর্ণপদক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
অভাব আর সংগ্রামকে সঙ্গী করেই বড় হয়েছেন পাকিস্তানের হরিপুরের মেয়ে কান্দিল মুর্তজা। দর্জি বাবার সীমিত আয়ে চলা পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি এখন সৃষ্টি করেছেন অনন্য ইতিহাস। পাকিস্তানের খাইবার গার্লস মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস প্রোগ্রামে রেকর্ডসংখ্যক ১৭টি স্বর্ণপদক অর্জন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কান্দিলের অসাধারণ একাডেমিক কৃতিত্বে মুগ্ধ হয়ে যায় পুরো মিলনায়তন। একের পর এক স্বর্ণপদক যখন তার গলায় পরানো হচ্ছিল, তখন উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে অতিথিরা কান্দিলের হাতে পদক তুলে দিচ্ছেন এবং পাশে দাঁড়িয়ে আছেন তার গর্বিত বাবা। দীর্ঘদিন সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালানো সেই বাবার চোখে তখন আনন্দের অশ্রু।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে এর আগে কোনো শিক্ষার্থী এত সংখ্যক স্বর্ণপদক অর্জন করতে পারেননি। একই অনুষ্ঠানে আরও কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে মুকাদ্দাস পেয়েছেন ১০টি এবং সাবিহ অর্জন করেছেন ৭টি স্বর্ণপদক।
গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কান্দিলের বাবা জানান, তাদের পরিবারে শিক্ষার প্রতি সবসময় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কান্দিলের এক বোন বর্তমানে খাইবার মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত। আরেক বোন ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) তে গ্রেড-১৭ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। এছাড়া পরিবারের আরেক সদস্য পিএইচডি সম্পন্ন করে ইসলামাবাদে চাকরি করছেন এবং একমাত্র ভাই একজন গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার।
কান্দিল মুর্তজার এই অর্জন ইতোমধ্যেই অনলাইন জগতে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই এটিকে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এক সংগ্রামী পরিবারের স্বপ্নপূরণের গল্প হিসেবে দেখছেন।