বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
নাপাক বা জানাবাত অবস্থা বলতে বোঝায়, যখন সহবাস, স্বপ্নদোষ বা বীর্যপাতের কারণে গোসল ফরজ হয়ে যায়।
এ অবস্থায় নামাজ পড়া, কুরআন স্পর্শ করা জায়েজ নয় যতক্ষণ না গোসল করা হয়। তবে প্রশ্ন হলো, এই অবস্থায় সেহরি খেলে রোজা হবে কি না?
রোজা শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো, ফজরের আগে নিয়ত থাকা এবং সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও রোজা ভঙ্গকারী কাজ থেকে বিরত থাকা।
শরিয়তে কোথাও বলা হয়নি যে রোজা রাখার সময় অবশ্যই পাক অবস্থায় থাকতে হবে।
রোজার শুদ্ধতা নির্ভর করে নিয়ত ও সময়ের ওপর, পবিত্র অবস্থার ওপর নয়।
হজরত আয়েশা (রা.) ও হজরত উম্মে সালামা (রা.) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সা.) ফজরের সময় জানাবাত অবস্থায় থাকতেন (স্ত্রী সহবাসের কারণে), তারপর গোসল করতেন এবং রোজা রাখতেন।” সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম
এই হাদিসটি খুবই স্পষ্ট প্রমাণ যে নাপাক অবস্থায় ফজর হয়ে গেলেও রোজা সহিহ হয়।
অর্থাৎ কেউ যদি জানাবাত অবস্থায় সেহরি খায় এবং ফজর হয়ে যায়, তারপর গোসল করে, তাহলে তার রোজা বাতিল হবে না।
আরেকটি হাদিসে এসেছে, “নবী (সা.) কখনো কখনো সুবহে সাদিকের পর গোসল করতেন, তারপর রোজা পূর্ণ করতেন।” সহিহ মুসলিম
এ থেকে বোঝা যায়, গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় সেহরি খাওয়া বা ফজর হওয়া রোজা নষ্ট করে না।
নাপাক অবস্থায় সেহরি খাওয়া জায়েজ। তবে এটি উত্তম নয়। কারণ একজন মুসলমানের উচিত যত দ্রুত সম্ভব ফরজ গোসল করে পাক হওয়া।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।” সহিহ মুসলিম
এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয়, পবিত্রতা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে গোসল বিলম্ব করা উচিত নয়, যদিও এতে রোজা বাতিল হয় না।
নাপাক অবস্থায় থাকা রোজা ভাঙার কারণ নয়। তবে যদি কেউ সেহরি খাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে ফজরের পর পর্যন্ত খাওয়া চালিয়ে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। কারণ এটি সময়ের সীমা লঙ্ঘন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা খাও ও পান কর, যতক্ষণ না ভোরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে পৃথক হয়ে যায়।” (সূরা বাকারা: ১৮৭)
এই আয়াত প্রমাণ করে, ফজরের আগ পর্যন্ত খাওয়া জায়েজ, কিন্তু ফজর হয়ে গেলে খাওয়া হারাম এবং রোজা ভঙ্গ হয়।
হায়েজ ও নেফাসের সাথে পার্থক্য
জানাবাত (স্বপ্নদোষ বা সহবাসজনিত নাপাক) অবস্থায় রোজা রাখা যায়। কিন্তু হায়েজ ও নেফাস অবস্থায় রোজা রাখা জায়েজ নয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মহিলারা হায়েজ অবস্থায় নামাজ পড়ে না এবং রোজা রাখে না।” সহিহ বুখারি
অতএব নাপাক অবস্থায় সেহরি খাওয়া জায়েজ হলেও, মাসিক বা নেফাস অবস্থায় সেহরি খেয়ে রোজা রাখার কোনো অনুমতি নেই।
সতর্কতা ও আদব যদিও রোজা সহিহ হয়, তবুও ইচ্ছাকৃতভাবে গোসল বিলম্ব করা ঠিক নয়। কারণ ফজরের নামাজ পড়ার জন্য পাক হওয়া ফরজ।
অনেক সময় মানুষ সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে এবং ফজরের নামাজ কাজা হয়ে যায় এটি বড় গুনাহ।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “নামাজ দ্বীনের স্তম্ভ।” তিরমিজি
রোজা রেখে যদি নামাজই আদায় না করা হয়, তাহলে রোজার পূর্ণ বরকত পাওয়া যায় না।
নাপাক অবস্থায় সেহরি খেলে রোজা ভেঙে যায় না এবং রোজা সহিহ হয়—এ কথা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তবে একজন মুমিনের উচিত পবিত্রতা বজায় রাখা এবং দ্রুত গোসল করে নামাজ ও ইবাদতের জন্য প্রস্তুত হওয়া।
রমজান শুধু উপবাসের মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও আনুগত্যের মাস। তাই রোজার পাশাপাশি নামাজ, পবিত্রতা ও সুন্নাহর প্রতি যত্নবান হওয়াই হলো প্রকৃত সফলতা
বিজ্ঞাপন