বিজ্ঞাপন
সময় আছে মনে করে ফজরে সেহরি খেলে রোজা কি হবে?
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
রমজান মাসে সেহরির সময় নির্ধারণে সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কখনো অসাবধানতা বা ভুল ধারণার কারণে কেউ সেহরি খেয়ে নিতে পারেন এই ভেবে যে এখনো ফজরের সময় শুরু হয়নি। পরে যদি দেখা যায়, সেহরি খাওয়ার আগেই সুবহে সাদিক হয়ে গেছে— তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, ওই দিনের রোজার বিধান কী হবে? কাজা বা কাফফারা কোনটি ওয়াজিব হবে এবং দিনের বাকি সময় কীভাবে কাটাতে হবে— এ বিষয়ে ফিকহশাস্ত্রে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
রমজান মাসে কেউ যদি এ মনে করে সাহরি খেয়ে নেয় যে এখনো ফজরের সময় হয়নি, পরে জানতে পারে ফজরের সময় আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল, তাহলে তার রোজার হুকুম সম্পর্কে শরিয়তের বিধান হলো— এ অবস্থায় তার ওপর শুধু ওই দিনের রোজার কাজা ওয়াজিব হবে, কাফফারা ওয়াজিব হবে না।
অর্থাৎ, যদি কেউ এ ধারণা করে সাহরি খেয়ে নেয় যে এখনো সুবহে সাদিক হয়নি, পরে সময় দেখে নিশ্চিত হয় যে খাওয়ার আগেই ফজরের সময় শুরু হয়ে গিয়েছিল, তাহলে ওই দিনের রোজা আদায় হবে না। পরবর্তীতে তাকে সেই রোজার কাজা আদায় করতে হবে, তবে কাফফারা দিতে হবে না।
তবে এ অবস্থায় ওই ব্যক্তির জন্য দিনের বাকি সময় রোজাদারের মতো পানাহার ও অন্যান্য রোজা ভঙ্গকারী কাজ থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব।
শরঈ দলিল
«وكذا من وجب عليه الصوم في أول النهار لوجود سبب الوجوب والأهلية ثم تعذر عليه المضي فيه بأن أفطر متعمدا أو أصبح يوم الشك مفطرا ثم تبين أنه من رمضان أو تسحر على ظن أن الفجر لم يطلع ثم تبين أنه طالع فإنه يجب عليه الإمساك في بقية اليوم تشبها بالصائمين» الفتاویٰ الهندیة (১/২১৪–২১৫)
অর্থ: ‘যার ওপর দিনের শুরুতে রোজা ফরজ হয়েছে এবং সে রোজা রাখার উপযুক্ত ছিল, কিন্তু পরে কোনো কারণে সে রোজা চালিয়ে যেতে পারেনি— যেমন ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙেছে, অথবা সন্দেহের দিনে না খেয়ে পরে জানা গেল তা রমজানের দিন ছিল, অথবা ফজর হয়নি মনে করে সেহরি খেয়ে পরে জানা গেল ফজর হয়ে গেছে— তাহলে তার জন্য দিনের বাকি সময় রোজাদারদের মতো বিরত থাকা ওয়াজিব।’ (আল-ফাতাওয়া আল হিন্দিয়া ১/২১৪–২১৫)
«(قوله أو تسحر) أي يجب عليه القضاء دون الكفارة لأن الجناية قاصرة وهي جناية عدم التثبت لا جناية الإفطار لأنه لم يقصده» رد المحتار (২/৪০৫)
‘ফজর হয়নি মনে করে সেহরি খেলে তার ওপর কাফফারা নয়, শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। কারণ এখানে অপরাধটি সীমিত পর্যায়ের— এটি যাচাই-বাছাই না করার ভুল, ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গ করার অপরাধ নয়।’ (রদ্দুল মুহতার ২/৪০৫, নাজমুল ফাতাওয়া ৩/১৮৭)
সেহরির সময় ভুল হওয়ার কারণে ফজরের পর খাওয়া হয়ে গেলে রোজা আদায় হবে না, তবে কাফফারা দিতে হবে না— শুধু কাজা করতে হবে। পাশাপাশি দিনের বাকি সময় রোজাদারের মতো পানাহার থেকে বিরত থাকা জরুরি। তাই রোজার সময়সূচি নির্ধারণে সতর্ক থাকা উত্তম, যাতে এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
বিজ্ঞাপন