বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
রমজান মাসে রোজা রেখে দিনের বেলা ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—এতে কি রোজা ভেঙে যায়? শরিয়তের দৃষ্টিতে এর স্পষ্ট বিধান রয়েছে।
স্বপ্নদোষ হলে করণীয় কী?
রোজা রেখে কেউ যদি দিনের বেলা ঘুমের মধ্যে যৌন সম্পর্কের স্বপ্ন দেখে এবং বীর্যপাত হয়, অথবা কোনো স্বপ্ন মনে না থাকলেও ঘুম থেকে উঠে শরীর বা পোশাকে বীর্যের চিহ্ন দেখতে পায়—তাহলে অন্যান্য সময়ের মতোই তার ওপর গোসল ফরজ হবে। যত দ্রুত সম্ভব পবিত্রতার জন্য গোসল করে নেওয়া উচিত, বিশেষ করে নামাজ আদায়ের আগে।
এতে কি রোজা নষ্ট হয়?
না, রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভেঙে যায় না এবং রোজার কোনো ক্ষতিও হয় না। কারণ এটি মানুষের ইচ্ছা বা নিয়ন্ত্রণাধীন বিষয় নয়; বরং সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ও স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া।
প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে স্বপ্নদোষ হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। এটি বয়ঃসন্ধিকালে বেশি ঘটে, তবে পরবর্তী বয়সেও হতে পারে। এতে কোনো গুনাহ নেই, কেননা ঘুমন্ত অবস্থায় সংঘটিত বিষয়ের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
কুরআনের দলিল
আল্লাহ তাআলা বলেন—
لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَا
‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৮৬)
হাদিসের দলিল
উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ: عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ، وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَعْقِلَ، وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَحْتَلِمَ
‘তিন ব্যক্তির কাছ থেকে (গুনাহ লেখার) কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে—
১. ঘুমন্ত ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়;
২. মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে সুস্থ হয়;
৩. অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু, যতক্ষণ না সে বালেগ হয়।’ (আবু দাউদ ৪৪০৩)
সংক্ষেপে বিধান
> স্বপ্নদোষ হলে গোসল ফরজ।
> এতে রোজা ভাঙে না।
> এটি গুনাহ নয়, কারণ এটি অনিচ্ছাকৃত।
অতএব, রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই; বরং দ্রুত পবিত্র হয়ে ইবাদতে মনোনিবেশ করাই করণীয়।
বিজ্ঞাপন