বিজ্ঞাপন
যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থা ‘সেকেলে’, বড় পরিবর্তন আনার ঘোষণা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাজ্য সরকার তাদের অভিবাসন ও আশ্রয় ব্যবস্থাকে ‘সেকেলে’ ও ‘আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অপ্রতুল’ আখ্যা দিয়ে সেই ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের পথে হাঁটছে। গত কয়েক বছরে রেকর্ড সংখ্যক আশ্রয় আবেদন ও ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পারাপারের ঘটনা সরকারকে এই বড় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় দাবি করেছেন চার লাখেরও বেশি মানুষ। যদিও অবৈধ অভিবাসী ও বিদেশি অপরাধীদের বহিষ্কার ও নির্বাসন গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তথাপি সীমান্তে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আরও কঠোর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
সরকারের ঘোষিত নতুন নীতি অনুযায়ী, ‘পুল ফ্যাক্টর’ বা টানাপড়নের কারণগুলো দূর করার ওপর জোর দেওয়া হবে। অভিযোগ, যুক্তরাজ্যের ‘অতিমাত্রায় উদার’ আশ্রয় ব্যবস্থাই মানুষকে ছোট নৌকায় বিপজ্জনক যাত্রায় উৎসাহিত করছে। এই প্রেক্ষাপটে, ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের (ইসিএইচআর) অপব্যবহার বন্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে সরকার। তাদের লক্ষ্য, যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার নেই—এমন ব্যক্তিদের বহিষ্কার প্রক্রিয়া যাতে মানবাধিকার আইনের আড়ালে বিলম্বিত না হয়, তা নিশ্চিত করা।
সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, “যুক্তরাজ্য একটি উন্মুক্ত, সহনশীল ও উদার জাতি, যা সত্যিকারের আশ্রয়প্রার্থীদের থেকে পিঠ ফিরিয়ে নেবে না। কিন্তু সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা এবং প্রমাণ করা যে ব্যবস্থাটি প্রতারিত হচ্ছে না—সেই মূল্যবোধগুলোর প্রতিই আস্থা বজায় রাখার জন্য এটি অপরিহার্য।”
এই লক্ষ্যে আগামী দিনে সংসদে উত্থাপিত হতে যাওয়া ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিল’-কে (অভিবাসন ও আশ্রয় বিল) যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে সরকার। এই বিলের মাধ্যমে একটি ‘কঠোর কিন্তু ন্যায্য’ আশ্রয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বলে জানানো হয়েছে, যা যুক্তরাজ্যের জন্য কার্যকর হবে এবং সর্বোপরি ব্রিটিশ জনগণের প্রতি ন্যায্যতা ও সুবিচার নিশ্চিত করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন আইন আগামী বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি ও মানবাধিকার প্রথার মধ্যে ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার সুরক্ষায় যেন কোনো আপোস না করা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।