Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

ইসলাম

রমজানে সফর করলে রোজা রাখতে হবে?

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৫ পিএম

রমজানে সফর করলে রোজা রাখতে হবে?

বিজ্ঞাপন

সফরকারী, ভ্রমণকারী, পর্যটক ইত্যাদি শব্দের ইসলামি পরিভাষা হলো : মুসাফির।

আল্লাহ তায়ালা বলেন : ‘আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সেই সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ চান এবং কঠিন চান না।’ (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৫)

এ-আয়াত প্রমাণ করে, মুসাফিরের জন্য রমজানের রোজা ভঙ্গের অনুমতি আছে। তাকে পরবর্তী সময়ে সে-পরিমাণ কাজা আদায় করতে হবে। তবে তিনি যদি রোজা রাখেন, তাহলে তার রোজা হয়ে যাবে। (ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪০৩)

রাসুল সা. রমজানে সফর করতেন; সফরে তিনি কখনো কখনো রোজা পালন করতেন, কখনো ত্যাগ করতেন; এবং পানাহার করতেন, অন্যদেরও আদেশ দিতেন রোজা ভঙ্গের।

ইবনে আব্বাস রা. হতে তাউস বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) রমজানে রোজা অবস্থায় সফরে বের হলেন, পথে উসফান নামক এলাকায় পৌঁছে পানপাত্র আনার নির্দেশ দিলেন। লোকদের দেখানোর জন্য তিনি প্রকাশ্যেই পানি পান করলেন। মক্কায় পৌঁছা অবধি তিনি পানাহার বজায় রাখলেন। 

ইবনে আব্বাস বলতেন : রাসুল সা. রমজানে সফররত অবস্থায় রোজা পালন করেছেন এবং ভঙ্গ করেছেন। সুতরাং যার ইচ্ছা রোজা রাখবে, যার ইচ্ছা ভঙ্গ করবে। (বোখারি, হাদিস ৪২৮৯)

রমজানের সফরে রাসুল সা.-এর রোজা রাখা এবং ভঙ্গ করার বিষয়ে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে,যদি কষ্টের সম্ভাবনা না থাকে,রোজা ভাঙ্গার মতো কিছু না ঘটে,তবে রোজা রাখাই উত্তম। (রদ্দুল মুহতার ২/৪২১)

কারণ, রাসুল (সা.) এমনই করেছেন। আবু দারদা বলেন : প্রচণ্ড তাপে আমরা রসূলের সাথে রমজানে সফরে বের হলাম,এমনকি আমাদের কেউ কেউ অধিক তাপের ফলে মাথায় হাত দিচ্ছিল। রাসুল সা. ও আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা ব্যতীত আমাদের মাঝে কেউ রোজাদার ছিলেন না। (মুসলিম, হাদিস ১১২২)

হাদিসটি প্রমাণ করে,সম্ভব হলে রোজা পালনই উত্তম। এর মাধ্যমে বান্দা দ্রুত দায়-মুক্ত হবে,রোজা পালন করতে পারবে সঠিক সময়ে,সকলের সঙ্গে একই সময়ে রোজা রাখার ফলে বিষয়টি তার জন্য সহজ হবে। 

তবে, রোজা ভাঙ্গার মতো যদি কোনও কারণ থাকে, তবে রোজা না রাখাই উত্তম। রাসুল সা. এরশাদ করেন : আল্লাহ পছন্দ করেন তার প্রদত্ত রুখসত যাপন করা,যেমন অপছন্দ করেন তার পাপে লিপ্ত হওয়া। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস ৫৮৬৬)

যখন সফরে রোজা না-রাখা বাধ্যতামূলক

যদি রোজা পালন খুবই কঠিন হয়ে পড়ে এবং পানাহার আবশ্যক হয়,তবে পানাহার বাধ্যতামূলক। কেননা,আল্লাহ তায়ালা যেমন কারও ওপর বিধান চাপিয়ে দেন না, তেমনি নিজের ওপর জবরদস্তিমূলক কোনো বিধান বানিয়ে নেয়াও বৈধ নয়। কঠিন অবস্থায় রোজা পালনকারীকে লক্ষ্য করে রাসুল সা. বলেছিলেন : এরা পাপী,এরা পাপী। (মুসলিম, হাদিস ১১১৪)

এক ব্যক্তি এমন কঠিন দু:সাধ্য সময়ে রোজা রেখেছিলো। একদল লোক তাকে ঘিরে ছিলো এবং ছায়া দিচ্ছিলো। রাসুল সা. তা দেখে বললেন :  (এভাবে) সফরে রোজা পালন কোনো পুণ্যের কাজ নয়। (আবু দাউদ, হাদিস ২৪০৭)

একইভাবে জিহাদের সফরে যদি কঠিন শত্রুর মুখোমুখী হতে হয় এবং শক্তিমত্তা প্রদর্শনের বিকল্প না থাকে,যখন রোজা রাখলে দুর্বল হয়ে পড়ার সমূহ আশঙ্কা থাকে,তখন রোজা রাখা কিছুতেই সঙ্গত নয়। 

একদল আলেম বলেছেন : এ-সময় রোজা রাখা হারাম। তবে সকলে একমত যে,রোজা রাখলে তা শুদ্ধ হয়ে যাবে এবং পুনরায় কাজা করতে হবে না—তবে গুনাহগার হবে। 

কখন মুসাফির বলে গণ্য হবে

সফরের দূরত্ব ৪৮ মাইল বা ৭২ কিলোমিটার। পূর্বেকার যুগে মানুষ পায়ে হেঁটে অথবা উটের পিঠে চড়ে স্বাভাবিক গতিতে চললে তিনদিনে ৭২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারত। তাই ৭২ কিলোমিটার পথ অতিক্রমের উদ্দেশ্যে যাত্রাকারী মুসাফির হয়ে যায়।

এ ক্ষেত্রে হঠাৎ সফর করা এবং যারা সবসময় সফরে থাকে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। রুখসত সকলের ক্ষেত্রেই সমান। যেমন গাড়ী চালক সে এক দেশ থেকে অন্য দেশে সব সময় সফরে থাকে। স্বভাবিকভাবেই সে সব সময় মুসাফির থাকবে এবং তার জন্য রোজা না রাখাই উত্তম। যখন সে মুকিম হবে তখন রোজা রাখবে। মুসাফির রোজার দিনে বাড়িতে ফিরে আসলে তাকে দিনের বাকি অংশ না খেয়ে থাকতে হবে এবং রোজা কাজা করবে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার