Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার: রমজানে গুনাহ মাফের সেরা অস্ত্র

Icon

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০২ পিএম

সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার: রমজানে গুনাহ মাফের সেরা অস্ত্র

বিজ্ঞাপন

রমজান মাস হলো গুনাহ মাফ, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়। এই মাসে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য রহমতের দরজা খুলে দেন এবং সামান্য আমলেও অসীম সওয়াব দান করেন। রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ইস্তেগফার, অর্থাৎ আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

ইস্তেগফারের মধ্যে যে দোয়াটিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন, সেটিই হলো সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার। রমজানে গুনাহ মাফের জন্য এই দোয়াটি একজন মুমিনের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার শব্দটির অর্থ হলো ‘ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে এই দোয়াটিকে ইস্তেগফারের নেতা বা প্রধান বলে আখ্যায়িত করেছেন। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত এক হাদিসে নবীজি বলেছেন, “ইস্তেগফারের মধ্যে সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার হলো

এই দোয়া— যে ব্যক্তি দিনে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে এটি পড়ে এবং সেই দিন মারা যায়, সে জান্নাতি হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে এটি পড়ে এবং সেই রাতে মারা যায়, সেও জান্নাতি হবে।” এই হাদিস থেকেই বোঝা যায়, এই দোয়ার ফজিলত কতটা মহান।

সাইয়্যেদুল ইস্তেগফারের দোয়াটি হলো, “আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা, খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাতা‘তু, আউযু বিকা মিন শার্রি মা সানাতু, আবু-উ লাকা বিনি‘মাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবু-উ বিজাম্বি, ফাগফির লি, ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।”

এই দোয়াটির অর্থ গভীর ও হৃদয়স্পর্শী। এতে বান্দা প্রথমে আল্লাহর তাওহিদ স্বীকার করে, নিজের দাসত্ব মেনে নেয়, আল্লাহর নেয়ামতের স্বীকৃতি দেয় এবং নিজের গুনাহ অকপটে স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

রমজানের সঙ্গে সাইয়্যেদুল ইস্তেগফারের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। কারণ রোজার মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন, আর তাকওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো গুনাহ। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন।”

রমজানে যখন একজন রোজাদার সারাদিন নিজেকে হালাল-হারাম থেকে সংযত রাখে, তখন এই দোয়ার মাধ্যমে সে আল্লাহর সামনে নিজের দুর্বলতা ও ভুলগুলো স্বীকার করে নেয়। এই বিনয়ই বান্দাকে আল্লাহর রহমতের সবচেয়ে কাছাকাছি নিয়ে যায়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে দিনে ও রাতে ইস্তেগফার করতেন, যদিও তিনি নিষ্পাপ ছিলেন। সহিহ বুখারি ও মুসলিমে এসেছে, নবীজি দিনে সত্তরের বেশি বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন। এটি উম্মতের জন্য একটি বড় শিক্ষা যে, গুনাহ না থাকলেও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া বান্দার মর্যাদা বাড়ায়। রমজানে এই আমল আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই মাসে শয়তান বন্দি থাকে এবং তাওবার পরিবেশ সহজ হয়ে যায়।

সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার পড়ার সবচেয়ে উত্তম সময় হলো সকাল ও সন্ধ্যা। সকালবেলা ফজরের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে এই দোয়া পড়লে হাদিসে বর্ণিত জান্নাতের সুসংবাদ প্রযোজ্য হয়। তবে রমজানে ইফতারের আগ মুহূর্ত, তাহাজ্জুদের সময় এবং শেষ রাতে এই দোয়া পড়লে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়। আলেমগণ বলেন, এই দোয়াটি শুধু মুখে পড়া নয়, বরং এর অর্থ বুঝে অন্তর থেকে পড়াই হলো আসল উদ্দেশ্য।

রমজানে অনেক মানুষ নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও দান-সদকা বেশি করেন, কিন্তু ইস্তেগফারকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দেন। অথচ গুনাহ মাফ ছাড়া কোনো আমলই পূর্ণতা পায় না। সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার সেই দোয়া, যা বান্দার আমলের ঘাটতি পূরণ করে এবং আল্লাহর রহমত টেনে আনে।

সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার রমজানে গুনাহ মাফের সবচেয়ে শক্তিশালী ও পরীক্ষিত দোয়া। এটি কেবল একটি দোয়া নয়, বরং একজন বান্দার পূর্ণ আত্মসমর্পণের ঘোষণা। রমজানের প্রতিটি দিনে ও রাতে যদি এই দোয়াটি নিয়মিত পড়া যায়,

তবে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ক্ষমা, রহমত ও জান্নাতের সুসংবাদ লাভের আশা করা যায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানে সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার