বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
রমজান মাসে রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং দৃষ্টি, চিন্তা ও আচরণকেও সংযত রাখা রোজার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেকেই জানতে চান—রোজা রেখে হস্তমৈথুন, স্বপ্নদোষ বা অশ্লীল চিন্তা ও দৃশ্য দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজার ওপর কী প্রভাব পড়ে। ইসলামি শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে বিধান নিচে তুলে ধরা হলো।
হস্তমৈথুন করলে রোজার বিধান
রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তমৈথুন করে বীর্যপাত ঘটালে রোজা ভেঙে যায়। এ ক্ষেত্রে রমজানের পর ওই রোজার কাজা আদায় করতে হবে, তবে কাফফারা দিতে হবে না।
স্বপ্নদোষ হলে রোজার বিধান
রোজা অবস্থায় ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্নে যৌন কর্মকাণ্ড দেখার ফলে বীর্যপাত হলে, অথবা কোনো স্বপ্নের কথা মনে না থাকলেও ঘুমের মধ্যে বীর্যপাত ঘটলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ এটি অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটে থাকে।
অশ্লীল চিন্তা বা দৃশ্য দেখলে বীর্যপাত
রোজা অবস্থায় অশ্লীল দৃশ্য দেখা বা অশ্লীল চিন্তা করার পাশাপাশি যদি হস্তমৈথুন করা হয় এবং বীর্যপাত ঘটে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।
তবে শুধু অশ্লীল চিন্তা করা বা অশ্লীল দৃশ্য দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজা ভাঙবে না, যদিও এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে তাবেঈ আলেম হজরত জাবের ইবনে জায়েদ (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল— কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীর দিকে কামভাব নিয়ে তাকানোর ফলে যদি তার বীর্যপাত ঘটে, তাহলে তার রোজা ভেঙে যাবে কি না। তিনি বলেন, রোজা ভাঙবে না; সে তার রোজা পূর্ণ করবে।
سُئِلَ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ رَجُلٍ نَظَرَ إِلَى امْرَأَتِهِ فَأَمْنَى، قَالَ: يُتِمُّ صَوْمَهُ
‘হজরত জাবের ইবনে জায়েদকে জিজ্ঞাসা করা হলো—এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বীর্যপাত করেছে; তার রোজা কি ভেঙে গেছে? তিনি বললেন, না; সে তার রোজা পূর্ণ করবে।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬২৫৯)
কুরআনের নির্দেশনা
রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন ও আত্মসংযম। আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর—যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৩)
যেসব কাজ সাধারণ অবস্থায়ই গুনাহ, রোজা অবস্থায় সেগুলো আরও গুরুতর পাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই রোজার পূর্ণ সওয়াব অর্জনের জন্য দৃষ্টি, চিন্তা ও আচরণকে পবিত্র রাখা এবং এসব অনুচিত কাজ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক রোজাদারের জন্য অপরিহার্য।
বিজ্ঞাপন