কারাগারে ইমরান খানের মৃত্যু বিতর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পিটিআই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১১:২১ পিএম
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্নে কম জলঘোলা হচ্ছে না। কারাবন্দি জনপ্রিয় এ নেতাকে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে, আফগানিস্তানের কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেইজ থেকে এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই পাকিস্তান জুড়ে বিরাজ করছে তীব্র উত্তেজনা। সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে, ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তার বোনদের হেনস্তার শিকার হওয়ার পর থেকে।
যদিও পরবর্তীতে কারা কর্তৃপক্ষ ও পাকিস্তান সরকার একাধিকবার দাবি করেছে যে ইমরান খান বেঁচে আছেন এবং রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারেই আছেন, তবুও বিষয়টি নিয়ে চলমান বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে তার ছোট ছেলে কাসিম খানের এক বক্তব্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কাসিম খান লিখেছেন, গত এক মাস ধরে তার বাবা ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না পরিবারের সদস্যদেরকে। এমনকি ইমরান খানের বেঁচে থাকার কোনও প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে খোদ ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই), যেখানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) পিটিআই দলীয় সিনেটর খুররম জিশান বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী জীবিত আছেন এবং বর্তমানে আদিয়ালা কারাগারেই আটক আছেন। তবে, তাকে লোকচক্ষুর আড়ালে অজানা কোনও দেশে স্থানান্তর করতে চাইছে পাকিস্তান সরকার।
রোববার (৩০ নভেম্বর) ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন খুররম জিশান।
পিটিআইয়ের এ নেতা বলেছেন, পাকিস্তান ছাড়তে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে ইমরান খানকে কারাগারের ভেতরে নির্জন কক্ষে রাখা হয়েছে। কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না তাকে।
খুররম জিশান বলেছেন, ইমরান খানের জনপ্রিয়তা নিয়েই মূলত ভয় পাচ্ছে সরকার। এ কারণেই তার কোনও ছবি কিংবা ভিডিও প্রকাশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেছেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রায় এক মাস ধরে তাকে একা রাখা হয়েছে এবং তার পরিবার, আইনজীবী, এমনকি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের জ্যেষ্ঠ নেতাদেরও তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এটি সম্পূর্ণ মানবাধিকার লঙ্ঘন। মনে হচ্ছে তারা তাকে কিছু করতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে।
জিশান বলেন, গত কয়েক দিনে আমাদের নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ইমরান খান জীবিত এবং বর্তমানে আদিয়ালা কারাগারে আটক আছেন। তিনি সুস্থ আছেন।
পাকিস্তান সরকার প্রকৃতপক্ষে ইমরান খানের সঙ্গে কোন ধরনের সমঝোতা করতে চাইছে; এমন প্রশ্নের জবাবে পিটিআই দলীয় এই সিনেটর বলেন, তারা ইমরান খানের সঙ্গে একটি সমঝোতা করতে চাইছে, তাকে দেশ ছাড়তে বলছে। এমনকি তারা তাকে ছাড়ও দেবে; যদি তিনি বিদেশে গিয়ে তার পছন্দের কোনো জায়গায় নীরব থাকেন। কিন্তু ইমরান খান কখনোই তাতে রাজি হবেন না। তিনি যে ধরনের নেতা, তিনি কখনোই এটি মেনে নেবেন না।
কারাগারে বন্দি থাকলেও পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর প্রভাব বাড়ছে বলে এসময় মন্তব্য করেন জিশান। তিনি বলেন, পাকিস্তানের তরুণদের মধ্যে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শক্ত অবস্থান রয়েছে এবং তার ভাবধারা ইতোমধ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্মে সাড়া ফেলতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, পিটিআইয়ের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। এমন পরিস্থিতি মানুষের সেরাটাই বের করে আনে। যারা সত্যিই এসব মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন, তারা সামনে আসছেন। ইমরান খানের কারাবাসের পর থেকে তার কোনও ছবি প্রকাশ না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে জিশান বলেন, পাকিস্তানের বর্তমান ক্ষমতাসীনরা ভয় পাচ্ছে—একটি সামান্য ছবিও জনসমর্থন গণজাগরণ সৃষ্টি করতে পারে।