বিজ্ঞাপন
রোজা রেখে মাইগ্রেন বা তীব্র মাথাব্যথা হলে করণীয় কী
ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
রমজান মাসে অনেক মানুষ রোজা রাখার সময় মাইগ্রেন বা তীব্র মাথাব্যথায় ভোগেন। বিশেষ করে যারা প্রি-এক্সিস্টিং হেলথ প্রোবলেম যেমন উচ্চ রক্তচাপ, চোখের সমস্যা বা মাথাব্যথার ইতিহাস আছে, তাদের জন্য এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামী শরিয়তের হাদিস ও ফিকহের আলোকে, রোজা রেখে মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের সময় করণীয় কী তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. রোজা রাখা vs রোজা ভাঙা
মাইগ্রেন বা মাথাব্যথা সাধারণত রোজা ভাঙার জন্য পর্যাপ্ত কারণ নয়। হাদিসে এসেছে,
“যে ব্যক্তি অসুস্থ বা ভ্রমণে থাকে, সে পরে রোজা পূরণ করতে পারবে।” (সূরা বাকারাহ: ১৮৪)
তবে যদি মাথাব্যথা এত তীব্র হয় যে শারীরিক দুর্বলতা, অসুস্থতা বা বমি প্রবণতা সৃষ্টি করে, তখন শরিয়ত অনুযায়ী রোজা ভাঙা জায়েজ।
২. স্বল্প ব্যথা হলে ধৈর্য ধারণ
মৃদু বা মধ্যম ধরনের মাথাব্যথা থাকলেও রোজা রাখাটা উত্তম। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“রোজা শুধুমাত্র খাদ্য ও পানির ত্যাগ নয়; এটি নফস ও কামনা নিয়ন্ত্রণও।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
এটি দেখায়, রোজা মানসিক ও শারীরিক ধৈর্যও শেখায়।
৩. হালকা ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়
সেহরিতে পর্যাপ্ত পানি পান: Dehydration মাইগ্রেন বাড়ায়।
হালকা খাবার খাওয়া: অতিরিক্ত তেল, মশলা বা চিনি কমানো।
হালকা ঘুম বা বিশ্রাম: মাথাব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
স্নিগ্ধ তেল বা ঠান্ডা কাপড় ব্যবহার: মাথার দিকে ঠান্ডা কাপড় বা হালকা তেল ম্যাসাজ উত্তম।
৪. ওষুধ গ্রহণের নিয়ম
শরিয়তের দৃষ্টিতে, যদি ব্যথা সহ্য করা না যায় এবং রোজাদারের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়,তাহলে রোজা ভেঙে ওষুধ গ্রহণ করা যায়। হাদিসে এসেছে,
“যদি কেউ অসুস্থ থাকে, সে পরে রোজা পূরণ করতে পারবে।” (সূরা বাকারাহ: ১৮৪)
এখানে চিকিৎসার জন্য ওষুধ গ্রহণ বৈধ এবং রোজা ভাঙলেও পরে কাজা রোজা রাখা যাবে।
৫. চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
তীব্র মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের জন্য রোজা রাখার আগে বা অবস্থার মধ্যেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এটি শরীরের ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে।
৬. মনোযোগ ও রোজার উদ্দেশ্য
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “রোজা শুধু পেট না খাওয়াই নয়, এটি জিহ্বা, চোখ, কান ও মন নিয়ন্ত্রণও।” (সহিহ মুসলিম)
অতএব, মাথাব্যথা থাকলেও আত্মসংযম বজায় রেখে, অপ্রয়োজনীয় কাজ বা মানসিক চাপ কমানো উচিত।
রমজানে মাইগ্রেন বা তীব্র মাথাব্যথা একটি স্বাভাবিক সমস্যা। হালকা ব্যথা সহ্য করলে রোজা রাখা উত্তম, তবে শরীরের ক্ষতি বা গুরুতর অসুস্থতা হলে রোজা ভাঙা জায়েজ।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, রোজা শুধু পেট না খাওয়ার বিষয় নয়, বরং আত্মসংযম ও স্বাস্থ্যরক্ষা সম্পর্কিত।
ঘরোয়া ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত পানি ও হালকা খাবারের মাধ্যমে অনেক সময় মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বিজ্ঞাপন