Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

রোযাদারের জন্য রয়েছে যে ১০টি মর্যাদা

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

রোযাদারের জন্য রয়েছে যে ১০টি মর্যাদা

বিজ্ঞাপন

বছরের ১২ মাসের মধ্যে মাহে রমজানের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা অতুলনীয়। মুমিনের কাছে রমজান মানেই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এক বিশেষ সুযোগ। হাদিস শরিফে সিয়াম বা রোজা পালনকারীদের জন্য এমন কিছু বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা অন্য কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না।

রোযাদারের সকল গুনাহ আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেন। (مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ) যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব হাসিলের আশায় রমযানে সিয়াম পালন করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (বুখারী : ৩৮; মুসলিম : ৭৬৯)

রোযার প্রতিদান আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে দেন। كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ (إِلاَّ الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِيْ وَأَنَا أَجْزِي بِهِ ‘‘মানব সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, কিন্তু সিয়ামের বিষয়টি ভিন্ন। কেননা সিয়াম শুধুমাত্র আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব। (মুসলিম : ১১৫১।

রোযার প্রতিদান হবে জান্নাত।  مَنْ صَامَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ ‌خُتِمَ ‌لَهُ ‌بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ، যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আশায় রোযা রাখে এবং সেটাই তার শেষ আমল হয় তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।  [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৩৩২৪, মাযমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-৩৯১৯।

রোযা কিয়ামাতের দিন সুপারিশ করবে। اَلصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَقُولُ الصِّيَامُ أَيْ رَبِّ مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ وَيَقُولُ الْقُرْآنُ مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ قَالَ فَيُشَفَّعَانِ সিয়াম ও কুরআন কিয়ামাতের দিন মানুষের জন্য এভাবে সুপারিশ করবে যে, সিয়াম বলবে হে আমার রব, আমি দিনের বেলায় তাকে (এ সিয়াম পালনকারীকে) পানাহার ও যৌনতা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবূল কর।

অনুরূপভাবে কুরআন বলবে, হে আমার রব, আমাকে অধ্যয়নরত থাকায় রাতের ঘুম থেকে আমি তাকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবূল কর। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবূল করা হবে। (আহমাদ : ২/১৭৪)

হাশরের মাঠে আল্লাহ তায়ালা  রোযাদারকে বিশেষ পানি পান করাবেন। اِنَّ اللهَ تبارَك وتعالى قَضَى على نَفْسه أَنَّه مَنْ أَعْطَشَ نَفْسَه له في يَوْمٍ صَائِفٍ، سَقَاهُ اللهُ يَوْمَ العَطَشِ আল্লাহ তায়ালা নিজের উপর আবশ্যককরে নিয়েছেন,যে ব্যক্তি তার সন্তুষ্টির জন্য গ্রীষ্মকালে (রোযার কারণে) পিপাসার্ত থেকেছে, তিনি তাকে তৃষ্ণার দিন  (কিয়ামতের দিন) পানি পান করাবেন।-মুসনাদে বাযযার ১০৩৯ মাজমাউয যাওয়াইদ ৫০৯৫

রোযাদারের মুখের গন্ধ মিশকের চেয়েও উত্তম। وَالَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِه لَخُلوفُ فَمِ الصائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيْحِ الْمِسْكِ সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন, রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধিময়।-সহীহ বুখারী,১৯০৪

রোযাদারের দুআ আল্লাহ  কবুল করেন।- إنَّ للصائمِ عند فِطْرِهِ دَعْوَةً ما تُرَدُّ ইফতারের সময় রোযাদার যখন দুআ করে, তখন তার দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (অর্থাৎ তার দুআ কবুল হয়)।-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১৭৫৩, 

রোযাদার ব্যক্তি রাইয়ান নামক দরজা দিয়ে জান্নাতে যাবে। إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَقُومُونَ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে। যার নাম রাইয়্যান। কিয়ামতের দিন শুধু সিয়ামপালনকারীরা ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। সেদিন ঘোষণা করা হবে, সিয়াম পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করার জন্য। তারা প্রবেশ করার পর ঐ দরজাটি বন্ধ করে দেয়া হবে। ফলে তারা ব্যতীত অন্য কেউ আর সেই দরজা দিয়ে জান্নাতে ঢুকতে পারবেনা। (বুখারী : ১৮৯৬; মুসলিম : ১১৫২)

রোযাদার ব্যক্তি  জান্নাতে আল্লাহর দীদার লাভ করবে। لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ সিয়াম পালনকারীর জন্য দু’টো বিশেষ আনন্দ মুহূর্ত রয়েছে : একটি হল ইফতারের সময়, আর দ্বিতীয়টি হল তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। (বুখারী : ৭৪৯২; মুসলিম : ১১৫১)

রোযাদারের জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। বুখারী ১৭৭৭।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার