Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

রোজা রেখে স্বপ্নদোষ হলে গোসল কখন করতে হবে?

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম

রোজা রেখে স্বপ্নদোষ হলে গোসল কখন করতে হবে?

বিজ্ঞাপন

স্বপ্নদোষ মানুষের ইচ্ছা ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঘটে। তাই এতে কোনো গুনাহ নেই এবং রোজাও ভেঙে যায় না।

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, “নবী (সা.) ফজরের সময় জানাবত অবস্থায় থাকতেন (স্ত্রী সহবাস বা স্বপ্নদোষের কারণে), তারপর গোসল করতেন এবং রোজা পূর্ণ করতেন।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

এই হাদিস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে—স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙে না এবং রোজা সহিহ থাকে।

আরেক হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তিন ব্যক্তি দায়মুক্ত: ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না জাগে, শিশু যতক্ষণ না বালেগ হয় এবং পাগল যতক্ষণ না সুস্থ হয়।” (আবু দাউদ)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, ঘুমের মধ্যে যা ঘটে তার জন্য মানুষ দায়ী নয়। সুতরাং স্বপ্নদোষের কারণে রোজা নষ্ট হয় না।

গোসল কখন ফরজ হবে

স্বপ্নদোষ হলে মানুষ জানাবত অবস্থায় হয়ে যায়। তখন নামাজ আদায়ের জন্য গোসল ফরজ হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো - গোসল কখন করতে হবে?

শরিয়তের বিধান হলো, ফজরের নামাজের আগে গোসল করা উত্তম। তবে যদি কেউ ফজরের আগে না করে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব গোসল করে নামাজ আদায় করতে হবে।

গোসল দেরি করার কারণে রোজা ভাঙে না, কিন্তু নামাজ দেরি করলে গুনাহ হবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর যদি তোমরা অপবিত্র হও, তবে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করো।” (সূরা মায়িদা: ৬)

এই আয়াত জানাবত থেকে পবিত্র হওয়ার নির্দেশ দেয়, যা গোসলের মাধ্যমে পূর্ণ হয়। ফজরের পর গোসল করলে কি রোজা হবে

অনেকে মনে করেন, ফজরের পর গোসল করলে রোজা হবে না। এটি ভুল ধারণা।

হজরত আয়েশা (রা.) ও উম্মে সালামা (রা.) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনো কখনো ফজরের সময় জানাবত অবস্থায় থাকতেন, তারপর গোসল করে রোজা রাখতেন।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, ফজরের আগে গোসল না করলেও রোজা শুদ্ধ হয়, যদি সুবহে সাদিকের আগে নিয়ত থাকে।

তবে নামাজের জন্য গোসল বিলম্ব করা জায়েজ নয়। ফজরের নামাজ গোসল ছাড়া পড়া যাবে না। তাই ঘুম থেকে উঠেই যত দ্রুত সম্ভব গোসল করা ওয়াজিব।

গোসল দেরি করলে কি গুনাহ হবে ?

যদি কেউ অলসতা বা অবহেলার কারণে সূর্য ওঠা পর্যন্ত গোসল না করে এবং ফজরের নামাজ কাজা করে ফেলে, তাহলে সে গুনাহগার হবে। কারণ নামাজ সময়মতো আদায় করা ফরজ।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “নামাজ দ্বীনের খুঁটি।” (তিরমিজি)

নামাজ দেরি করা বা ছেড়ে দেওয়া বড় গুনাহ। তাই স্বপ্নদোষ হলে দ্রুত গোসল করে নামাজ আদায় করা জরুরি।

স্বপ্নদোষ আর ইচ্ছাকৃত বীর্যপাত এক নয়। স্বপ্নদোষ যা ইচ্ছার বাইরে ঘটে। রোজা ভাঙে না। কাজা বা কাফফারা নেই।

ইচ্ছাকৃত বীর্যপাত (হস্তমৈথুন বা চুমু-আলিঙ্গনের কারণে) রোজা ভেঙে যায় কাজা ওয়াজিব হয় এটি গুনাহের কাজ

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ আমার উম্মতের ভুল, ভুলে যাওয়া এবং বাধ্য হয়ে করা কাজ ক্ষমা করেছেন।” (ইবন মাজাহ)

এই হাদিস স্বপ্নদোষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কারণ তা অনিচ্ছাকৃত।

রোজার আদব ও আত্মসংযম

রোজা শুধু খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকার নাম নয়, বরং চোখ, চিন্তা ও কল্পনাকেও সংযত রাখা রোজার শিক্ষা।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “রোজা ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ রোজা রাখলে সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং কামনামূলক কাজে লিপ্ত না হয়।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

তাই ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজক চিন্তা, ভিডিও বা কাজ থেকে দূরে থাকা জরুরি, যাতে স্বপ্নদোষের সম্ভাবনাও কমে।

রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হওয়া স্বাভাবিক ও অনিচ্ছাকৃত বিষয়। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

তবে জানাবত অবস্থা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য যত দ্রুত সম্ভব গোসল করা ফরজ, যাতে নামাজ আদায় করা যায়।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস প্রমাণ করে যে ফজরের পর গোসল করলেও রোজা শুদ্ধ থাকে।

তাই ভয় বা সন্দেহ না করে, শরিয়তের বিধান অনুযায়ী গোসল করে নামাজ আদায় করতে হবে এবং রোজা পূর্ণ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার