বিজ্ঞাপন
মসজিদে কুবা: যেভাবে নির্মাণ হয় ইসলামের প্রথম মসজিদ
ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০২ এএম
বিজ্ঞাপন
মক্কার তপ্ত বালুকারাশি পেছনে ফেলে ধুলোবালি মাখা শরীরে মদিনার উপকণ্ঠে এসে পৌঁছান হজরত মুহাম্মদ (সা.)। হৃদয়ে জন্মভূমি ত্যাগের ব্যথা। মনে ইসলামের বাণী পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে পৌঁছে দেওয়ার আশা। চেহারায় অকৃত্রিম সাহস। সূচনা হয় ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের। অবশেষে প্রিয় জন্মভূমি মক্কা ত্যাগের সেই বিচ্ছেদ-বেদনা আর মদিনার আনসারদের অপেক্ষারত চোখের জল একাকার হয়ে যায় কুবাপল্লিতে। হিজরতের সেই ক্লান্তিময় কিন্তু বরকতময় ক্ষণেই নির্মিত হয় ইসলামের প্রথম ইবাদতগাহ—মসজিদে কুবা।
মসজিদে কুবার নির্মাণ ইতিহাস
মক্কা থেকে ৩২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্বনবী (সা.) যখন কুবায় পৌঁছান, তখন তিনি সেখানে ১৪ দিন অবস্থান করেন। এই কুবা গ্রামটি ছিল বিখ্যাত একটি কূপকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জনপদ। সেখানেই বনু আমর ইবনে আওফ গোত্রের প্রধান হজরত কুলসুম ইবনুল হিদম (রা.)-এর খেজুর শুকানোর পতিত জমিতে এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। সাহাবিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নির্মাণকাজে অংশ নেন স্বয়ং নবীজি (সা.)।
পবিত্র কোরআনে কুবা মসজিদ
এই মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা সাক্ষ্য দিয়েছেন। সুরা তাওবার ১০৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যে মসজিদের ভিত্তি প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেখানেই আপনার নামাজের জন্য দাঁড়ানো অধিক সংগত। সেখানে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা পবিত্রতা পছন্দ করে; আর আল্লাহ পবিত্র ব্যক্তিদের ভালোবাসেন’।
কুবা মসজিদের ফজিলত
ইসলামের তিনটি প্রধান মসজিদ—মসজিদে হারাম, মসজিদে নববি ও মসজিদে আকসার পরেই মর্যাদার দিক থেকে মসজিদে কুবার স্থান। রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো সওয়ারিতে চড়ে আবার কখনো হেঁটে মদিনা থেকে কুবা মসজিদে আসতেন এবং সেখানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন। এই মসজিদের ফজিলত সম্পর্কে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মসজিদে কুবায় দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে, সে একটি ওমরার সমান সওয়াব পাবে। (জামে তিরমিজি: ৩২৪)
মসজিদে কুবার স্থাপত্যের বিবর্তন
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কুবা মসজিদের নকশা ও আয়তনে এসেছে আমূল পরিবর্তন। নববি যুগের পর এর প্রথম সংস্কার করেন ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান (রা.)। পরে ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) এখানে প্রথম মিনার ও বারান্দা নির্মাণ করেন। উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ ও সুলতান আবদুল মাজিদ এই মসজিদের সৌন্দর্য ও কাঠামোতে আভিজাত্যের ছাপ রেখে যান। এ ছাড়া ১৯৮৬ সালে বাদশাহ ফাহাদের আমলে ঐতিহাসিক এই মসজিদ আধুনিক রূপ পায়। বর্তমানে এর আয়তন সাড়ে ১৩ হাজার বর্গমিটার, যেখানে ২০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।
শ্বেতপাথরে মোড়া এই মসজিদটি মদিনার অন্যতম আকর্ষণ। এর রয়েছে ৪৭ মিটার লম্বা ৪টি সুউচ্চ মিনার এবং ছাদজুড়ে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৬২টি গম্বুজ। মাঝখানের খোলা আঙিনায় রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচতে রয়েছে ফাইবার গ্লাসের বৈদ্যুতিক ছাতা। উত্তর দিকে নারীদের জন্য রয়েছে আলাদা প্রবেশপথ ও নামাজের সুপরিসর জায়গা। এ ছাড়া মসজিদে কুবায় মুসল্লিদের জন্য রয়েছে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, বাণিজ্যিক এলাকা ও জমজম পানির ব্যবস্থা।
বর্তমানে মসজিদে নববি থেকে কুবা মসজিদে যাওয়ার জন্য একটি চমৎকার পথ বা ‘কুবা স্কয়ার’ তৈরি করা হয়েছে। অনেকে ৪৫ মিনিট হেঁটে এই পথে যাতায়াত করেন।
বিজ্ঞাপন